সংযুক্তির প্রতিবাদে ব্যাংক হরতাল! আজ দেশজুড়ে বিপর্যস্ত হতে চলেছে পরিষেবা

Bank strike 2019: ব্যাংকের সংযুক্তিকরণ এবং ব্যাংকিং সংস্কার এবং গ্রাহকদের জন্য উচ্চতর জরিমানা ও পরিষেবা চার্জের বিরোধিতা করার জন্যই এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

সংযুক্তির প্রতিবাদে ব্যাংক হরতাল! আজ দেশজুড়ে বিপর্যস্ত হতে চলেছে পরিষেবা

Bank Strike: ১০ টি পাবলিক সেক্টর ব্যাংককে জুড়ে চারটি ব্যাংক করার সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েই ধর্মঘট

আজ, মঙ্গলবার সারা দেশে সাড়ে ৩ লক্ষ ব্যাংক কর্মচারী একদিনের ব্যাংক ধর্মঘটে (bank strike) সামিল হচ্ছেন। যার জেরে সারা দেশে ব্যহত হবে ব্যাংকিং পরিষেবা। ১০ টি পাবলিক সেক্টর ব্যাংককে জুড়ে চারটি ব্যাংক করার সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েই অল ইন্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন (All India Bank Employees' Association) বা (AIBEA) এবং ব্যাংক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (Bank Employees Federation of India) বা (BEFI) যৌথভাবে এই ব্যাংক ধর্মঘট ডেকেছে। ২২ অক্টোবরের এই ব্যাংক হরতালের সমর্থন করছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নও। ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অফ কমার্স, ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্র, সিন্ডিকেট ব্যাংক এবং ব্যাংক অফ বরোদার মতো ব্যাংকগুলি গ্রাহকদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে, প্রস্তাবিত ধর্মঘটের কারণে তাদের কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে। ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ মানুষ।

কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি মঙ্গলবারের এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, “সরকারের এই সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এখন অন্ধ্র ব্যাংক, এলাহাবাদ ব্যাংক সিন্ডিকেট ব্যাংক, কর্পোরেশন ব্যাংক, ইউনাইটেড ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অফ কমার্স যে সমস্ত ব্যাংক বন্ধ হওয়ার মুখে তারা ভালই কাজ করছিল এবং তাদের নিজস্ব ক্ষেত্রে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখেছে।”

“এসবিআই, ব্যাংক অফ বরোদা ইত্যাদিতে আগে সংযুক্তি ঘটানোর কারণে কোনও ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। যখন ভারতের অর্থনীতিকে সমস্যা থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার প্রয়োজন ব্যাংকগুলির তখনই ব্যাংকগুলিকে একীভূত করাটা পরীক্ষানিরীক্ষা করার সময় নয়,” জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি।

একটি যৌথ বিবৃতিতে এআইবিইএ এবং বিইএফআই জানিয়েছে, ব্যাংকের সংযুক্তিকরণ এবং ব্যাংকিং সংস্কার এবং গ্রাহকদের জন্য উচ্চতর জরিমানা ও পরিষেবা চার্জের বিরোধিতা করার জন্যই এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অন্যান্য দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, খারাপ ঋণের পুনরুদ্ধার, ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং চাকরির সুরক্ষার মতো বিষয় গুলিও।

এই মাসের শুরুতে এক বিবৃতিতে বিইএফআই জানিয়েছিল, “আমরা সহজেই বুঝতে পারছি যে ব্যাংকের সংযোজন আসলে ব্যাংকগুলির বেসরকারিকরণের একটি সূচনা মাত্র এবং তাই আমাদের এই ধরনের পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করা দরকার।”

অগাস্টে, সরকার দেশের আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রয়াত্ত্ব ব্যাংকগুলির ঢালাও সংযোজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এটি এমন একটি পদক্ষেপ যাতে পাবলিক সেক্টর ব্যাংকের (পিএসবি) সংখ্যা ২৭ থেকে কমিয়ে দাঁড়াবে ১২তে।

More News