“জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়” শ্রীনগর থেকে ফেরানো নিয়ে বললেন রাহুল গান্ধি

রাজ্যের তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের তরফে ট্যুইটে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের “শ্রীনগরে যাওয়া উচিত নয়, কারণ তাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হতে পারে”।

“জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়” শ্রীনগর থেকে ফেরানো নিয়ে বললেন রাহুল গান্ধি

রাহুল গান্ধি বলেন, তিনি এবং অন্যান্য নেতারা জানতে চেয়েছিলেন সেখানকার মানুষরা কেমন রয়েছেন (ফাইল)

নয়াদিল্লি:

শ্রীনগর (Srinagar) বিমানবন্দর থেকে শনিবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাহুল গান্ধিসহ অন্যান্য বিরোধী নেতাদের। রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi) বলেন, রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ প্রমাণ করে জম্মু ও কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি “স্বাভাবিক ছিল না”। তিনি আরও বলেন, জম্মু ও  কাশ্মীরের থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার এবং রাজ্যটিকে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর, সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে তা দেখতে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi) বলেন, “কয়েকদিন আগে, জম্মু ও কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য আমায় আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে রাজ্যপাল, সেরাজ্যে সফরের জন্য আমায় বিমান পাঠানোর প্রস্তাব দেন। আমি তাঁকে বলি---আপনার বিমান আমার প্রয়োজন নেই, তবে আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করছি এবং জম্মু ও কাশ্মীরে আমি যাব”।

Rahul Gandhi at J&K: রাহুল গান্ধির কাশ্মীর যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল সরকার

রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi) বলেন, “আমরা জানতে চেয়েছিলাম, সেখানকার মানুষ কেমন রয়েছেন এবং পরিস্থিতিতে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের বিমানবন্দর থেকে বেরোতে দেওয়া হয়নি। আমাদের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের হেনস্তা করা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে। এটা পরিষ্কার যে, জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না”।

রাহুল গান্ধির এই সফর রাজনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক।

রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের মন্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা ANI জানিয়েছে, “আমি তাঁকে  ভাল মনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, তবে তিনি রাজনীতি শুরু করলেন। এটা (তাঁদের সফর) তাঁদের রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছাড়া কিছুই ছিল না। এই সময়ে দলের উচিত দেশের স্বার্থ মাথায় রাখা”।

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা, আইবি প্রধানের সঙ্গে বৈঠক অমিত শাহের

শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরের তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের তরফে ট্যুইটে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের “শ্রীনগরে যাওয়া উচিত হবে না, কারণ তাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হতে পারে”। “এমন একটি সময়ে, যখন সীমান্ত সন্ত্রাস এবং হামলা থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে সরকার”।

জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে রাহুল গান্ধি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ১১ জন নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের সফর নিয়ে আশঙ্কা ভিত্তিহীন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আমরা দায়িত্ববান রাজনৈতিক নেতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং আমাদের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ ও মানবিক”।

শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছান কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআই, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে নেতারা।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন সিপিআইএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, ডিএমকে নেতা ত্রিরুচি শিবা, আরজেডি নেতা মনোজ ঝা এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দিনেশ ত্রিবেদী।

মেহবুবা মুফতি, ওমর আব্দুল্লাসহ ৪০০ রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এখনও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।