কেউ আমাদের সীমান্ত পেরিয়ে ঢোকেনি; আমাদের ছাউনি অক্ষত আছে: নরেন্দ্র মোদি

জানা গিয়েছে, এই বৈঠকের প্রথম বক্তা ছিলেন সনিয়া গান্ধি

লাদাখ সংঘাত প্রশ্নে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

নয়াদিল্লি:

লাদাখ সংঘাত (Ladakh conflict) নিয়ে ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে (PM's all party meet) সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিল সব রাজনৈতিক দল (Congress-TMC-Shiv Sena)। এই বৈঠকে একমাত্র কংগ্রেসের তরফে মৃদু বিরোধিতা করা হয়েছিল। কংগ্রেস সভানেত্রী বাদে তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে কেন্দ্রের গৃহীত সিদ্ধান্তে সহমত পোষণ করেছেন। সীমান্তের চিনা আগ্রাসন প্রসঙ্গে কংগ্রেসের তরফে বার্তা গিয়েছিল, "এখনও আমরা অন্ধকারে"। সেই মোতাবেক বিবৃতিও জারি করে দল। জানা গিয়েছে, এই বৈঠকের প্রথম বক্তা ছিলেন সনিয়া গান্ধি। তিনি বলেন, "এই বৈঠক আরও আগে ডাকার দরকার ছিল। বিশেষ করে লাদাখে চিনা অনুপ্রবেশ নিয়ে অবগত হওয়ার পর সরকারের উচিত ছিল বৈঠক ডাকা। দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় সরকারের সিদ্ধান্তের পাশেই পাথরের মতো থাকবে গোটা দেশ।" এমনকি দেশের সামরিক বাহিনীর কর্মদক্ষতার প্রতি বিশ্বাস আছে কংগ্রেসের। এদিন এমন মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী। 

এদিকে, নানা ইস্যুতে কেন্দ্রের সমালোচনায় সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এদিনের বৈঠকে সরকারের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি বলেন, "এই বৈঠক থেকে একটা ঐক্যের বার্তা দেশের কাছে গেলো। গোটা দেশ জওয়ানদের পিছনে। এই সুবার্তা প্রচার করা গেল।" তিনি জানান, "আমরা এমন কথা বলবো না, যা থেকে ভুল বার্তা যাবে। প্রশ্ন তুলতে হলে অভ্যন্তরীণ ভাবে তুলব। চিনের কাছে মাথা নোয়াব না। সেখানে গণতন্ত্র নেই। অন্যদিকে আমাদের হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। চিনকে হারাতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে, ঐক্যের জন্য কাজ করতে হবে।"

গালওয়ান সংঘাতে লাল ফৌজের হাতে আটক ১০ জওয়ান ফিরে এসেছেন ভারতীয় শিবিরে। এই ১০ জনের মধ্যে ৪ জন সেনা আধিকারিক। সোমবার পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় হওয়া এই সংঘাতে ২০ জওয়ান শহিদ হয়েছেন, ৫০-এর বেশি জওয়ান জখম হয়ে চিকিৎসাধীন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর চিনের তরফে হতাহত প্রায় ৪৫। সেই ঘটনার পর থেকেই দ্বিপাক্ষিকস্তরে মেজর জেনারেল স্তরের বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের প্রস্তাবনা  মেনে ছাড়া হয়েছে সেই ১০ ভারতীয় জওয়ানকে। এমনটাই সূত্রের খবর। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে বলা হয়েছিল, সেদিনের সংঘাতে ভারতীয় তরফে কোনও জওয়ান নিখোঁজ নেই। প্রত্যেকেই শিবিরে ফিরেছেন। জানা গিয়েছে, কমবেশি ৭৬ জন জওয়ান জখম হয়ে চিকিৎসাধীন। সূত্রের খবর, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁরা ফের কাজে যোগ দিতে পারবেন। এদিকে, চিনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ""আমরা কোনও ভারতীয় জওয়ানকে আটকে রাখেনি।" সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন তিনি।  

এদিকে, সোমবার সন্ধেবেলা লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনার যে সংঘর্ষ বাঁধে তাতে শুধু যে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান মারা গেছেন তাই নয়, আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৭৬ জন। ভারতীয় সেনা আধিকারিকরাই NDTV-কে জানিয়েছেন একথা। তবে আশার কথা এটাই যে, ওই আহত জওয়ানদের শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল এখন। সীমান্ত সংঘর্ষের সময় আহত সেনাদের মধ্যে ১৮ জন লে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, বাকি ৫৬ জনের চিকিৎসা চলছে অন্যান্য হাসপাতালে। তবে তাঁরা যেভাবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন তাতে আশা করা হচ্ছে যে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজে যোগ দিতে পারবেন তাঁরা, জানিয়েছেন এক সেনা আধিকারিক।