This Article is From Jul 16, 2020

কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন শচীন পাইলট: ১০টি তথ্য

Rajasthan: যদি বিদ্রোহী বিধায়কদের বহিষ্কার করা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমে যাবে, ফলে অশোক গেহলতের পক্ষে আস্থা ভোটে জেতা সহজ হয়ে যাবে

শচীন পাইলটের অভিযোগ, গত দুবছরে তাঁকে লাগাতার হেনস্থা এবং অপদস্থ করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী

হাইলাইটস

  • মামলা দায়ের করলেন শচীন পাইলট এবং বিদ্রোহী বিধায়করা
  • তাঁদের হয়ে সওয়াল করবেন বিজেপি জমানার দুই দুঁদে আইনজীবী
  • কংগ্রেসের আইনজীবী হিসেবে লড়বেন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি
জয়পুর: রাজস্থানে রাজনৈতিক পরিস্থিতির নাটকীয় মোড়, তাঁদের বিধায়ক পদ থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রাজস্থান হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন শচীন পাইলট এবং বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়করা। তাঁদের হয়ে সওয়াল করবেন বিজেপি জমানার দুই দুঁদে আইনজীবী হরিশ সালভে এবং মুকুল রোহতাগি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শচীন পাইলট ৭ নম্বর মামলাকারী, ফেরার কোনও লক্ষণ নেই তাঁর বলে সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে। একদিন আগেই ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢ়রা। কংগ্রেসের আইনজীবী হিসেবে লড়বেন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি।

এখানে রইল ১০'টি তথ্য:

  1. বিধানসভার “কোনও সদস্য স্বেচ্ছায় তাঁর সদস্যপদ ছাড়া” সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ করতে পারেন বিধানসভা অধ্যক্ষ, সংবিধানের এই ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীরা। তাঁদের যুক্তি, “দলবিরোধী কাজের জন্য” তাঁদের নোটিশ পাঠিয়ে শুক্রবারের মধ্যে জবাব দেয়েছেন রাজস্থান বিধানসভার অধ্যক্ষ সিপি জোশি, যে আইনে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে  এবং তা না করলে তাঁদের বরখাস্ত করা হবে। এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেলথেকে শুরু করে, তাঁদের বাড়ির বাইরে দেওয়ালে পর্যন্ত নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা সেটি দেখতে পান।
     

  2. যদি বিদ্রোহী বিধায়কদের বরখাস্ত করা হয়, তাহলে অশোক গেহলতের পক্ষে আস্থা ভোটে জেতা অনেক সহজ হয়ে যাবে। যদি বিদ্রোহী বিধায়কদের বরখাস্ত না করা হয়, এবং তাঁদের কংগ্রেস সদস্য হিসেবে ভোট দিতে দেওয়া হয়, তাহলে অশোক গেহলতের সরকার পড়ে যেতে পারে। ২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১০১ জন বিধায়কের সমর্থন, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁর পক্ষে রয়েছে ১০৬ জনের সমর্থন, তাতে লড়বেন শচীন পাইলটের অনুগামীরাও।
     

  3. বিজেপির পক্ষে রয়েছে ৭৩ জন বিধায়ক, রাজস্থানে ক্ষমতা দখল করতে তাদের এখনও ৩০ জনের সমর্থন প্রয়োজন। কংগ্রেসের সূত্রের খবর, সেই সংখ্যা জোগাড় করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন শচীন পাইলট, যদিও বরখাস্ত এড়াতে তিনি বিজেপি যোগ অস্বীকার করছেন।
     

  4. ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টির দুই বিধায়ক একটি ভাইরাল ভিডিওতে অভিযোগ করেছেন, জয়পুর ছেড়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে পুলিশ যখন তাঁদের চাবি ছিনিয়ে নিয়েছিল, সেই সময় “আটকে পড়ার মতো” পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তারাও সংখ্যার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শচীন পাইলট শিবিরে যোগদানের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে তারা এবং শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলতের সঙ্গে বৈঠকের পর “সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে” বলে জানিয়েছে তারা।
     

  5. বুধবার শচীন পাইলট দাবি করেন, গান্ধি পরিবারের চোখে তাঁকে ছোটো করার জন্যই তাঁর সঙ্গে বিজেপি যোগের জল্পনা রটানো হচ্ছে, ফলে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলনের জল্পনা রটে যায়। যদিও বৃহস্পতিবার তাঁর উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দল, বলা হয়েছে, গুরগাঁও এ যে হোটেলে বিদ্রোহী বিধায়কদের রাখা হয়েছে সেখানে অতিরিক্ত ঘর নেওয়া হয়েছে।
     

  6. সূত্রের খবর, সনিয়া গান্ধি বা গান্ধি পরিবারের অন্য কারও সঙ্গেই দেখা করার আবেদন জানাননি শচীন পাইলট। গত কয়েকদিনে রাহুল গান্ধি এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢ়রা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে খবর।
     

  7. সূ্ত্রের খবর, ২০১৮ এ রাজস্থানে কংগ্রেসের জয়ের পর, তাঁর জায়গায় অশোক গেহলতকে মুখ্যমন্ত্রী করা নিয়ে কোনও আপোষ করতে চান না শচীন পাইলট। অভিমান ভাঙাতে তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করেন রাহুল গান্ধি। শচীন পাইলটের অভিযোগ, গত দুবছরে তাঁকে লাগাতার হেনস্থা এবং অপদস্থ করে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
     

  8. শুক্রবার লড়াই জমে ওঠে রাজস্থানে, শচীন পাইলটের বিরুদ্ধে বিজেপির বিদ্রোহে সায় দিয়ে কংগ্রেস বিধায়কদের কেনার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তাঁর জবাব চাওয়া হয়। গতমাসে, শচীন পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত, সেই সময় কংগ্রেস বিধায়কদের বিজেপির প্রলোভন থেকে বাঁচাতে একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে ১০দিন রেখে দিয়েছিলেন অশোক গেহলত।
     

  9. শচীন পাইলটের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ অশোক গেহলত, তবে বুধবার তাঁকে সুর নরম করার পরামর্শ দেওয়া হয়, সেদিন তিনি আবার বলেন, “সুপুরুষ এবং ভাল ইংরাজি বলতে পারাটাই সব নয়”। এছাড়াও শচীনের বিরুদ্ধে ঘোড়া কেনাবেচা এবং চুক্তি করারও অভিযোগ তোলেন অশোক গেহলত।
     

  10. বিজেপির বিরুদ্ধে, সরকার এবং তাদের হাতে থাকা এজেন্সিগুলিকে অশোক গেহলতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ দুজনের বাড়িতে আয়কর আধিকারিকদের হানার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়, তার একদিন আগে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেন শচীন পাইলট।



.