This Article is From May 16, 2020

গরিবদের এই মুহূর্তে টাকা দরকার, ঋণ নয়, অর্থনৈতিক প্যাকেজ নিয়ে আরও ভাবুন: রাহুল গান্ধি

“রাস্তায় হাঁটতে থাকা অভিবাসী শ্রমিকের অর্থ দরকার, ঋণের দরকার নেই। যে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তার অর্থ দরকার, ঋণ নয়। আমরা যদি তা না করি তবে এটি একটি বিপর্যয়কর সমস্যা হয়ে উঠবে,” বলেন রাহুল।

রাহুল গান্ধি বলেন, “আমাদের জনগণের অর্থের প্রয়োজন।"

নয়াদিল্লি:

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি আজ করোনাভাইরাস-ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনীতির জন্য ২০ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং যদি সরকার এর পরিবর্তে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না দেন তবে আসন্ন “বিপর্যয়কর সমস্যা” সম্পর্কে সতর্কও করে দিয়েছেন। জুম ভিডিও কলের মাধ্যমে সাংবাদিকদের উদ্দেশে রাহুল গান্ধি কৃষক এবং অভিবাসীদের জন্য তাত্ক্ষণিকভাবে ত্রাণ সরবরাহ করতেই না পারা “ঋণের প্যাকেজ” সম্পর্কেও ‘গুরুতর প্রতিক্রিয়া' ব্যক্ত করেন।

রাহুল গান্ধি বলেন, “আমাদের জনগণের অর্থের প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর এই প্যাকেজটি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। মোদিজির সরাসরি নগদ স্থানান্তর, এমএনআরইজিএ-র অধীনে ২০০ দিনের কর্মদিবস, কৃষকদের জন্য অর্থ সম্পর্কে চিন্তা করা উচিত, কারণ তারা ভারতের ভবিষ্যত।”

কেরলের লোকসভার সাংসদ গত বছর সাধারণ নির্বাচনের প্রচারের সময় কংগ্রেস প্রস্তাবিত ন্যায় স্কিমটি তুলে ধরেন- যাতে সমাজের দরিদ্রতম শ্রেণির জন্য বার্ষিক ৭২ হাজার টাকা আয়ের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। রাহুল গান্ধি কেন্দ্র সরকারকেও অনুরূপ পরিকল্পনা নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। “রাস্তায় হাঁটতে থাকা অভিবাসী শ্রমিকের অর্থ দরকার, ঋণের দরকার নেই। যে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তার অর্থ দরকার, ঋণ নয়। আমরা যদি তা না করি তবে এটি একটি বিপর্যয়কর সমস্যা হয়ে উঠবে,” বলেন রাহুল।

রাহুল গান্ধি এই সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে একই অনুরোধ করেছিলেন। রাহুল, লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ে থাকা অভিবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে “কমপক্ষে ৭,৫০০ টাকা” পাঠানোর অনুরোধ করেন। এই মাসের শুরুর দিকেই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ও রাহুল গান্ধির সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন: “আমি জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের কথা বলছি, আমরা তাদের কিছু অর্থ দেব, আমার মনে হয় না তাতে খারাপ কিছু হবে না"। অভিজিৎ আরও যোগ করেন যে, আমেরিকাও ঠিক এই পন্থাই নিয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ভারতে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত প্রায় ৮৬,০০০ মানুষ এবং মৃত প্রায় ২,৭০০-রও বেশি। সারা দেশেই লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন, অভিবাসী শ্রমিক এবং দিন মজুরেরা সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

এই সপ্তাহে কেন্দ্র সরকার একটি আর্থিক ত্রাণ এবং উদ্দীপক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যাতে খাদ্য রেশন এবং সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন সহ আটকে পড়া এবং সমস্যায় থাকা অভিবাসীদের জন্য কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে কংগ্রেসের মতে, এটি একটি "জুমলা" বা ভুয়া প্রতিশ্রুতি প্যাকেজ যাতে কৃষক বা অভিবাসী শ্রমিকদের সরাসরি লাভ হবে না। একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রধান শরদ পাওয়ার এবং সিপিআইএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি সহ অন্যান্য বিরোধী নেতারাও।

আজ নিজের ভিডিও কলে রাহুল গান্ধি বলেন যে, সরকার যতক্ষণ না সমস্ত অর্থনৈতিক বিভাগের উপভোক্তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য স্তরের চাহিদা নিশ্চিত করতে না পারবে ততক্ষণ এই দেশকে COVID-19 মহামারীর বিরুদ্ধে লড়তে সমস্যার মুখে পড়তে হবে।