‘‘৭ বছর ধরে রোজ মরছি আমরা’’: তেলেঙ্গান‌ার পুলিশের সমর্থনে নির্ভয়ার বাবা-মা

নির্ভয়ার বাবা বদ্রিনাথ সিংহ জানিয়েছেন, ‘‘আমি এই এনকাউন্টারে খুশি। কেননা আমাদের মেয়ের ধর্ষকরা এখনও জীবিত। এবং আমরা রোজ মরছি।’’

Hyderabad Rape Case: নির্ভয়ার বাবা বদ্রিনাথ সিংহ জানিয়েছেন, ‘‘আমি এই এনকাউন্টারে খুশি।’’

হায়দরাবাদ:

২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া নির্ভয়া (Nirbhaya) কাণ্ডে শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ। শুক্রবার ভোরে তেলেঙ্গানার পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার (Telangana rape case) দায়ে অভিযুক্ত চার জনকে এনকাউন্টারে গুলি করে মেরেছে (Telangana encounter) পুলিশ। এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি জানিয়েছেন, ‘‘আমি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাদের শাস্তি প্রাপ্তিতে আমি খুব খুশি। পুলিশ একটা উদাহরণ তৈরি করেছে। পুলিশ খুব ভাল কাজ করেছে। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়। অপরাধীদের উচিত পুলিশকে ভয় পাওয়া। আজকের দিনে অপরাধীদের আমরা এই ধরনের শাস্তি চাই।''

এদিন চার অভিযুক্তকে হায়দরাবাদের সেই হাইওয়ের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল যেখানে তারা ২৬ বছরের পশু চিকিৎসকের দেহ পুড়িয়েছিল। ঘটনাটিকে আবার সাজানোর জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

তেলেঙ্গানা ধর্ষণ কাণ্ডের অভিযুক্তদের এনকাউন্টার, মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেশজুড়ে

পুল‌িশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা পালাতে চেষ্টা করছিল। তারা এমনকী পুলিশের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে ‌নেওয়ারও চেষ্টা করছিল‌। এরপরই পুলিশ তাদের গুলি করে মারতে বাধ্য হয়।

নির্ভয়ার মা আশা দেবী জানিয়েছেন, ‘‘সাত বছর ধরে আমি অপেক্ষা করছি। এক আদালত থেকে অন্য আদালতে যাচ্ছি। আদালতে আর্জি জানিয়েছি ওদের ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, ওদেরও মানবাধিকার রয়েছে। এভাবে ফাঁসি দেওয়া যাবে না। কিন্তু সেটাই আজকের দিনে দরকার। তেলেঙ্গানা পুলিশের আজকের পদক্ষেপে কিছু পরিবর্তন হবে। আমি খুব খুশি।''

Telangana Updates: অভিযুক্ত ৪ জনকে এনকাউন্টারে হত্যা করল পুলিশ

নির্ভয়ার বাবা বদ্রিনাথ সিংহ জানিয়েছেন, ‘‘আমি এই এনকাউন্টারে খুশি। কেননা আমাদের মেয়ের ধর্ষকরা এখনও জীবিত। এবং আমরা রোজ মরছি। তেলেঙ্গানার মেয়েটির বাবা-মাকে অন্তত এর মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না। যদি অভিযুক্তরা পালিয়ে যেত তাহলে তা তেলেঙ্গানার পুলিশের কাছেও খুব খারাপ ব্যাপার হত। ওরা ভাল কাজ করেছে।''

নিগৃহীতা তরুণীর বাবা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘‘দশ দিন হল আমার মেয়ে মারা গিয়েছে। আমি পুলিশ ও সরকারকে এর জন্য (অভিযুক্তদের এনকাউন্টার) কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার মেয়ের আত্মা এবার নিশ্চয়ই শান্তি পাবে।''

এক প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘‘যদিও ব্যাপারটা একেবারেই অপেশাদার, তবুও আমি মনে করি এটাই প্রত্যাশিত ছিল। আমি জানতাম এমন কিছুই ঘটতে চলেছে।''

এনকাউন্টারের ঘটনায় উল্টো মতও শোনা গিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বর জানিয়েছেন, ‘‘হত্যা আমাদের ব্যবস্থায় একটি কালো দাগ। ধর্ষণ ঘৃণ্য অপরাধ। আইনের অধীনে এর কড়া বিচার হওয়া উচিত।'' তিনি জানিয়েছেন, ‘‘এনকাউন্টার'' করে কাউকে মেরে ফেলাটাও নিন্দনীয়। তিনি বলেন, ‘‘আমি বুঝতে পারছি দ্রুত বিচারের প্রয়োজনীয়তার কথাটা। কিন্তু এটা কোনও পথ নয়।'' তিনি টুইট করে এই কথা জানিয়েছেন।

গত ২৭ নভেম্বর হায়দরাবাদের কাছে টোল বুথের পার্শ্ববর্তী এলাকায় চার তরুণ ২৬ বছরের পশু চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ করে তাঁকে হত্যা করে পুড়িয়ে দেয়। চার অভিযুক্তের নাম মহম্মদ, জলু শিবা, জলু নবীন ও চিন্তাকুন্তা চেন্নাকেশবালু। এদের মধ্যে মহম্মদের বয়স ২৬। বাকিদের বয়স ২০।

More News