This Article is From Mar 04, 2020

দিল্লি হিংসায় আক্রান্ত অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানের জন্য এল সাহায্য

আশিস মহম্মদ (Aish Mohammad) ২২ বছর সিআরপিএফে চাকরি করেন এবং ২০০২ সালে হেড কনস্টেবল হিসেবে অবসর নেন

আশিস মহম্মদ জানান, নিজের জীবন ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি

নয়াদিল্লি:

কাশ্মীরেও কাজ করেছেন সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ান হিসেবে, বাহিনীতে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে অবসর নেন আশিস মহম্মদ (Aish Mohammad), গত সপ্তাহে দিল্লিতে হিংসায় (Delhi Violence) আক্রান্ত হয় তাঁর বাড়িও। উত্তর পূর্ব দিল্লির (Northeast Delhi) মুস্তাফাবাদের একটি ত্রাণ শিবির থেকে NDTV কে তিনি বলেছিলেন, “আমার মনে হচ্ছে, এই দেশের আমার আর বাস করার কোনও অধিকার নেই”। সোমবার তাঁর সেই করুণ পরিণতির কাহিনী তুলে ধরা হয়, মঙ্গলবার NDTV এর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর খোঁজ করে সিআরপিএফ। মঙ্গলবার রাতে, জরুরি ত্রাণ হিসেবে তাঁকে ২০,০০০ টাকা দেয় তারা।

বুধবার, নয়াদিল্লিতে সিআরপিএফের সদর দফতরে আসিফ মহম্মদকে ডেকে পাঠানো হয় এবং বাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ১১ লক্ষ টাকা দেন সিআরপিএফের ডিজি এপি মহেশ্বরী।

আশিস মহম্মদ (Aish Mohammad) ২২ বছর সিআরপিএফে চাকরি করেন এবং ২০০২ সালে হেড কনস্টেবল হিসেবে অবসর নেন। উত্তর পূর্ব দিল্লিতে তাঁর বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়

আশিস মহম্মদ NDTV কে বলেন, “২০০-৩০০ জন সংঘর্ষকারী এসে পাথর ছুঁড়তে থাকে, গুলিও চালায় এবং বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়”। তিনি আরও জানান, “২৯ মার্চ আমার ভাইঝির বিয়ে., ফলে সমস্ত গয়না রাখা ছিল, সেগুলিও লুঠ করে নিয়ে গিয়েছে তারা”। আশিস মহম্মদ এবং তাঁর ছেলের দুটি বাইকও ভাঙচুর করা হয়।

বুলন্দশহরে পরিবারকে পাঠিয়ে দেন ওই অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান। নিজে একটি ত্রাণ শিবিরে থেকে যান এবং বাড়িতে বেঁচে যাওয়া বাকি জিনিসপত্র রক্ষা করতে থাকেন।

বুধবার আশিস মহম্মদ জানান, তিনি আবার জীবন ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

চোখে জল নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সিআরপিএফ জওয়ান আশিস মহম্মদ বলেন, “যেভাবে সিআরপিএফ আমায় সাহায্য  করেছে, যদিও তাদের সঙ্গে আমি বহু বছর ছিলাম, আমার মনে হচ্ছে আমি আবার আমার পরিবার ফিরে পাব। আমি আবারও বাড়ি তৈরি করব এবং সেখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাব। আমাদের এলাকার মানুষ সৌভ্রাতৃত্বের সঙ্গে বসবাস করে। সেদিন আমায়  বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন হিন্দু প্রতিবেশী”।

সিআরপিএফের কম্যাডান্ট পিকে জোহরি NDTV কে বলেন, “আপনাদের চ্যানেলে এই খবরটি আমরা দেখি এবং আপনাদের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি”।

বিষয়টি খতিয়ে দেখেন সিআরপিএফ প্রধান মহেশ্বরী, এবং ত্রাণের পরিকল্পনা করেন। তিনি বলেন, “মানুষটি তাঁর জীবনের বহু বছর সিআরপিএফকে দিয়েছেন। এই সর্বনিম্নটুকু আমরা করতে করতে পেরেছি। আমাদের কর্মীরা তাঁর বাড়ি তৈরির কাজে সাহায্য করবেন”।