“আমি ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান”: দুর্গাপুজোয় ঢাক বাজিয়ে বিতর্কের জবাবে বললেন নুসরত

কলকাতার চালতাবাগান দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী নিখিল জৈনের সঙ্গে দশমীর ঐতিহ্য ‘সিন্দুর খেলা’য় অংশ নিয়ে নুসরত বলেন, “বিতর্কগুলি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।"

“আমি ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান”: দুর্গাপুজোয় ঢাক বাজিয়ে বিতর্কের জবাবে বললেন নুসরত

তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান সিঁদুর খেলার ছবি শেয়ার করেন।

কলকাতা:

ধর্মে মুসলিম হয়ে দুর্গাপুজো (Durga Puja) উত্সবে অংশ নেওয়ার পরে উত্তর প্রদেশের একজন ইসলাম ধর্মীয় নেতার সমালোচনার মুখে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ (Trinamool Congress MP) নুসরত জাহান (Nusrat Jahan)। ওই নেতার আক্রমণের পালটা জবাবে নুসরত জানিয়েছেন যে তিনি ‘ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান' এবং এ ধরণের বিতর্কে তাঁর কিছু যায় আসে না। অভিনেত্রী-সাংসদ নুসরত বলেন, “আমি ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান। আমি সব উৎসব পালন করি। আমি সকলের ঊর্ধ্বে মানবতা ও ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা করি।” কলকাতার চালতাবাগান দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী নিখিল জৈনের সঙ্গে দশমীর ঐতিহ্য ‘সিন্দুর খেলা'য় অংশ নিয়ে নুসরত বলেন, “বিতর্কগুলি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।" 

Kolkata Traffic Update: শুক্রবার দুপুরে Durga Puja Carnival-এর জন্য কোন কোন রাস্তা বন্ধ থাকবে জানুন

সোমবার, ইত্তেয়াস ওলেমায়ে হিন্দ (Itehaas Ulema-e-Hind)-এর সহ সভাপতি মুফতি আসাদ কাসমি (Mufti Asad Kasmi) অভিনেত্রী তথা রাজনীতিবিদ নুসরতকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, নুসরত তাঁর কাজ দ্বারা ‘ইসলাম ও মুসলমানদের অপমান' করছেন। তাঁর নাম এবং ধর্ম পরিবর্তন করা উচিত।

7e19akug

মুফতি আসাদ বলেন, “এটি কোনও নতুন বিষয় নয়। যদিও ইসলাম তার অনুসারীদের কেবলমাত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার আদেশ দেয়, তা সত্ত্বেও তিনি হিন্দু দেবদেবীদের কাছে পুজো দিচ্ছেন। তিনি যা করেছেন তা ‘হারাম' (পাপ)।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি ধর্মের বাইরে বিবাহও করেছেন। তাঁর নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করা উচিত। ইসলামে এমন লোকের দরকার নেই যারা মুসলিম নাম ধরে রাখেন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের কলুষিত করেন।”

দুর্গাপুজো চলাকালীন, লাল শাড়ি পরে নুসরত জাহানকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে সুরুচি সংঘের মণ্ডপে ঢাক বাজিয়ে নাচতে দেখা যায়। নিখিল জৈনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এই দম্পতির একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, তাতে ক্যাপশনে নিখিল লেখেন, “এই প্রথমবার আমার অপরূপা স্ত্রীর সঙ্গে পুজোয় ঢাক বাজাচ্ছি।”

চালতাবাগানের দুর্গাপুজোয় স্বামীকে নিয়ে সিঁদুরখেলায় মাতলেন নুসরৎ জাহান

পুজোর পর সাংবাদিকদের নুসরত জাহান বলেন যে, তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই চেয়েছিলেন। “আমি মনে করি সকল ধর্মের প্রতি আমার সম্প্রীতির চিত্র তুলে ধরার নিজস্ব নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। বাংলায় আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা, আমি মনে করি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অনুসরণ করেই আমি সঠিকভাবে কাজ করছি। এখানে, আমরা সমস্ত ধর্মীয় উত্সবই উদযাপন করি,” বলেন নুসরত।

একই সুর নুসরতের স্বামীর কথাতেও, “আমি মনে করি ভারতের প্রতিটি নাগরিকের, তাদের ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সমস্ত ধর্মকেই গ্রহণ করা উচিত।” ধর্মনিরপেক্ষতার সমর্থনে এভাবে কাজ করার জন্য অনেকেই এই রাজনীতিবিদের প্রশংসা করেছেন, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ নুসরতের এই অংশগ্রহণের ব্যাপক প্রসংশা করেছেন।

বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীও এই তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদকে সমর্থন করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিষয়ে নীরবতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন। ২৯ বছর বয়সের বসিরহাটের সাংসদ নুসরত জাহানকে এর আগে হিন্দু বিবাহের প্রতীক পরা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।

More News