কলকাতার একটি বাড়ি হতে চলেছে গান্ধি-যাদুঘর, এখানেই ১৯৪৭ সালে ছিলেন মহাত্মা

Kolkata: দেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক আগেই ১৯৪৭ সালের অগাস্ট মাসে বেশ কয়েকজন অনুগামীকে নিয়ে এই বাড়িতেই ছিলেন মহাত্মা গান্ধি

কলকাতার একটি বাড়ি হতে চলেছে গান্ধি-যাদুঘর, এখানেই ১৯৪৭ সালে ছিলেন মহাত্মা

Mahatma Gandhi: আগে হায়দারি মঞ্জিল নামে পরিচিত এই বাড়িটির পরে নামকরণ করা হয় 'গান্ধি ভবন' '

কলকাতা:

দুর্গাপুজোর সময়েই বাঙালির জন্যে শহরে নতুন পুরস্কার, একটি নতুন যাদুঘর পেতে চলেছে কলকাতা। ১৯৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের আগে আগেই কলকাতার বেলেঘাটা অঞ্চলের একটি বাড়িতে প্রায় ৩ সপ্তাহ ছিলেন মহাত্মা গান্ধি। সেই সময়ে তাঁর (Mahatma Gandhi)কিছু বিরল ছবি এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্রকে নিয়ে শহরে (Kolkata) তৈরি হল একটি গান্ধি স্মৃতি সংগ্রহশালা। আগামী ২ অক্টোবর একটি পূর্ণাঙ্গ যাদুঘর হিসাবে সর্বসাধারণের দর্শনের জন্যে উন্মুক্ত করা হবে সেটি। দাঙ্গাবাজদের শান্ত করার জন্য দেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক আগেই ১৯৪৭ সালের অগাস্ট মাসে বেশ কয়েকজন অনুগামীকে নিয়ে এই বাড়িতেই ছিলেন মহাত্মা গান্ধি।  "শহরে তখন আগুনে জ্বলছিল। গান্ধিজি ও তাঁর অনুগামীরা এই বাড়িটিতেই এসেই থাকেন তখন এবং সেই সময় ৩১ অগাস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের উপবাসেও বসেন এই বাড়িতেই। পরে দুই সম্প্রদায়ের নেতারা বাপুর কাছে এসে ক্ষমা চেয়ে তাঁর পায়ের কাছে অস্ত্র আত্মসমর্পণ করার পরেই গান্ধিজি ৪ সেপ্টেম্বর নিজের অনশন ভাঙেন। "পূর্ব কলকাতা গান্ধি স্মারক সমিতির একজন আধিকারিক জানান, যিনি ১৯৫০ এর দশকের শেষ দিক থেকে এই ভবনটি পরিচালনা করে আসছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও গান্ধিজিকে নিয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরব্যাপী প্রদর্শনী

তিনি আরও জানান, গান্ধিজি ও তাঁর অনুগামীরা ১৩ অগাস্ট, ১৯৪৭ সালে 'হায়দারি মঞ্জিল' নামে পরিচিত এই ভবনে চলে আসেন এবং দুটি ঘর নিয়ে সেইসময় থাকতে শুরু করেন। তবে ৪ সেপ্টেম্বর মহাত্মা গান্ধি এই ভবন থেকে চলে যাওয়ার পর, ভবনটির আর সেভাবে দেখভাল করা হয়নি।

পরে ১৯৮৫ সালের ২৮ অক্টোবর, রাজ্য সরকারের গণপূর্ত বিভাগ সেখানে সমিতির পরামর্শে কিছু রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে এবং এই ভবনের নতুন নামকরণ করা হয় ''গান্ধি ভবন''। তবে সেই সময় এটি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। ২০০৯ সালে, তৎকালীন রাজ্যপাল গোপাল কৃষ্ণ গান্ধি এই জায়গাটি পরিদর্শন করার সময় তিনি দেখভালকারী সমিতিকে মহাত্মার ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে ওই প্রদর্শনশালা খোলার পরামর্শ দেন।

২ অক্টোবর দিল্লিতে কংগ্রেসের পদযাত্রায় নেতৃত্বে দেবেন সনিয়া

সেই থেকেই এই ভবনটিকে সমিতি একটি ছোট '' যাদুঘর '' হিসাবে পরিচালনা করেছে যেখানে সবার দেখার জন্যে রয়েছে মহাত্মার ব্যবহৃত চরকা, টুপি,খড়ম, বালিশ এবং গদি সহ গান্ধিজির ব্যবহৃত বহু জিনিস।

২০১৮ সালে, রাজ্য সরকার পুরোপুরি এই ভবনটির দায়িত্ব নেয় এবং এটির ব্যাপক সংস্কার করা হয়। জাতির জনকের দেড়শতম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আগামী বুধবার এই সংস্কারকৃত ভবনটি রাজ্য় পরিচালিত যাদুঘর হিসাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

শুরু হয়ে গেছে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন, দেখুন ভিডিও: