অসমের নাগরিকপঞ্জী অভ্যন্তরীণ বিষয়, চোখ খোলা রাখছি, বলল বাংলাদেশ

NRC: সরকারি সূত্রের খবর, ভারতের তরফে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছে, এনআরসি প্রকাশ করা আদালতের পর্যবেক্ষণে হয়েছে

অসমের নাগরিকপঞ্জী অভ্যন্তরীণ বিষয়, চোখ খোলা রাখছি, বলল বাংলাদেশ

India Bangladesh Talk: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

নয়াদিল্লি:

অসমে জাতীয় নাগরিক তালিকা (Assam NRC)  প্রকাশ করা দেশে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বাংলাদেশকে (Bangladesh)  জানিয়েছে ভারত, তবে পরিস্থিতির অগ্রগতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানাল বাংলাদেশ। সেদেশের বিদেশসচিব শহিদুল হক জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার সময়, এনআরসির (NRC) প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন শেখ হাসিনা,( Sheikh Hasina) তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের বিদেশসচিব বলেন, “আমাদের বলা হয়েছে, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের সম্পর্ক এখন খুবই ভাল। তবে এখন আমরা চোখ খোলা রাখছি”। দীর্ঘদিনের বিবিআইএন মোটর ভেইক্যালস চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের  বিদেশসচিব বলেন, যদি ভুটান না আসে, তাহলে এগিয়ে যাওয়া উচিত, নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভারতের।

বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালের মধ্যে পরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করতে বিবিআইএন মোটর ভেইক্যালস চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। 

বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে বার্তা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সে প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিদেশসচিব বলেন, “এই অবস্থায় আমাদের সঙ্কট তৈরি করা উচিত নয়, এবং আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে”।

সরকারি সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, ভারতের তরফে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিকপঞ্জী প্রকাশ করা আদালতের পর্যবেক্ষণে হয়েছে এবং পরিস্থিতির চূড়ান্ত চিত্র এখনও সামনে আসেনি।

বাংলাদেশের বিদেশসচিব বলেন, এই অবস্থায় চিন্তিত নয় বাংলাদেশ। তাঁর কথায়,”আমরা মনে করি, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, প্রত্যক্যেই এই তালিকায় রয়েছে, তা নিশ্চিত করতেই এনআরসি প্রকাশ করা হয়েছে”।

অসমে বাস করা ভারতীয় নাগরিকদের চিহ্নিত করতে, তার আগে, রাজ্যে বসবাস করা অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে, ১৯৭১ এর ২৪ মার্চ জাতীয়  নাগরিকপঞ্জী তৈরি করা হয়।

৩০ অগস্ট প্রকাশ করা এনআরসির  চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে ১৯  লক্ষ্যের বেশী  মানুষের নাম।  মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৩.৩. কোটি।

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায়, নিউইয়র্কে গতমাসে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সময় এনআরসির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এনআরসি প্রকাশিত হওয়ার পর, বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, যেসমস্ত মানুষ  তালিকার বাইরে রয়ে গিয়েছেন, তারা কেউ “দেশহারা” হবেন না, এবং আগের মতোই সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন, পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ করতে পারবেন।

আমেরিকা ও মেক্সিকোর সঙ্গে তুলনা তুলে ধরে বাংলাদেশের বিদেশসচিব শহিদুল হক বলেন, “মানুষের চলাফেরা একটি অন্তর্জাতিক ইস্যু। প্রতিবেশী দেশে মানুষের যাওয়া, সবসময়েই ইস্যু”।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে, তিনি জানান, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে বিতাড়িত মানুষের মানবিকভাবে পাশে থেকে তাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর, একটি যৌথ সাংবাদিক বিবৃতিতে বলা হয়, কক্সবাজারে অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার মানবিক চেষ্টার প্রতি পঞ্চম দফায় ভারত মানবিকভাবে সমর্থন জানাবে।

বাংলাদেশের বিদেশসচিব বলেন, কোনও রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটকে রাখেনি বাংলাদেশ, মায়নামারে ফিরে যেতে চাইলে, তাদের যে কেউ যেতে পারে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঘরছাড়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা চান দুই প্রধানমন্ত্রী। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতিসহ তাদের ফিরিয়ে দেওয়া, নিয়ে একমত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।