This Article is From Mar 20, 2020

টালবাহানা কাটিয়ে ধর্ষকদের ফাঁসি, মুখ খুললেন অতনু-জুন-পায়েল-পরম

NDTV-র কাছে অনর্গল পরিচালক অতনু ঘোষ, অভিনেতা জুন মালিয়া, পায়েল সরকার এবং অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। আজ এঁরাই জনতার মুখ----

টালবাহানা কাটিয়ে ধর্ষকদের ফাঁসি, মুখ খুললেন অতনু-জুন-পায়েল-পরম

NDTV-র কাছে অনর্গল টলিউডের চার সেলেব

কলকাতা:

সাত বছরের প্রতীক্ষা শেষ। স্বস্তি নির্ভয়ার (Nirbhaya Case) পরিবারের। বহু টালবাহানা, আইনি গেরো কাটিয়ে শুক্রবার ভোরে ফাঁসি হল নির্ভয়া কাণ্ডের চার মূল অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুর, পবন গুপ্তা, বিনয় শর্মা ও মুকেশ সিংয়ের। সারা দেশের সঙ্গে বাংলা সিনেমার সেলেবরাও যেন ২০ জানুয়ারির প্রতীক্ষায় ছিলেন। তাঁদের অনুভূতি কী? দীর্ঘ সময় ধরে আইনি কাজ কতটা যুক্তিযুক্ত? আদৌ কি এতে সজাগ হবে অপরাধীরা? NDTV-র কাছে অনর্গল পরিচালক অতনু ঘোষ (Atanu Ghosh), অভিনেতা জুন মালিয়া (June Maliya), পায়েল সরকার (Payel Sarkar) এবং অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chottopadhyay)। আজ এঁরাই জনতার মুখ----

‘একটা সময় হতাশা আসছিল' (অতনু ঘোষ, পরিচালক)

তাঁর ‘ময়ূরাক্ষী', ‘বিনিসুতো', ‘রবিবার'-এর মতো ছবিতে বারবার উঠে এসেছে মানুষের মন, সমাজের অবস্থান। নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি কতটা স্বস্তি দিল এমন সংবেদনশীল জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক অতনু ঘোষকে? অতনু উবাচ, ন্যায় পেতে সাত বছর সময় লেগে গেল! ভাবতে অবাক লাগে স্মৃতি রোমন্থন করলে। সেই-ই ফাঁসি কার্যকর হল, বড্ড দেরিতে। এতটা সময় বোধহয় নেওয়া উচিত নয়। সমাজে উদাহরণ তৈরি করতে এটা অ-নে-কটা সময়। বিশেষ করে এই ধরনের অপরাধ বা অপরাধীদের ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় কথা, আইনের ফাঁক গলে যেভাবে বারবার পালানোর সুযোগ খুঁজেছিল ধর্ষকেরা যে শেষের দিকে হতাশা গ্রাস করছিল। আদৌ শাস্তি পাবে তো! মনে হচ্ছিল। এই জায়গাটাও দেখা দরকার। এটাও কাম্য নয়। এমনিতেই ভারতীয় আইন, মামলা-মোকদ্দমা মানেই ‘তারিখ পে তারিখ, তারিখ পে তারিখ।‘ সবাই জানেন সেটা। ফলে, এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে হয়ত বাঁচার জন্য একসময় মরিয়া হয়ে ওঠে অপরাধী। ভাবে, আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেলেও যেতে পারবে। এটা বন্ধ করা উচিত। সঙ্গে দরকার আইনের সংশোধন। গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের বিচার ফাস্ট ট্র্যাকে এনে যদি শেষ করা যায় তাহলেই একমাত্র নাড়া খাবে অপরাধমনস্কতা।

‘নির্ভয়া ধর্ষকদের ফাঁসি কিছুটা হলেও নাড়া দেবে বাকি অপরাধীদের': নীলাঞ্জনা সান্যাল

‘নির্ভয়ার পরিবারের কথা ভেবে খুব খুশি' (জুন মালিয়া, অভিনেত্রী, শিশু অধিকার কমিশনের সদস্য)

নির্ভয়া আর ওর পরিবারের সবার কথা ভেবে ভীষণ খুশি। একই সঙ্গে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হল। ইতিবাচক বার্তাও গেল সমাজের কাছে। এবার অন্তত অপরাধীরা বুঝুক, অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে। যদিও নির্ভয়ার ধর্ষকেরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে নিজেদের বাঁচাতে। তবু দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও যে শাস্তি হল, এটা ভেবেই স্বস্তি লাগছে। কারণ, ওরা যা করেছেন নির্ভয়ার সঙ্গে পশুও বোধহয় এত ঘৃণ্য আচরণ করে না। আবার কত অপরাধী বুক ফুলিয়ে সমাজের ঘোরে ঘৃণ্য কাজ করেও। তবে এই ধরনের মামলা ফাস্ট ট্র্যাকে হওয়া উচিত। আগামী দিনে যাতে সেটা হয়, এই কামনা করছি আন্তরিক ভাবে।

'লিঙ্গভেদ সবার আগে মোছা দরকার' (পায়েল সরকার, অভিনেতা)

সবটাই হল। কিন্তু ভীষণ দেরিতে। তবু স্বস্তি, শেষপর্যন্ত হল। ফাঁসির সাজা আসতেই সাত বছর কেটে গেল। তারপরেও শাস্তি এড়াতে কয়েক মাসের টানাপোড়েন। সভ্য দেশে কি এটাই হওয়া উচিত? সত্যিই ভাবতে খারাপ লাগছে, এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলা শেষ হতে এতটা সময় লেগে গেল। তারপরেও আশা, হয়ত এবার টনক নড়বে অপরাধীদের। এমন কাজ করার আগে দু'বার ভাববে। মেয়েদের পণ্য ভাবাটাও বন্ধ করতে হবে। এর জন্য সবার আগে দরকার লিঙ্গভেদ মোছা। তার জন্য সচেতন করতে হবে বা হতে হবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। নির্ভয়ার মতো আরও প্রচুর ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে দেশে। তাদেরও এবার সাজা পাওয়া উচিত। ভাবা যায়, কী নিদারুণ মানসিক-শারীরিক-আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে কাটালেন নির্ভয়ার মা-বাবা পরিবার! 

"ন্যায়ের জয় হয়েছে", নির্ভয়া আসামিদের ফাঁসির প্রসঙ্গে বললেন প্রধানমন্ত্রী

যা শাস্তি পাওনা সেটাই পেল এরা (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক-অভিনেতা)

মানসিক দিক থেকে এই শাস্তি নিয়ে কিছুটা হলেও আমি দ্বিধাবিভক্ত। দেখুন, চার অভিযুক্ত যা করেছে তা নিঃসন্দেহে চরমতম ঘৃণ্য কাজ। এবং তার সাজা কঠোরতমই হওয়া উচিত। পাশাপাশি, এই নিয়েও কিন্তু তর্ক উঠতে পারে, সভ্য সমাজে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হওয়া উচিত কিনা। নির্ভয়া একা নন, কাঠুয়া থেকে শুরু করে দেশে দিকে দিকে ছড়িয়ে এই ধরনের পাশবিক আচরণের উদাহরণ। এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসলে প্রচণ্ড রাগ-ক্ষোভ থেকে প্রথমেই সবার মতো আমারও মনে হয়, মৃত্যু এদের যোগ্য শাস্তি। অস্বীকার করি করি করে! একই সঙ্গে মনে হয়, বিচারব্যবস্থা এই জন্যেই তো রয়েছে যাতে অপরাধের বিচার হয় এবং অপরাধীকে সংশোধন করা যায়। যদিও এই সমস্ত মানুষগুলো আদৌ সংশোধনযোগ্য কিনা, সেবিষয়েও সন্দেহ আছে। ফলে, এদের যা শাস্তি পাওনা সেটা সাত বছর পরে হলেও পেল এরা। অনেকেই বলছেন, অনেক সময় লাগল। আমার মতে, অবশ্যই আরও দ্রুত হওয়া উচিত বিচারব্যবস্থা। তবে সমস্ত আইনি দিক মেনেই যেন বিচার হয়।