বিচারপতির বাড়িতে গার্হস্থ্য হিংসা! ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিক্ষোভ

ওই বাড়ির গৃহবধূকে টেনে হিঁচড়ে খাট থেকে মাটিতে নামাচ্ছেন তিন জন। ওঁরা বধূর স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুরমশাই। পাশে দাঁড়িয়ে ওই মহিলার সন্তান।

 Share
EMAIL
PRINT
COMMENTS
বিচারপতির বাড়িতে গার্হস্থ্য হিংসা! ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিক্ষোভ

বিচারপতির বাড়িতে গার্হস্থ্য হিংসা!


হায়দরাবাদ: 

হাইলাইটস

  1. ফুটিজে দেখা যাচ্ছে এক মহিলাকে ধরে রেখেছেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোক
  2. সিন্ধু শর্মার শ্বশুরমশাই হাইকোর্টের অবসারপ্রাপ্ত বিচারপতি
  3. যদিও সিন্ধুর শ্বশুরবাড়ি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে

সাদা-কালো একটি ভিডিও। আর পাঁচটি গৃহস্থ বাড়ির মতোই একটি ঘর। সেখানে ইতস্তত ছড়িয়ে ঘরোয়া উপকরণ। এই ছবি প্রায় প্রত্যেক ঘরেই দেখা যায়। শিউরে উঠতে হয় তার পরের দৃশ্য দেখে। ওই বাড়ির গৃহবধূকে টেনে হিঁচড়ে খাট থেকে মাটিতে নামাচ্ছেন তিন জন। ওঁরা বধূর স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুরমশাই। পাশে দাঁড়িয়ে ওই মহিলার সন্তান। যে ছুটে ছুটে গিয়ে মাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছে নির্যাতনের হাত থেকে। গার্হস্থ্য হিংসার (Domestic Violence) এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে হাইকোর্টের এক প্রাক্তন বিচারপতির (retired high court judge) বাড়িতে! রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়, তাহলে নারী নির্যাতন কতখানি হিংস্র পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, তাই-ই স্তব্ধ হয়ে দেখেছেন নেটিজেনরা। সোশ্যালে এই ভিডিও ছড়াতেও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এতাংশ।

Watch Video: ২২ হাজারের চালান, ৪০০ টাকায় রফাদফা, কিভাবে করবেন? দেখুন পুলিশের দেওয়া টিপস

খবর, নিগৃহীতা সিন্ধু শর্মার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নুটি রামমোহন রাও ও নুটি দুর্গা জয়লক্ষ্মীর ছেলে নুটি বশিষ্ঠের। বিয়ের পর থেকেই নাকি পণ ও যৌতুক নিয়ে তাঁর ওপর অত্যাচার চালাত শ্বশুরবাড়ি। সেই অত্যাচার তখনও সীমাবদ্ধ চার দেওয়ালের ঘেরাটোপেই। গত এপ্রিলে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, যখন সিন্ধু হায়দরাবাদের অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ক্রমাগত অত্যাচার থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ার ফলে। এরপরেই তিনি মামলা দায়ের করেন শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে আসে সিসিটিবির ফুটেজ। যিনি একসময় বিচারকের আসনে বসে অসংখ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন তাঁর বাড়ির এই দৃশ্য দেখে কার্যত হতবাক জনসাধারণ। ফুটেজ সোশ্যালে ছড়াতেই আস্তে আস্তে ক্ষোভ দানা বাঁধে। এবং নেট বিশ্বের একাংশ এমন নিন্দনীয় ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

ঘটনার পরের সপ্তাহগুলিতে, শ্রীমতি শর্মা তার দুই সন্তান, উভয় মেয়ে, যার বয়স প্রায় ৪ এবং ২ বছর ছিল, তার হেফাজত চেয়েছিলেন, তার চেয়ে ছোট এক শিশু, যিনি তখন প্রায় দেড় বছর বয়স্ক ছিলেন, এখনও স্তন্যপান করছিলেন, এবং তাকে হস্তান্তর করা হয়েছিল কর্মী অচ্যুঠা রাও এবং অন্যদের হস্তক্ষেপে মায়ের প্রতি। শ্বশুরবাড়িকে বড় মেয়েকেও হস্তান্তর করতে বাধ্য করতে হাইকোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল।

কর্পোরেট কর কমানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ রাহুলের

মামলা দায়েরের একসপ্তাহ পরেই দুই নাবালিকা কন্যাসন্তানের কাস্টডি চেয়ে এরপরেই আদালতের দ্বার্সথ্ হন সিন্ধু। তাঁর ছোট মেয়ে তখনও স্তন্যপান করে মায়ের। সমাজকর্মী অচ্যুত রাওয়ের হস্তক্ষেপে ছোট মেয়েকে কাছে পান সিন্ধু। পরে আদালত সিন্ধুর শ্বশুরবাড়িকে নির্দেশ দেন, বড় মেয়েকেও সিন্ধু হেপাজতে দেওয়ার। এক সাক্ষাৎকারে সিন্ধু জানিয়েছেন, দুই সন্তানের চোখের সামনেই মারধর করা হত তাঁকে। আজন্ম তাঁরা মাকে অত্যাচারিত দেখে আসছে। সম্ভবত সেই কারণেই বড় মেয়েকে সিন্ধুর কাছে ফেরত দিতে রাজি হয়নি তাঁর স্বামী, শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু আদালতের নির্দেশে দুই সন্তানই এখন মায়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

যদিও সিন্ধুর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন বিচাপতি। তাঁর দাবি, মানসিক অবসাদে ভোগার ফলে প্রায়ই আত্নহত্যার চেষ্টা করতেন সিন্ধু। ঘটনার দিনও তিনি সেটাই করতে গেছিলেন। তাঁকে বাঁচাতেই সবাই মিলে ধরে রেখেছিলেন। কোনোদিনই কোনও অত্যাচার করা হয়নি সিন্ধুর সঙ্গে। তাদের আরও অভিযোগ, ওই দিন নিজের পোশাকের নীচে বিষাক্ত কীটনাশক লুকিয়ে রেখেছিলেন আত্মহত্যা করবেন বলে। ২০১২-য় বিয়ের পর থেকেই সিন্ধুর নাকি লক্ষ্য ছিল সমস্ত সম্পত্তি নিজের দখলে আনার। সেই লক্ষ্যে পৌঁছোতে না পেরেই এখন শ্বশুরবাড়ির সবার নামে মিথ্যে অভিযোগ আনছেন। শুধু মুখের কথায় নয়, সিন্ধুকে প্রমাণ করতে হবে কীরকম শারীরিক-মানসিক নিগৃহ সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে।



পশ্চিমবঙ্গের খবর, কলকাতার খবর , আর রাজনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি, বলিউড আর ক্রিকেটের সকল বাংলা শিরোনাম পড়তে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

NDTV Beeps - your daily newsletter

................................ Advertisement ................................

................................ Advertisement ................................

................................ Advertisement ................................