সকালে রাস্তার দোকানে চা খেতে গিয়ে তৃণমূলের হাতে হেনস্থার অভিযোগ দিলীপ ঘোষের

দিলীপের অভিযোগ সকালে কলকাতার লেকটাউনে তিনি এক কাপ চা খেতে যান রাস্তার একটি চায়ের দোকানে। হঠাৎ করেই নাকি তাঁকে একদল লোক ঘিরে ফেলে তখন।

সকালে রাস্তার দোকানে চা খেতে গিয়ে তৃণমূলের হাতে হেনস্থার অভিযোগ দিলীপ ঘোষের

অভিযোগ, সকালে কলকাতার লেকটাউনে তৃণমূল কর্মীরা দিলীপ ঘোষকে হেনস্থা করে

কলকাতা:

সাতসকালে সমর্থকদের নিয়ে রাস্তার ধারে চা খেতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress workers) কর্মীদের হাতে হেনস্থার অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রধান ( BJP's chief in West Bengal) দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর অভিযোগ সকালে কলকাতার লেকটাউনে তিনি এক কাপ চা খেতে যান রাস্তার একটি চায়ের দোকানে। হঠাৎ করেই নাকি তাঁকে একদল লোক ঘিরে ফেলে তখন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ওই দলবল দিলীপ ঘোষের কাছেই থাকা একটি টেবিলে লাথি মারে এবং তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পালটা স্লোগান দিতে থাকে দিলীপ ঘোষের সমর্থকরাও। চায়ের দোকান থেকে রাস্তা, “তৃণমূল হটাও, দেশ বাঁচাও!” স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে সকালেই। স্লোগান থেকে হাতাহাতির মতো গুরুতর কিছু ঘটে যাওয়ার আগেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দু'টি যুযুধান দলকে পৃথক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। 

Didi ke Bolo: প্রথম মাসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে "দিদিকে বলো"

তারপরে একটি চেয়ারে বসেন দিলীপ ঘোষ, প্রতিরক্ষামূলক বলয়ে তাঁকে আগলে রাখেন তাঁরই সমর্থকরা। নিশ্চিন্তে চায়ে চুমুক দেন দিলীপ। যে চত্বরে এই ঘটনাটি ঘটেছে অর্থাৎ লেক টাউন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং দমকল মন্ত্রী (Fire Services Minister Sujit Bose) সুজিত বসুর দুর্গ। “তৃণমূল নিজে থেকেই আমার প্রচার করে চলেছে,” মাটির ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে বলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “আমার সহকর্মীরা আমাকে তাঁদের এলাকায় চা খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আমি এসে দেখি তৃণমূল অনেক দলীয় পতাকা লাগিয়ে রেখেছে এবং তারপরেই ওরা গালাগালি দেওয়া শুরু করে। এর অর্থই হল তৃণমূল আমাদের ভয় পেয়েছে।”

দিলীপ ঘোষের এই ‘চা পার্টি' অবশ্য আচমকাই ঠিক হওয়া কোনও বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'দিদি কে বলো'র মতোই বিজেপি সমর্থকরাও ‘দিলীপ দা'র সঙ্গে চা' (Tea Party With Dilip Da)  নামে পালটা প্রচারণায় নেমেছে। সুজিত বসু বলেন, “বিজেপি তাঁদের চা চক্রের জন্য ভুল জায়গা বেছেছে। এই অঞ্চলটি তৃণমূলের দুর্গ এবং অনিবার্য ঘটনাই ঘটেছে।” ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গে প্রবেশ করেছে। এবং বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে প্রায়শই হিংসা মাঝে মাঝেই প্রমাণ করে দিচ্ছে ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমূলে উৎপাটন করতে বদ্ধপরিকর রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল।

 মুকুল রায়কে গ্রেফতারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুরক্ষা কলকাতা হাইকোর্টের

এপ্রিল ও মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২ টি লোকসভা আসনে বিজেপি ১৮ টিতে জয় পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দল ২২ টি আসন জিতেছে। বিগত দুই বছরে, বিজেপির এই প্রচেষ্টার ফলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিক দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছে। বিশেষত ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিতে, সমাবেশ এবং মিছিলে ‘জয় শ্রী রাম' ধ্বনি ওঠায় বারেবারে বিব্রত হতে দেখা গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘মা দুর্গা'কে তাই রামের স্লোগানের পালটা হিসেবে ব্যবহার শুরু করে তৃণমূল।

More News