This Article is From Feb 20, 2020

এনআরসি থেকে কেন বাদ জানেন না এখনও, উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ১৯ লক্ষ অসমবাসীর

‘আমসু’র শীর্ষস্থানীয় নেতা বলছেন, ‘‘যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই দরিদ্র মানুষ। তাঁরা জানেন না কী করতে হবে। আইনজীবীরা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা চাইছেন।’’

যাঁরা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের বাদ পড়ার কারণ এখনও জানানো হয়নি।

হাইলাইটস

  • গত আগস্টে অসমের এনআরসি থেকে বাদ যায় ১৯ লক্ষ জনের নাম
  • যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের বাদ পড়ার কারণ জানানো হয়নি আজও
  • উদ্বিগ্ন ও বিভ্রান্ত হয়ে রয়েছেন নাম বাদ যাওয়া অসমের নাগরিকরা
গুয়াহাটি:

প্রায় ছ'মাস হয়ে গেল ৪১ বছরের মহম্মদ ফকরুদ্দিন বাদ পড়েছেন অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি থেকে। তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৯ লক্ষ মানুষের মতোই তিন‌িও উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করছেন চূড়ান্ত তালিকার নথির জন্য। সেই শংসাপত্র নিয়ে তারপর তাঁরা আবেদন করতে পারবেন বিদেশি ট্রাইব্যুনালে। ফকরুদ্দিন ছোটখাটো একজন ব্যবসায়ী। থাকেন অসমের হোজাই জেলায়। তালিকায় যে সব জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে তার অন্যতম হোজাই। ফকরুদ্দিনের কাছে রয়েছে জমির রেকর্ড, অতীতের ভোটার লিস্ট ও আরও নানা নথি।

NDTV-কে তিনি জানাচ্ছেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত আর্জি জানানোর প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। আমরা এখনও জানি না কেন চূড়ান্ত তালিকা থেকে আমাদের বাদ দেওয়া হল। যতক্ষণ না আমরা সার্টিফিকেটের কপি পাচ্ছি আমরা উদ্বিগ্ন ও বিভ্রান্ত হয়ে রয়েছি যে আমাদের কাছে থাকা কাগজপত্র চলবে কিনা।''

অসমের সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন ‘আমসু'র শীর্ষস্থানীয় নেতা মানোয়ার হুসেন বলছেন, ‘‘যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই দরিদ্র মানুষ। তাঁরা উদ্বিগ্ন। এবং জানেন না কী করতে হবে। নথির একটি প্রত্যয়িত কপির জন্য আইনজীবীরা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা চাইছেন।''

গত ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট জাতীয় নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর এখনও পর্যন্ত যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের বাদ পড়ার কারণ জানানো হয়নি। আর্জি জানানোর প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়নি।

তালিকায় রয়েছে বিপুল সংখ্যক হিন্দুদের নাম। যদিও বলা হয়েছে সিএএ-র প্রয়োগে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হতে পারে। মুসলিমদের ক্ষেত্রে তেমন কোনও আশ্বাসের লেশটুকুও নেই।

গুয়াহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী সঈদ বুরহানুর রহমান জানাচ্ছেন, ‘‘সংবাদমাধ্যম দেখাচ্ছে কী করে জমির নথি বা অন্যান্য নথিপত্র গ্রহণীয় হচ্ছে না। এর ফলে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির জন্ম হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের কাছে একটা পথ রয়েছে। যদি আপনার কাছে ১৯৭১ সালের আগের জমির নথি থাকে আপনাকে তার সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। আর যদি তা ১৯৭১-এর পরের হয়, তাহলে বাবা-মায়ের সঙ্গে তা লিঙ্ক করাতে হবে।''

.