"নাটক"! শারীরিক অক্ষম যুবতীকে উঠে দাঁড়ানোর হুকুম দিল এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ

আমেরিকার বাসিন্দা সেই ভিরালি মোদিকে হুইলচেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানোর হুকুম দিল দিল্লি বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষী।

দিল্লি এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ৩-এ ঘটেছে এই ঘটনা (ফাইল ছবি)

নয়া দিল্লি:

শিরদাঁড়ায় চোট পাওয়ার পর থেকেই তিনি পঙ্গু। ২০০৬ সাল থেকে নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। তখন থেকেই তাঁর সঙ্গী হুইলচেয়ার। আমেরিকার বাসিন্দা সেই ভিরালি মোদিকে (Virali Modi) হুইলচেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানোর হুকুম দিল দিল্লি বিমানবন্দরের (Delhi Airport) এক মহিলা নিরাপত্তারক্ষী। বিমানবন্দরে প্রবেশের আগে তাঁকে পরীক্ষা করা হবে বলে এই নির্দেশ দেয় তারা। ভিরালি বারবার তাঁর অক্ষমতার কথা জানালেও নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁদের ঊর্ধ্বতনকে ফোনে জানায়, নাটক করছেন ভিরালি। পরীক্ষা করতে না দেওয়ার ছুতোয়। বাধ্য হয়ে গোটা ঘটনা জানিয়ে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সকে মেল করেন তিনি। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত গোটা দেশ।

ট্রাফিক পুলিশের দুর্ব্যবহার, অপমানে হৃদরোগে আক্রান্ত যুবকের মৃত্য়ু

প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন ভিরালি মোদি। তিনি যখন দিল্লি থেকে মুম্বই যাচ্ছিলেন তখনই তাঁর সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

ভিরালি আরও জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য তিনি সবসময় হুইল চেয়ার সঙ্গে রাখেন। এবং সেটা বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে দেখিয়েও নিয়েছেন। তাঁকে প্লেনের চেয়ারে বসিয়ে দেওয়ার জন্য একজন সঙ্গীকেও রাখেন তিনি। তাঁকে নিয়ে হুইল চেয়ারে করে যখন বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন সেই সময় একজন মহিলা নিরাপত্তা রক্ষী তাঁকে জোর করেন উঠে দাঁড়ানোর জন্য। তিনি এবং তাঁর সঙ্গী একাধইক বার বলার পরেও তিনি বিশ্বাস করেননি যে ভিরালি সত্যিই শারীরিক ভাবে অক্ষম।

ঝাড়খণ্ড গণপিটুনি,ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে রেহাই পেলেন অভিযুক্তরা

এরপরেই পুরো ঘটনা মেল করার পাশাপাশি অভিযোগপত্রের স্ক্রিন শট নিয়ে ভিরালি টুইট করেন সিআইএসএফ দফতরে। 

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। এরপরেই নাকি ওই মহিলা নিরাপত্তা রক্ষী চিৎকার করতে থাকেন ভিরালির ওপর। ঊর্ধ্বতনকে ফোন করে বলেন, নাটক করছেন ভিরালি। আসলে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। পরীক্ষা করতে দেবেন না বলেই তাঁর এই ছুতো! এমনকি ওই মহিলা নিরাপত্তারক্ষী কর্মী ভিরালির আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট দেখতেও অস্বীকার করে। ভিরালি আরও জানান, তিনি দূরে থাকায় ওই নিরাপত্তা রক্ষীর নামের ব্যাচ পড়তে পারেননি।

বিমানবন্দরে দাড়ি-গোঁফ লাগিয়ে গুজরাটি বৃদ্ধের ছদ্মবেশে এক ব্যক্তি!

ভিরালি পরে ওই মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সে। শেষে এক সিনিয়র নিরাপত্তারক্ষীর হস্তক্ষেপে বিষয়টি তখনকার মতো মিটে যায়। পরে সিআইএসএফ কর্তৃপক্ষ ফোনে ক্ষমা চেয়ে নেন ভিরালির থেকে। এমনটাই জানিয়েছেন অভিযোগকারিনী।