‘সংসার সীমান্তে’ পৌঁছে থামলেন ‘রাজা’, স্তব্ধ সাধের ‘হারমোনিয়াম‘

তাপস পালের মতো সন্তু মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবনও শুরু তরুণ মজুমদারের হাত দিয়ে। পরিচালকের 'সংসার সীমান্তে' প্রয়াত অভিনেতার প্রথম বাংলা ছবি।

‘সংসার সীমান্তে’ পৌঁছে থামলেন ‘রাজা’, স্তব্ধ সাধের ‘হারমোনিয়াম‘

সংসার সীমান্তে পৌঁছে স্তব্ধ রাজা

কলকাতা:

১৯৫১ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন সন্তু মুখোপাধ্যায় (Santu Mukhopadhyay)। ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে কেটেছিল তাঁর স্কুল জীবনের প্রথম পর্ব। এরপর তিনি ভর্তি হন পদ্মপুকুর ইনস্টিটিউশনে। সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি পড়াশোনার দুনিয়া থেকে সরে এসে নাচের তালিম নেন গোপাল ভট্টাচার্যের কাছে। অভিনয়ের পাশাপাশি চমৎকার গানও গাইতেন সন্তু। রবীন্দ্রসঙ্গীতেও তালিম ছিল তাঁর। অভিনেতার স্ত্রী গোপা মুখোপাধ্যায় ২০১৭-য় পুজোয় চিরবিদায় নেন। 

সন্তু মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় জীবন শুরু ১৯৭৫-এ, তপন সিংহের 'রাজা' ছবি দিয়ে। যদিও তাঁর প্রথম অভিনয় তরুণ মজুমদারের 'সংসার সীমান্তে'তে। এরপর তিনি অভিনয় করেছেন গৌতম ঘোষের মতো জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালকের ছবিতে। মহানায়ক উত্তরকুমারের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন 'দেবদাস', 'খনা বরাহ', 'কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী'-তে। এর মধ্যে শেষ ছবির পরিচালক ছিলেন স্বয়ং মহানায়ক। পরে প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বাঙালির মন জয় করেছেন বরিষ্ঠ অভিনেতা। জনপ্রিয় ছবির তালিকায়---- হারমোনিয়াম, চাঁদের কাছাকাছি, গণদেবতা, ভালোবাসা ভালোবাসা, পম্পা ইত্যাদি। সন্তু মুখোপাধ্যায়কে শেষ দেখা গেছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, শৈবাল মুখোপাধ্যায় পরিচালিত 'সাঁঝবাতি'তে। তার ঠিক আগেই তাঁকে দেখা গেছে নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গোত্র ছবিতে। দুটি ছবিই দর্শক প্রসংশিত।

ছোটপর্দার মাধ্যমে দর্শকের অন্তরে সন্তু মুখোপাধ্যায়ের ছিল নিত্য আনাগোণা। জন্মভূমি, অন্দরমহল, কুসুমদোলা, ইষ্টিকুটুম-এ তাঁর অভিনয় অবিস্মরণীয়। তাঁর শেষ কাজ মোহর। জানুয়ারি পর্যন্ত অসুস্থতার মধ্যেও কাজ করেন তিনি। সন্তু মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে অবসান বাংলা চলচ্চিত্র দুনিয়ার একটি যুগের। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস প্রবীণ অভিনেতাকে শেষশ্রদ্ধা জানান তাঁর বাড়িতে গিয়ে। সন্তু মুখোপাধ্যায়ের ভাই সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ও অভিনয় দুনিয়ায় জনপ্রিয় নাম।