This Article is From Aug 13, 2019

‘জম্মু কাশ্মীরের পরিস্থিতি খুবই সংবেদনশীল, সরকারের আরেকটু সময় পাওয়া উচিত’: সুপ্রিম কোর্ট

৩৭০ ধারা বাতিল: সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি শুনানি হবে ফের দু'সপ্তাহ পর

জম্মু কাশ্মীরের সংবিধান প্রদত্ত বিশেষ অধিকার ৩৭০ ধারা রদ করেছে কেন্দ্র

হাইলাইটস

  • 'আমরও চাই শান্তি ফিরুক, কিন্তু রাতারাতি কিছু করা যাবে না': সুপ্রিম কোর্ট
  • 'সরকারকে সময় দিতেই হবে', জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত
  • জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নজরে রাখা হয়েছে, আদালতকে জানালো কেন্দ্র
নয়াদিল্লি:

জম্মু কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) পরিস্থিতি ‘সংবেদনশীল' (sensitive)। কিন্তু, রাতারাতি অবস্থার বদল হবে না। কেই জানে না ভবিষ্যতে কি হতে পারে। সরকারের উপর ভরসা করতেই হবে। জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) অবিলম্বে কারফিউ তুলে নিতে, টেলিফোন সংযোগ ফিরিয়ে আনতে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে আদালতে আবেদন করেছিলেন এক সমাজকর্মী। সেই মামলারই মঙ্গলবার শুনানি ছিল। শুনানিতে একথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দু'সপ্তাহ পর ফের আবেদনটির শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অরুণ মিশ্রর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছিল সেখানেই বিচারপতিরা জানিয়ে দেন, ‘আমরাও চাই জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক। তবে এক রাতেই সব কিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়। সরকারের উপর ভরসা করতেই হবে। আর কেন্দ্রেরও আরেকটু সময় পাওয়া উচিত।'

স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তিতে ভারতের অংশ থাকবে না কাশ্মীর, মন্তব্য এমডিএমকে প্রধানের

উপত্যকা থেকে সংবিধান প্রদত্ত বিশেষ অধিকার ৩৭০ ধারা (Article 370) রদ করেছে কেন্দ্র। জম্মু-কাশ্মীরকে (Jammu and Kashmir) দ্বিখণ্ডিত করে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত কর হচ্ছে। মোদি সরকারের এই ঘোষণার আগে থেকেই অবশ্য কড়া নিরাপত্তাবলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে কাশ্মীরকে। গোটা রাজ্যেই জারি রয়েছে কারফিউ। নিয়ন্ত্রণের আওতায় ভূস্বর্গ। গত ৪ আগস্ট থেকে সেখানে বড় কোন জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

টেলিফোন থেকে ইন্টারনেট (Internet) পরিষেবা বন্ধ রয়েছে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। এমনকি সেনাবাহিনীর কর্মীরাও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এই বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার আবেদন জানিয়ে মামলা করা হয়।  

এদিনের শুনানিতে আদালতের প্রশ্ন ছিল, পুরো পরিস্থিতির কি পর্যালোচনা করা হচ্ছে? জবাবে কেন্দ্রের পক্ষে বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল (Attorney General KK Venugopal)। তিনি বলেন, ‘উপত্যকার পরিস্থিতির দিকে কেন্দ্রীয় সরকার সব সময় নজর রেখেছে।' পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘২০১৬-র জুলাই মাসে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পরও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। সেইসময়ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সে বার ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ বার এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি ঘটেনি।' 

ট্রাম্পের কাশ্মীর মধ্যস্থতার প্রস্তাব "বিবেচনার মধ্যে নেই": বললেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

যা শুনে বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের কাছে বাস্তব চিত্র থাকা প্রয়োজন। সময় দিতে হবে। আমাদের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে অপেক্ষা করতে হবে। যদি বদল না হয় তবে আবেদনকারী ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।'

কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই সোমবার জম্মু-কাশ্মীরে ঈদ শান্তিতেই কেটেছে। নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হলেও পরে তা ফের বলবৎ করা হয়। এক বিবৃতিতে প্রশাসন জানায়, স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদক্ষেপ করছে সরকার।