"অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের একটি উদাহরণ সৃষ্টি করবে": প্রধানমন্ত্রীর চিঠির সেরা ১০ উক্তি

PM Modi's letter: করোনা মহামারীর কারণে দেশের দিন আনি দিন খাইদের দুর্ভোগ কাটাতে সবরকমের চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার, আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

Narendra Modi: জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে নেওয়ায় দেশের ঐক্য ও সংহতি আরও বেড়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী (File)

হাইলাইটস

  • দেশের জনগণের উদ্দেশে চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী দিলেন অনুপ্রেরণার বার্তা
  • ভারত জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন পাবেই, মনে করেন নরেন্দ্র মোদি
  • সারা বিশ্বের কাছে অনন্য উদাহরণ তৈরি করবে দেশ, বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি
নয়া দিল্লি: "গণতন্ত্রের সম্মিলিত শক্তি" তাঁকে ফিরিয়ে এনেছিল দ্বিতীয় মেয়াদে, এমন কথা আরও একবার জোরগলায় বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বর্ষপূর্তিতে নরেন্দ্র মোদি দেশের জনতা জনার্দনের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি (PM Modi's Letter) লিখেছেন। সেই চিঠিতে তিনি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বর্তমানে যে যে চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে দেশ যাচ্ছে, সবকিছু নিয়েই কথা বলেছেন। করোনা ভাইরাস (Coronavirus) শুধু ভারতেই নয়, সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। এই ভয়াবহ সঙ্কটের সময় ভারত রীতিমতো অকুতোভয় হয়ে লড়েছে বলে দাবি করেন মোদি। তবে করোনা পরিস্থিতি এবং তার জেরে হওয়া লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে দেশের দিন আনি দিন খাই মানুষদের, একবাক্যে একথাও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে জীবিকা হারিয়ে জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে ওঠা এই দিন মজুর এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা কাটাতে তৎপর কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন আশ্বাস দিয়েছেন যে তাঁর সরকার দিন মজুরিতে খেটে খাওয়া এই শ্রমিকদের দুর্ভোগ লাঘব করতে "ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্প নিয়ে" কাজ করছে। ১৩০ কোটি ভারতীয়দের শক্তিতে অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসবেই, আর সারা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখবে ভারতকে, এই আশাই করছেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)।

জাতির উদ্দেশে লেখা মোদির চিঠির সেরা ১০ উক্তি:

  1. অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে করোনা ভাইরাস ভারতে থাবা বসালে ভারত সারা বিশ্বের কাছে একটা বড়সড় সমস্যা হয়ে উঠবে। তবে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস এবং স্থিতিস্থাপকতার মধ্যে দিয়ে আপনারা (দেশের জনগণ) সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন। আপনারা প্রমাণ করেছেন যে বিশ্বের অন্যান্য শক্তিশালী ও সমৃদ্ধময় দেশগুলির তুলনায় ভারতীয়দের সম্মিলিত শক্তি এবং সম্ভাবনা কিছু কম তো নয়ই, বরং অতুলনীয়।

  2. এই ধরণের মারাত্মক সঙ্কটে কখনোই এমন দাবি করা যায় না যে কেউ কোনও অসুবিধা বা সমস্যায় পড়েননি। আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষজন, পরিযায়ী শ্রমিক, ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এবং কারিগর, হকার সহ দেশের সব ধরণের মানুষই প্রচণ্ড দুর্ভোগ সহ্য করছেন।

  3. কয়েকদিন আগে, একটি সাংঘাতিক ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার বেশ কিছু অংশকে তছনছ করে দিয়েছে। এখানেও এই রাজ্যের মানুষরা যেভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে লড়েছেন তা দৃষ্টান্ত।  তাঁদের সাহস গোটা ভারতের জনগণকে অনুপ্রাণিত করে।

  4. এরকম একটা সঙ্কটের সময়ে, ভারত সহ বিভিন্ন দেশ তাদের অর্থনীতি কীভাবে পুনরুদ্ধার করবে সে নিয়েও রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। তবে, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত যেভাবে ঐক্য ও সংকল্প নিয়ে লড়াই করে সারা বিশ্বকে অবাক করেছে, সেখানে আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে আমরা অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের ক্ষেত্রেও একটি উদাহরণ স্থাপন করব। দেখিয়ে দেব, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও, নিজেদের শক্তির মাধ্যমে, ১৩০ কোটি ভারতীয় কেবল বিশ্বকেই অবাকই করতে পারে না, উদ্বুদ্ধও করতে পারে।

  5. আমাদের শ্রমিকরা তাঁদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জীবনযাপন করে, তাঁদের কঠোর পরিশ্রম এবং প্রতিভার ভারতের মাটির সুগন্ধ মিলেমিশে এমন এক পণ্য তৈরি হবে যা আমদানি ক্ষেত্রে ভারতের অন্য দেশের প্রতি নির্ভরতা কমাবে এবং দেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

  6. গত বছর এই দিনটিতেই ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক সোনার অধ্যায় শুরু হয়েছিল। বেশ কয়েক দশক পরে দেশের জনগণ পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে পূর্ণ মেয়াদী সরকার আনতে ভোট দিয়েছিলেন। আপনাদের স্নেহ, সদিচ্ছা এবং সক্রিয় সহযোগিতা আমাদের নতুন শক্তি এবং অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আপনারা যেভাবে গণতন্ত্রের সম্মিলিত শক্তি প্রদর্শন করেছেন তা পুরো বিশ্বের কাছে একটি আলোচ্য বিষয়।

  7. ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত, ভারতের মর্যাদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশের দরিদ্রদের অবস্থা ভালো হয়েছে। দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, নিখরচায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ, ঘরে ঘরে শৌচালয় তৈরি করে দেওয়া হয়েছে এবং 'সবার জন্য ঘর' নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এগোনো গেছে।

  8. সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং এয়ার স্ট্রাইকের মাধ্যমে ভারত তার সামরিক শক্তিও প্রদর্শন করেছে। একই সময়ে, ওআরওপি, এক জাতি একটাই কর অর্থাৎ জিএসটি, কৃষকদের জন্য আরও ভাল ফসলের নূন্যতম মূল্য নির্ধারণের মতো দশক পুরনো বহু দাবি পূরণ হয়েছে।

  9. জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করার ফলে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনাকে আরও বেড়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্ট রামমন্দির নিয়ে যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল তাতে বহু শতাব্দী ধরে চলে আসা বিতর্কের সমাপ্তি হয়েছে। তাৎক্ষনিক তিন তালকের মতো বর্বর প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে।নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন করে ভারতের অন্তর্ভুক্তি চেতনা ও সমমনস্কতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

  10. আরও অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা দেশ তথা গোটা জাতির বিকাশের গতিবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের পদটি তৈরি করে সামরিক ক্ষেত্রে বড়সড় সংস্কার করা হয়েছে, এর ফলে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়কে আরও উন্নত করা গেছে। একই সঙ্গে ভারত মিশন গগনায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।