লাদাখে আমাদের বীর জওয়ানদের বিপদের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়ী কে? প্রশ্ন রাহুল গান্ধির

India China Border Clash: "ভাই ও বোনেরা, ভারতের নিরস্ত্র সেনাদের হত্যা করে চিন একটি বিরাট বড় অপরাধ করেছে", বলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি

লাদাখে আমাদের বীর জওয়ানদের বিপদের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়ী কে? প্রশ্ন রাহুল গান্ধির

Indian Army: ভারতীয় সেনাদের মৃত্যু প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধি একটি ভিডিও বার্তায় প্রশ্ন তোলেন (ফাইল চিত্র)

হাইলাইটস

  • সীমান্তে জওয়ানদের মৃত্যুতে ঘুরিয়ে কেন্দ্রকেই কাঠগড়ায় তুললেন রাহুল গান্ধি
  • ভারত-চিন সীমান্তে বিপদের মধ্যে নিরস্ত্র অবস্থায় কেন গেলেন তাঁরা, প্রশ্ন
  • গালওয়ানে ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষে নিহত হন ২০ জন ভারতীয় জওয়ান
নয়া দিল্লি:

লাদাখের (Ladakh) কাছে গালওয়ান উপত্যকায় (Galwan Valley) ভারত-চিন সীমান্তে যেভাবে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের (India China Border Clash) ফলে একজন কর্নেল সহ মোট ২০ জন ভারতীয় জওয়ানকে (Indian Army) প্রাণ দিতে হলো তার জন্যে সরাসরি মোদি সরকারকেই দায়ী করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। এবিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরেও একটি টুইট করেন সনিয়া পুত্র (Rahul Gandhi)। সেই টুইটের শিরোনামই দেওয়া হয়েছে এমন ভাবে যাতে সকলের নজর কাড়ে। ওই টুইটের উপরে সেখা হয়েছে "দায়ী কে?" তারপর একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে রাহুল গান্ধি দেশের মানুষের প্রতি একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তবে ভিডিওর একেবারে শুরুতে কংগ্রেস সাংসদ ওই হামলার জন্যে চিনের নিন্দা করেন। তবে পাশাপাশি নিরস্ত্র অবস্থায় ওই পরিস্থিতির দিকে দেশের বীর জওয়ানদের কে ঠেলে দিয়েছেন এবং ভারতীয় সেনাকর্মীদের মৃত্য়ুর জন্যে দায়ী কে এই নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি।

লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষের ঘটনায় মেজর জেনারেল স্তরে ফের আলোচনা

রাহুল গান্ধি ভিডিওতে বলেন, "ভাই ও বোনেরা, ভারতের নিরস্ত্র সেনাদের হত্যা করে চিন একটি বিরাট বড় অপরাধ করেছে। তবে আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই যে, এই বীরেদের নিরস্ত্র অবস্থায় বিপদের দিকে কে এবং কেন পাঠিয়েছে? এই ঘটনার জন্যে কে দায়ী? ধন্যবাদ"।

সোমবার ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে ২০ জন ভারতীয় সেনা আত্মবলিদান দিয়েছেন। ওদিকে সংবাদসংস্থা এএনআই জানায় যে, ক্ষতি এড়াতে পারেনি চিনও। ওই সংঘর্ষে সেদেশে হতাহত কমপক্ষে ৪৩ জন জওয়ান। চিনা সেনারা "পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই পদক্ষেপ" নিয়েই সোমবার গালওয়ান উপত্যকায় ওই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করে যার ফলে ২০ জন ভারতীয় সেনা মারা যায়, বুধবার কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়িকে ফোন মারফত একথা বলেন। 

লাদাখ সংঘর্ষ নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সীমান্তে ওই সংঘর্ষের সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে যে, ৬ জুনের সামরিক স্তরের বৈঠকের পর চিন সেনার অধিগৃহীত জমি থেকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার কথা ছিল। সেই কাজ খতিয়ে দেখতে শহিদ কর্নেল বিএল সন্তোষ বাবুর নেতৃত্বে এলাকা পরিদর্শনে বেরোয় ভারতীয় বাহিনী। তাঁর সঙ্গে ছিল প্রায় ১০০ জন জওয়ান। এর পরেই তাঁরা ১৫,০০০ ফুট উচ্চতায় গালোয়ান উপত্যকা এলাকা গিয়ে দেখে সেখানে দিব্যি তাঁবুতে ঘাঁটি গেড়ে বসে লালফৌজ। তাঁদের বের করে সেই তাঁবু ভাঙতে শুরু করে ভারতীয় বাহিনী। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় কিছু তাঁবুতে। এতেই বিপদ বুঝে কাঠের তক্তা, লোহার রড, কাটা তার জড়ানো বাটাম-সহ আরও চিনা সেনা জড়ো হয় গালোয়ান এলাকায় । শুরু হয় দু'পক্ষের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ। আর তাতেই নিহত হন ২০ জন ভারতীয় জওয়ান।

সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে যে, ক্ষতি এড়াতে পারেনি চিনও। ওই সংঘর্ষে সেদেশে হতাহত কমপক্ষে ৪৫ জন জওয়ান। যদিও চিনের সেনা সূত্র থেকে এব্যাপারে কোনও নিশ্চিত বিবৃতি মেলেনি।