উত্তরপ্রদেশে পুলিশ অফিসারের মৃত্যু ও হিংসার ঘটনায় অভিযু্ক্তের জামিন

গতমাসে বাকি সাতজন অভিযু্ক্ত জামিনে ছাড়া পায়। জেলের গেটের বাইরে তারা দক্ষিণ পন্থী সমর্থকদের তরফে ব্যাপক সম্বর্ধনা পায়

উত্তরপ্রদেশে পুলিশ অফিসারের মৃত্যু ও হিংসার ঘটনায় অভিযু্ক্তের জামিন

ডিসেম্বরে বুলন্দশহরে হিংসায় মৃত্যু হয় পুলিশ আধিকারিক সুবোধ কুমার সিং-এর

হাইলাইটস

  • ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার সিংকে পিটিয়ে মারতে মদত দেওয়ায় অভিযুক্ত যোগেশ রাজ
  • বজরং দলের নেতার জামিন মঞ্জুর করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট
  • গতমাসে অপর ৭ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর হয়
এলাহাবাদ:

ডিসেম্বরে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে (Bulandshahr) হিংসার ঘটনায় পুলিশ আধিকারিক সুবোধ কুমার সিং-এর (Subodh Kumar Singh) মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় বুধবার এক মূল অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করলল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মাহব গ্রামে গরুর মৃতদেহ পাওয়া নিয়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, সেই ঘটনায় প্রায় ৪০০ লোককে হিংসায় মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠে স্থানীয় বজরং দলের নেতা যোগেশ রাজের (Yogesh Raj) বিরুদ্ধে। ঘটনাচক্রে, অপর চার অভিযুক্ত, তারমধ্যে রয়েছে, বিজেপি যুব মোর্চার কর্মী শিখর আগরওয়ালও, গতমাসে জামিন পান, জেলের বাইরে বেরিয়েই গেটের সামনে দক্ষিণপন্থী সমর্থকদের তরফে ব্যাপক অভ্যর্থনা পায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মালা পরাচ্ছে এবং তাদের সঙ্গে সেলফি তুলছে। সমস্ত সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে, বিরোধীদের “তিলকে তাল না করার” জন্য বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

বুলন্দশহরে খুন হওয়া পুলিশ অফিসারের ফোন পাওয়া গেল প্রধান অভিযুক্তের বাড়ি থেকে

অভিযোগ, ৩ ডিসেম্বর, বুলন্দশহরের মাহব গ্রামে গরুর মৃতদেহ দেখতে পায় দক্ষিণপন্থী সংগঠনের সদস্যরা, তারপরেই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত হয়ে জড়ো হয় প্রায় ৪০০ জন, পাথর ছোঁড়া,  গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। একজন বিক্ষোভকারী এবং পুলিশ ইন্সপেক্টর সুবোধ কুমার সিং-এর মৃত্যু হয়।

ঘটনার একমাস পরে, ৩ জানুয়ারি যোগেশ রাজকে গ্রেফতার করা হয়। পরে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার পড়ে। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে “শুভেচ্ছা” জানিয়ে তার নামে পোস্টার এবং বিলবোর্ড দেয় বজরং দল এবং বিশ্বহিন্দু পরিষদ।

বুলন্দশহরের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন জনের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সিকিউটি অ্যাক্টে মামলা দায়ের

মার্চে, গণহত্যায় অভিযুক্ত ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ খারিজ করে দেয় উত্তরপ্রদেশের একটি আদালত। পাশাপাশি খুন, খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, এবং হিংসা ও অগ্নিসংযোগের মতো ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ দেয়।

গ্রেফতারি এড়িয়ে যায় যোগেশ রাজ এবং গোপন জায়গা থেকে ভিডিও প্রকাশ করে, অভিযোগ করে, তার প্রতি নরম মনোভাব রয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে লেখা খোলা চিঠিতে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগ করেন প্রায় ৮০ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলা। একইসঙ্গে দাবি করেন, “সরকারের মৌলিক নীতি, সাংবিধানিক নীতি এবং মানবিক সামাজিক আচরণ রক্ষা করতে বিজেপি সরকার “ব্যর্থ”।

More News