This Article is From May 26, 2020

ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা, দেশের প্রতিরক্ষা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

ndia-China Face-Off: এর আগে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ৩ সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা করেন

সিকিম ও লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত পেয়েই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি

নয়াদিল্লি: ফের ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা (India-China Face-Off)। লাদাখে (Ladakh) ফের বাড়ছে দু’দেশের মধ্যে উত্তাপ। এই পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর ডাকা ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন ৩ বাহিনীর সেনাপ্রধান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং দ্য চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বা প্রতিরক্ষা কর্তা জেনারেল বিপিন রাওয়াত। এর আগে বিদেশ সচিবের সঙ্গেও এবিষয়ে এক পৃথক বৈঠক হয়। সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ৩ সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা করেন। সিকিম ও লাদাখ সীমান্তে হঠাৎই চিন এবং ভারতীয় সেনার মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে যে বেজিং লাদাখের কাছে তাদের বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ চালাচ্ছে। এমনকী বেশ কিছু চিত্রে এও দেখা গেছে যে, কয়েকটি যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গতকাল (সোমবার), চিনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে একটি নোটিস দিয়ে জানানো হয়েছে যে, চিনের যেসব নাগরিকরা দেশে ফিরে যেতে চায় তাদের ফেরাতে প্রস্তুত তাঁরা।

এখানে রইল ১০'টি তথ্য:

  1. ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী গালওয়ান এলাকায় একটি সড়ক ও সেতু নির্মাণ শুরু করতেই সেবিষয়ে চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে চিন। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে চিন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। শুধুমাত্র স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তার জন্যেই এই রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়", এনডিটিভিকে জানান এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্তা।
     

  2. ৯ মে, একটি ভারতীয় টহলদারী দলের কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন কর্মীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে চিনা সেনারা। 
     

  3. ভারতের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, ভারত-চিন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে চিনের সেনাবাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে তখনই জানানো হয় যে মোটরচালিত নৌকাগুলির সাহায্যে পানগং হ্রদে ঘোরাফেরা করছে তাঁরা।
     

  4. পরে এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, "উভয় পক্ষের আগ্রাসী আচরণের জন্যে দুই সেনাবাহিনীরই কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত করা হয়।তবে বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ের কথা কাটাকাটি ও বাগবিতণ্ডার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল"।
     

  5. ওই বিবৃতিতে এও বলা হয়, "সীমান্তের প্রহরারত সৈন্যদের মধ্যে এইধরণের সাময়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই থাকে, আসলে দুই দেশের সেনাই চায় যাতে কোনওভাবেই তাঁদের নিজের নিজের সীমানা লঙ্ঘন না করা হয়। এই নিয়েই দু'তরফে মুখোমুখি উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে সেনা প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল অনুসারে এ জাতীয় বিষয়গুলোকে পারস্পরিকভাবেই সমাধান করা হয়ে থাকে"।
     

  6. জানা গেছে যে চিনের তরফ থেকে গালওয়ান নদীর কাছেও তাঁবু খাটানোর চেষ্টা করা হয়। এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অভিযোগ ছিল যে, চিনা হেলিকপ্টারগুলি লাদাখের বিতর্কিত অঞ্চলে প্রবেশ করে ঘোরাফেরা করছে।
     

  7. NDTV-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদৌরিয়া বলেন, "(চিনা) হেলিকপ্টারের আনাগোণা লাদাখে ক্রমেই বাড়ছে"।
     

  8. এরপরেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে গালওয়ান অঞ্চলে সেনার সংখ্যা বাড়িয়ে সেখানকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। - ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের সময় এটা ছিল একটি ফ্ল্যাশপয়েন্ট। পাশাপাশি প্যাংগ তসো এবং ডেমচোকের উত্তর দিকেও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
     

  9. গতকাল (সোমবার), চিনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে একটি নোটিস দিয়ে জানানো হয়েছে যে, চিনের যেসব নাগরিকরা দেশে ফিরে যেতে চায় তাদের ফেরাতে প্রস্তুত তাঁরা। যাঁরা দেশে ফিরতে চান তাঁরা যেন নিজের ব্যয়ে বিমানের টিকিট কেটে ফেলেন।
     

  10. এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে যে চিনের সঙ্গে এই সীমান্ত বিরোধ, সে লাদাখ নিয়েই হোক, বা সিকিম অথবা দক্ষিণ চিন সাগর নিয়েই হোক – সবই দক্ষিণ এশিয়ার কাছে "হুমকির নামান্তর"। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিদেশি সহকারী সচিব অ্যালিস ওয়েলস বলেন, "চিন এই সব উস্কানিমূলক এবং বিরক্তিকর আচরণ দিয়েই বোঝাতে চাইছে তাদের ক্রমবর্ধমান শক্তি"।
     



.