যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাবুল সুপ্রিয়র ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাজ্যপালের কাছে যাচ্ছেন প্রাক্তনীরা

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬০০ প্রাক্তনী। শুধু তাই নয় দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন এই প্রাক্তনীরা।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাবুল সুপ্রিয়র ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাজ্যপালের কাছে যাচ্ছেন প্রাক্তনীরা
কলকাতা:

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়াকে ঘিরে হাতাহাতি ও ভাংচুরের ঘটনায় এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তনীদের প্রতিনিধিরা রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীপ ধানখরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন আজ, বুধবার। ১৬০০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ মঙ্গলবার দুপুরে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধানখর বুধবার বিকেলে তাঁদের সঙ্গে দেখা করার সময় দিয়েছেন। “আমরা সম্পূর্ণ ঘটনার নিন্দা করে রাজ্যপালকে চিঠি দেওয়ার পরেই আচার্য আমাদের সময় দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্থা, ওই ঘটনার সময় উপাচার্য এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর আচরণ, বহিরাগতদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ভাঙচুর এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এর শিক্ষার্থীদের কালিমালিপ্ত করার প্রচেষ্টার নিন্দা করছি আমরা। আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে আরও শ্রোতা চেয়েছিলাম,” বলেন তন্ময়।

বিতর্ক এড়াতে অনুষ্ঠান আয়োজনে কড়া নিয়ম আনতে চলেছে যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়

তিনি আরও জানান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পড়ুয়া ছিলেন তাঁরা রাজ্যপাল ধানখারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তাঁরা কীভাবে পুরো ঘটনাটি দেখছেন সেকথা তাঁকে জানাবেন। তাঁর কথায়, "আমরা নিশ্চিত যে তিনি আমাদের সমস্ত কথা মন দিয়ে শুনবেন।”

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬০০ প্রাক্তনী। শুধু তাই নয় দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন এই প্রাক্তনীরা। ১৯ সেপ্টেম্বরের পর থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নীচু করে দেখানোর এই সমস্ত অভিযোগের প্রয়াস নিয়ে বিরক্ত তাঁরা, জানান ওই প্রাক্তনী।

দুর্গাপুজোর কার্নিভালে গিয়ে খুবই অপমানিত, ব্যথিত আমি: রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলেন। এবিভিপি আয়োজিত নবীণ বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি সেমিনারে অংশ নিতে গিয়েছিলেন গায়ক তথা মন্ত্রী! সেই সময় বেশ কিছু ছাত্র তাঁকে ঘিরে বেশ কয়েক ঘন্টা স্লোগান দেয়, পরিস্থিতি উত্তুঙ্গে উঠলে সেখানে মন্ত্রীর সঙ্গে হাতাহাতিও হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ক্যাম্পাসে পৌঁছে কার্যত বাবুলকে ‘উদ্ধার' করে বের করে আনেন। এর পরে ক্যাম্পাসে সাইকেলের স্ট্যান্ডে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এবিভিপি কর্মীদের বিরুদ্ধে যাদবপুরের ক্লাসরুমে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্থ করারও অভিযোগ ওঠে।

এক প্রশ্নের জবাবে তন্ময় ঘোষ বলেন, প্রাক্তনীরা চান চ্যান্সেলর বা আচার্য হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পরিচালনা করুন রাজ্যপাল জগদীপ ধানখর। কিন্তু “আমাদের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিদিনের যে সমস্যাগুলি তা সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য বা কার্যনির্বাহী পরিষদ তথা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন আচার্যের নেই। সমাবর্তনে সম্মানসূচক ডি লিট এবং ডি এসসি প্রাপকদের নাম নির্বাচনও এর মধ্যেই পড়ে,” বলেন তন্ময়।



(এনডিটিভি এই খবর সম্পাদনা করেনি, এটি সিন্ডিকেট ফিড থেকে সরাসরি প্রকাশ করা হয়েছে।)
More News