This Article is From Jul 20, 2020

"মেয়ের শাস্তি হোক": চাইছেন বাংলাদেশে ধৃত ধনিয়াখালির 'জঙ্গি' প্রজ্ঞা ওরফে আয়েশার মা

২০১৬ সালের দুর্গাপুজোর আগে একদিন সকালে প্রজ্ঞা দেবনাথ হুগলি জেলার এই ছোট্ট শহর ধনিয়াখালির বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন।

প্রজ্ঞা দেবনাথকে পুলিশের Counter-Terrorism and Transnational Crime ইউনিট গ্রেপ্তার করে।

ধনিয়াখালি:

ধনিয়াখালি বললেই তাঁতের শাড়ির কথা প্রথমেই মনে এলেও এখন হুগলির ছোট্ট এই শহরে তলে তলে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড নিভৃতে বাড়ছে কিনা সেই প্রশ্নই এখন মাথাচাড়া দিচ্ছে। নেপথ্যে সন্ত্রাসবাদী দল জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য প্রজ্ঞা দেবনাথ। প্রজ্ঞা এখন অবশ্য আয়েশা জান্নাত মোহনা নামেই পরিচিত। শুক্রবার ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ধনিয়াখালির তরুণী প্রজ্ঞাকে। চার বছর আগে মেয়ে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার দিনের কথা স্মরণ করে প্রজ্ঞা ওরফে আয়েশার মা গীতা বলেন, “আমি চাই আইন অনুযায়ী ওকে শাস্তি দেওয়া হোক।" প্রজ্ঞা দেবনাথকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (Counter-Terrorism and Transnational Crime) ইউনিট গ্রেপ্তার করে। সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য লোক নিয়োগ ও তহবিল সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে।

চুল পরিপাটি করে খোঁপা বাঁধা ঝরঝরের চেহারার তরুণী প্রজ্ঞা দেবনাথ প্রতি সকালে সাইকেল চালিয়ে কলেজ রওনা হতেন। পরিচিত কাউকে দেখলেই একগাল হাসি। ধনিয়াখালির মানুষের কাছে এখনও প্রজ্ঞার এই মুখটাই স্পষ্ট। সেও বছর চাকের আগেকার কথা।

২০১৬ সালের দুর্গাপুজোর আগে একদিন সকালে প্রজ্ঞা দেবনাথ হুগলি জেলার এই ছোট্ট শহর ধনিয়াখালির বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন।

“দিনটা ছিল ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬। মেয়ে রোজ দিনের মতোই সকালে বের হয়ে গেল সাইকেল নিয়ে। কয়েক ঘণ্টা পরে আমরা যখন ওকে ফোন করলাম তখন ওর মোবাইলটা স্যুইচ অফ বলল। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজি, কিন্তু প্রজ্ঞাকে কোথাও পাইনি। শেষমেশ পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করি,” বলেম প্রজ্ঞার মা গীতা।

দু'দিন পরে, একটি ফোন আসে গীতার কাছে।

“প্রজ্ঞা আমাকে দুপুরের দিকে ফোন করে এবং জানা যে ও বাংলাদেশে আছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। প্রজ্ঞা আমার আশীর্বাদও চেয়েছিল এবং বলেছিল যে এই শেষবার ও আমাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং হঠাৎ করেই ফোনটা কেটে দেয়। তারপর থেকে আর ওই নম্বরে কোনও ফোনও করা যায়নি,” বলেন প্রজ্ঞার মা।

বছর ২৫-এর প্রজ্ঞা দেবনাথ যখন নিখোঁজ হন তখন তিনি ধনিয়াখালি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

তাঁর প্রতিবেশীদের কথায়, কোনওকালেই অনেক বন্ধু ছিল না প্রজ্ঞার এবং বেশ লাজুক স্বভাবের ছিলেন তিনি। কিন্তু এই লাজুক মেয়েই যে একদিন সন্ত্রাসবাদী হয়ে উঠবে তা তারা কখনই ভাবতেও পারেননি।

প্রজ্ঞাদের প্রতিবেশী সুশীল বেরা বলেন, “সহজ সরল কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ছিল প্রজ্ঞা। যখনই রাস্তায় দেখা হত সবসময় মিষ্টি করে হাসত।”

প্রজ্ঞার মা গীতা জানান, প্রতিদিন সকালে এক কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে কলেজ যেত তাঁর মেয়ে। ফিরতে ফিরতে বিকেল হয়ে যেত। তবে কোনওদিনই তাঁর আচরণে অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়েনি মায়ের। প্রজ্ঞার বাবা একজন দিনমজুর। গীতা বলেন, “ওর মনের মাঝে কী চলছে তা কোনও দিন বুঝতেও পারিনি। ও একেবারেই স্বাভাবিক ছিল।”

গীতা ভেবেছিলেন নিজের মেয়েকে আর কখনও চোখের দেখাও দেখতে পাবেন না তিনি। স্থানীয় গণমাধ্যমের সূত্রেই মেয়ের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন মা। খবরেই মেয়ের নামের আগে ‘সন্ত্রাসবাদী' শব্দটা জুড়ে যেতে দেখেছেন তিনি। “আমি চাই যে আইন অনুযায়ী মেয়েকে শাস্তি দেওয়া হোক,” বলেন কান্নায় ভেঙে পড়া ‘সন্ত্রাসবাদী' কন্যার মা।