সব রাজ্যকে CAA বাতিলের প্রস্তাব আনতে আর্জি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সব রাজ্যকে CAA বাতিলের প্রস্তাব আনতে আর্জি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

CAA-র প্রতিবাদে নিয়মিত জনসভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (CAA) প্রতিবাদে নিয়মিত জনসভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যে এই আইন এবং প্রস্তাবিত এনআরসি ও এনপিআর কার্যকর হতে দেবেন না বলেও জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘আমি উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বিরোধী শক্তি শাসিত রাজ্যগুলিকে আর্জি জানাচ্ছি এনপিআর শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারগুলির উচিত এটি ভাল করে পড়ে দেখে নেওয়া। আমি সব রাজ্যকে সিএএ-র বিরুদ্ধে বাতিলের প্রস্তাব পেশ করতে আবেদন জানাচ্ছি।'' প্রসঙ্গত, এরই মধ্যে কেরল ও পঞ্জাব সংশোধিত আইন বাতিলের প্রস্তাব পাস করেছে। কেরল সরকার দেশের প্রথম রাজ্য সরকার হিসেবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। পঞ্জাবের বিধানসভাতেও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের প্রস্তাব পাস হয়েছে। কেরলের পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে এই আইন তাদের রাজ্যে কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

দেশের প্রথম রাজ্য হিসাবে নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ কেরালা

পঞ্জাবের মন্ত্রী ব্রহ্ম মহিন্দ্রা বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, গত ডিসেম্বরে সংসদে পাস হওয়া নতুন নাগরিকত্ব আইন পঞ্জাব সহ দেশজুড়ে ক্ষোভ ও সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে। এই আইনকে ‘বৈষম্যমূলক' বলে অভিহিত করা হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, ‘‘এটা স্পষ্ট যে সিএএ দেশের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি, যা সংবিধানের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য, তার পরিপন্থী। ফলে কক্ষ থেকে সিএএ বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে ভারত সরকারকে। যাতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে কোনও বৈষম্যকে এড়ানো সম্ভব হয়। এবং ভারতের সমস্ত ধর্মীয় সংগঠনের জন্য আইনের সাম্য নিশ্চিত করা যায়।''

কেরলের পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পাস পঞ্জাবে

তার আগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেরল সরকার। কেরলের বাম সরকার নিজেদের আবেদনে জানিয়েছে যে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সাম্যের অধিকার সহ সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি তারা আরও বলেছে যে এই আইনটি সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতির পরিপন্থী।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী।

এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় আছড়ে পড়েছে। এ রাজ্যেও এই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।