This Article is From May 02, 2019

সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির 'বিশেষ বিভাগ'-এ প্রথম লাবণ্য, জানুন তার কথা

“আমার মা সবসময় আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। বরাবরই করত। কখনওই আমার নিজেকে পাঁচজনের থেকে আলাদা বলে মনে হয়নি। মনে হয়নি যে, আমার শরীরে কোনও সমস্যা রয়েছে"।

সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির 'বিশেষ বিভাগ'-এ প্রথম লাবণ্য, জানুন তার কথা

এই ফলাফলের জন্য তার অভিভাবকদের কৃতিত্ব দিল লাবণ্য।

গুরগাঁও:

লাবণ্য বালকৃষ্ণন শুনতে পায় না। এই পৃথিবীর কোনও উচ্ছ্বাস বা অমোঘ বিপন্নতার কোনও শব্দই পৌঁছয় না তার কানে। কিন্তু, তাই বলে তো লড়াইটা থেমে থাকে না আর! বৃহস্পতিবার প্রকাশ পেল সিবিএসই'র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফল। সেখানে ৫০০'র মধ্যে ৪৮৯ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করল লাবণ্য। সংবাদসংস্থা আইএএনএস'কে সে বলছিল, “আমি নিজের রেজাল্টের খবরটি পেয়ে আনন্দ চেপে রাখতে পারিনি। এই খবরটি আমার আত্মবিশ্বাসকে অনেকটা বাড়িয়ে দিল। লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাসটা তো সবথেকে বেশি জরুরি”। দ্বাদশ শ্রেণিতে তার যে যে বিষয়গুলি ছিল, সেগুলি হল- ইংরেজি, সমাজবিদ্যা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, চারুকলা এবং হোম সায়েন্স। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ১০০'তে ১০০ নম্বর পেয়েছে লাবণ্য।

CBSE Result 2019: কেমন ফলাফল মন্ত্রী স্মৃতি ইরানী, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ছেলেদের?

৯৭৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছে লাবণ্য। কী করতে চায় এরপর সে? প্রশ্নের উত্তরে বছর ১৮'র মেয়েটি অল্প হেসে জানায়, “আমি আসলে ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। আমি বিষয়টিকে ভালোবাসি শুধু নয়, আমি আমর কেরিয়ারটাও গড়তে চাই এই বিষয়টির ওপর ভিত্তি করে। ভালো কেরিয়ার গড়তে গেলে ভালোবাসাটাও দরকার। নইলে ভবিষ্যতে কষ্ট পেতে হয় বলে মনে হয় আমার। আমি কোনওদিনই দিনে ৬ ঘন্টার বেশি পড়াশোনা করতাম না। তবে, আমি ওই ৬ ঘন্টা সারাবছর ধরেই পড়তাম। পরীক্ষার আগে জানপ্রাণ লড়িয়ে ১৪-১৬ ঘন্টা প্রতিদিন পড়ার নীতিতে কখনওই বিশ্বাস ছিল না আমার। প্রতিদিনের কাজটি একটু একটু করে প্রতিদিনই করে রাখলে তাহলে তো আর বছরের শেষে গিয়ে কোনও চাপ পড়ে না”।

Exclusive: দেশ সেরা হওয়ার আশা ছিল? এনডিটিভির মুখোমুখি সিবিএসইর যুগ্ম সেরা করিশমা আরোরা

তাঁর এই ফলাফলের জন্য লাবণ্য সবথেকে বেশি কৃতিত্ব দিতে চান তার অভিভাবক এবং তার বোনকে। সে যে স্কুলে পড়ে, সেই স্কুলেরই শিক্ষিকা তার মা। তার পড়াশোনার দেখভালও করে মা-ই।

“আমার মা সবসময় আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। বরাবরই করত। কখনওই আমার নিজেকে পাঁচজনের থেকে আলাদা বলে মনে হয়নি। মনে হয়নি যে, আমার শরীরে কোনও সমস্যা রয়েছে। মনে হয়নি যে, আমি কিছু করতে পারব না”।

শুনতে শুনতে বোঝা যায়, শব্দ তেমনভাবে শুনতে না পারলেও লড়াইয়ের ধ্বনিটি তার চেতনার ভিতরেই প্রবাহিত হয়ে চলেছে বরাবর।