"৮, ৭, ৬.৬, ৫.8, ৫, ৪.৫ = এই তো অর্থনীতির অবস্থা": পি চিদাম্বরম

Gross Domestic Product: প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, প্রতিটি সংখ্যাই একটি সাশ্রয়ী অর্থনীতির দিক নির্দেশ করে

দেশের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কথা বলছেন P Chidambaram

নয়া দিল্লি:

সবেমাত্র ১০৬ দিন জেলে বন্দিদশা কাটিয়ে বুধবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন পি চিদাম্বরম। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরোদস্তুর রাজনীতির মঞ্চে নেমে পড়লেন তিনি (P Chidambaram's economy)। একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তিনি (P Chidambaram) বলেন,"সরকার ভুল করছে। এটা পুরো ভুল। আমি ফের বলছি, সরকার ভুল করছে এবং তাঁরা ভুল করছে কারণ তাঁরা পূর্বাভাসগুলিকে পাত্তা দিচ্ছে না"। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, প্রতিটি সংখ্যাই একটি সাশ্রয়ী অর্থনীতির দিক নির্দেশ করে, অর্থনীতিকে চলতি মন্দা থেকে বের করে আনা সম্ভব ছিল কিন্তু বর্তমান সরকার সেই কাজটি করতে "অক্ষম" ছিল।

কংগ্রেস সদর দফতরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পোড় খাওয়া ওই রাজনীতিবিদ বলেন. "দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি যদি ৫ শতাংশকে ছুঁয়ে যায় তবে আমরা এই বছরের শেষে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করবো। অনুগ্রহ করে ডঃ অরবিন্দ সুব্রহ্মনিয়নের এই সতর্কতার কথা মনে রেখে চলুন। তিনি বলেছিলেন যে এই সরকারের অধীনে ৫ শতাংশ আসলে ৫ শতাংশ নয় বরং প্রায় ১.৫ শতাংশ কম" ।

পি চিদাম্বরমকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট, ১০৫ দিন জেলবন্দি থাকার পর আপাত স্বস্তি

এই সাংবাদিক সম্মেলনের আগে তিনি সংসদেও যান, যেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন: "সরকার কোনওভাবেই সংসদে আমার কণ্ঠরুদ্ধ করতে পারবে না"। তিনি পেঁয়াজের আকাশ ছোঁয়া দামের বিরুদ্ধে কংগ্রেস সাংসদদের করা প্রতিবাদ বিক্ষোভেও যোগ দেন।

গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় তিহার জেল থেকে বেরিয়ে আসার পরই কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধির সঙ্গে দেখা করেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমি খুশি যে সুপ্রিম কোর্ট আমার জামিনের আবেদন মেনে আমায় মুক্তি দিয়েছেন এবং আমি খুশি যে আমি ১০৬ দিন পর মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছি" ।

সরকার সংসদে আমার কথা বন্ধ করতে পারবে না; তিহার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে বললেন পি চিদাম্বরম!

বুধবারই পি চিদাম্বরমকে জামিন দেয় সুপ্রিম কোর্ট। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিদাম্বরম বন্দি অবস্থায় বেশিরভাগ দিন কাটিয়েছেন দিল্লির তিহার জেলেই। তবে শীর্ষ আদালত জামিন দেওয়ার সময় এই শর্ত রেখেছে যে তিনি এর মধ্যে কোনওভাবেই দেশ ছাড়তে পারবেন না এবং যখনই প্রয়োজন হবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। আদালত এই নির্দেশও দেয় যে, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এই মামলায়  কোনও প্রকাশ্য বিবৃতি দিতে বা কোনও সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না বা কোনও সাক্ষীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।

গত ২১ আগস্ট সিবিআই গ্রেফতার করে পি চিদাম্বরমকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০৭ সালে বিদেশ থেকে ৩০৫ কোটি টাকার তহবিল পাওয়ার জন্য আইএনএক্স মিডিয়াকে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন তিনি, বিনিময়ে তাঁর ছেলে কার্তি চিদাম্বরমের সংস্থাকে বিরাট অঙ্কের ঘুষ দেয় আইএনএক্স মিডিয়া।

সিবিআইয়ের পাশাপাশি ওই মামলার সঙ্গে জড়িত অর্থ পাচারের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তাঁকে ১৬ অক্টোবর গ্রেফতার করে।

চিদাম্বরম দেশের অর্থনীতি নিয়ে ফের মুখ খুললেন, কিন্তু কী ঘটছে দেশের অন্যান্য অংশে:

More News