This Article is From Jul 18, 2019

পাকিস্তানকে আবশ্যিকভাবে কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড পুনর্বিবেচনা করতে হবে, বলল আন্তর্জাতিক আদালত

ভারতের পক্ষে রায় দিয়ে, কুলভূষণ যাদবকে(Kulbhushan Jadhav) কনস্যুলার অ্যাক্সেস দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। ১৬-এর মধ্যে ১৫জনের রায় ভারতের পক্ষে।

“গুপ্তচরবৃত্তি”র অভিযোগে ২০১৬-এর মার্চে কুলভূষণ যাদবকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান (ফাইল)

ভারতের প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিক কুলভূষণ যাদবকে(Kulbhushan Jadhav) দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অতি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করতে পাকিস্তানকে, বুধবার রায়ে জানাল আন্তর্জাতিক আদালত। পাশাপাশি প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিককে কনস্যুলার অ্যাক্সেসও দিয়েছে তারা। আন্তর্জাতিক আদালত বলে, কুলভূষণ যাদবের (Kulbhushan Jadhav) মৃত্যুদণ্ড “ততক্ষণ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না, পাকিস্তান তাদের রায়,পুনর্বার খতিয়ে দেখা এবং পুনর্বিবেচনা করবে”। ভারতের অভিযোগের সঙ্গে একমত হয়ে আন্তর্জাতিক আদালত জানায়, সামরিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত নৌসেনা আধিকারিককে কনস্যুলার অ্যাক্সেস না দিয়ে ভিয়েনা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক আদালত বলে, “সাজার ওপরে স্থগিতাদেশ, সাজা এবং দণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনা করার অত্যাবশকীয় শর্ত”।

“সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়েছে”, কুলভূষণ নিয়ে প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর

হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে রায়দানের সময় আদালত বলে, তাঁর অধিকার সম্পর্কে কুলভূষণ যাদবকে (Kulbhushan Jadhav) জানায়নি পাকিস্তান।

রাষ্ট্রসংঘের আদালত বলে, “কুলভূষণ সুধীর যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ করা, আটক আবস্থায় তাঁর সঙ্গে দেখা করা এবং তাঁর জন্য আইনি পদক্ষেপ করার অধিকার থেকে ভারতকে বঞ্ছিত করেছে পাকিস্তান”।

মোট ১৬ জনের রায়ের মধ্যে ৫ জনের রায়ই ভারতের পক্ষে যায়। মাত্র একজন বিচারপতি ছিলেন পাকিস্তানের। এমনকী, চিনের বিচারপতিও ভারতের পক্ষেই রায় দেন, যা ইসালামাবাদের কাছে যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ।

এই রায়কে “পরিপূর্ণ জয়” বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের আধিকারিকরা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “কুলভূষণ যাদবকে(Kulbhushan Jadhav) কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। কোনও সন্দেহ নেই, এটা ভারতের বিশাল জয়”।

গ্রেফতার মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সঈদ, পাঠানো হয়েছে জেলে: পাক সংবাদমাধ্যম

কুলভূষণ যাদবকে(Kulbhushan Jadhav) নিয়ে পাকিস্তানের “বিচারের নামে প্রহসন”কে চ্যালেঞ্জ করে আন্তর্জাতিক আদালতে (ICJ) মামলা করে ভারত। আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের তরফে, কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত এবং ভারতের যাতে তিনি হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, সেই রায় দেওয়ার আর্জি জানানো হয়।

২০১৬-এর মার্চে ৪৯ বছর বয়সী কুলভূষণ যাদবকে (Kulbhushan Jadhav) গ্রেফতার করে পাকিস্তান। তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা তারা, যদিও তা খারিজ করে দেয় ভারত। একবছর পর, কুলভূষণ যাদবকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় পাকিস্তানের সামরিক আদালত। প্রাক্তন নৌসেনা আধিকারিকের মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণার একমাস পরে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে ভারত। ২০১৭-এর মে তে, সেই সাজায় স্থগিতাদেশ আসে। পাকিস্তান দাবি করে, ২০১৬-এর ৩ মার্চ বেলুচিস্তান থেকে তাদের নিরাপত্তাবাহিনী কুলভূষণ যাদবকে গ্রেফতার করে।

ভারতের পক্ষে রায় আন্তর্জাতিক আদালতের, কনসুলার অ্যাক্সেস পাবেন কুলভূষণ: ১০টি তথ্য

ভারতের তরফে বলা হয়, ভারতীয় নৌবাহিনী থেকে অবসরের পর, ইরানে ব্যবসার কাজে গিয়েছিলেন কুলভূষণ যাদব (Kulbhushan Jadhav) , সেখান থেকে তাঁকে অপরহরণ করা হয়।

আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানিতে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কুলভূষণ যাদবকে (Kulbhushan Jadhav) হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়ার অভিযোগ তোলে ভারত, যা ভিয়েনা কনভেনশনের পরিপন্থী।