পাতকুয়োয় আটকে ৬০ ঘণ্টারও বেশি! দড়ি দিয়ে টানতে গিয়ে পিছলে আরও গভীরে ২ বছরের শিশু

প্রাথমিকভাবে সুজিথ ২৬ ফুট গভীরতায় আটকা পড়েছিল কিন্তু পরে উদ্ধারকারীরা তাকে দড়ি দিয়ে টানতে চেষ্টা করলে সে আরও পিছলে ৭০ ফুট গভীরে পড়ে যায়।

Tamil Nadu: শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫ টা নাগাদ পাতকুয়োর কাছে খেলতে খেলতে সুজিথ পড়ে যায়

ত্রিচি:

তামিলনাড়ুর ত্রিচিতে (Tamil Nadu's Trichy) পাতকুয়োয় (borewell) পড়ে যাওয়ার পর ৬০ ঘণ্টারও বেশি পার হয়ে গিয়েছে। তবু খোঁজ নেই দুই বছর বয়সী শিশু সুজিথের (Sujith)। কর্তৃপক্ষ রবিবার রাতে জানিয়েছে, শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়েছে, তবে শ্বাসপ্রশ্বাস জারি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সুজিথ ২৬ ফুট গভীরতায় আটকা পড়েছিল কিন্তু পরে উদ্ধারকারীরা তাকে দড়ি দিয়ে টানতে চেষ্টা করলে সে আরও পিছলে ৭০ ফুট গভীরে পড়ে যায়। উদ্ধারকারীদের দল শিশুটির কাছে পৌঁছানোর জন্য পাতকুয়োর সমান্তরালে এক মিটার প্রশস্ত আরেকটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ছে। তবে পাথুরে জমির কারণে কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর গতিতে চলছে। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও পন্নীরসেলভম গতকাল ওই স্থান পরিদর্শন করেন এবং সুজিথের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন। সুড়ঙ্গ খোঁড়ার পরে, দমকল বিভাগের কর্মীরা তাতে নেমে শিশুর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুটি আরও ৯০ ফুট গভীরতায় যাতে পিছলে না যায় তা আটকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কালীপুজোয় গত বছরের তুলনায় এ বছর বায়ুদূষণের মাত্রা কমেছে কলকাতায়

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫ টা নাগাদ পাতকুয়োর কাছে খেলতে খেলতে সুজিথ পড়ে যায়। ওই গর্তটির গভীরতা সম্পর্কে অবশ্য নানা জনে নানা কথাই বলছেন। কারও কারও মতে এটি ৬০০ ফুট গভীর, আবার কেউ কেউ বলছেন এটি কমপক্ষে ১০০০ ফুট গভীর। খাবার ও জল ছাড়াই ওই পাতকুয়োয় আটকা পড়ে রয়েছে সুজিথ। অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে ঠিকই তবে তাতে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সে।

জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) সহ ২৫ জন কর্মীর একটি দল উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। তামিলনাড়ুর মন্ত্রী সি বিজয়বাস্কর এবং ‘ভেল্লামণ্ডি' এন নাগারাজন রাজ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলেই রয়েছেন। যত সময় এগোচ্ছে শিশুটির সুরক্ষার জন্য প্রার্থনাও বাড়ছে দেশজুড়ে।

জানেন, ১৯৪৭ থেকে বন্ধ থাকার পর কেন দীপাবলিতে সেজে উঠল পাকিস্তানের এই মন্দির?

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি এবং অভিনেতা-রাজনীতিবিদ কামাল হাসানের পরে অভিনেতা রজনীকান্তও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে রজনীকান্ত বলেন, “আমি শিশুটির উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করছি। বাবা-মায়ের উচিৎ তাদের বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া। সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ছিল।” অনেকেই রাজ্য সরকারের ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর' পদ্ধতির সমালোচনা করে বলেছেন যে উদ্ধার অভিযান শুরুর নয় ঘন্টা পরে এনডিআরএফকে ডাকা হয়েছিল।

ও পন্নীরসেলভাম অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি উন্নতমানের রিগ স্থাপন করেছি যা এক ঘন্টার মধ্যে পাঁচ ফুট ড্রিল করতে পারে। তথ্য পাওয়ার এক ঘন্টা পরেই উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছিল।”

সমালোচকরা বলছেন, এ জাতীয় ঘটনার জন্য কোনও স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন পদ্ধতি নেই এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার পাতকুয়োয় আটকা পড়া বাচ্চাদের উদ্ধারের জন্য কোনও প্রযুক্তিই তৈরি করেনি।

More News