মদ্যপ মায়ের ছেড়ে যাওয়া সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়ে শান্ত করলেন হায়দরাবাদের কনস্টেবল

মহিলার দাবি, ওই সময় তিনি মদ্যপ থাকায় শিশুকে ঠিক কোন ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছিলেন তা মনে করতে পারছিলেন না কিছুতেই। পুলিশ ওই মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি তাঁর শিশু সন্তানকে চিহ্নিত করেন।

মদ্যপ মায়ের ছেড়ে যাওয়া সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়ে শান্ত করলেন হায়দরাবাদের কনস্টেবল

প্রিয়াঙ্কা বলেন, “আমি নিজেও তো এক ছোট্ট শিশুর মা, তাই আমি বুঝতে পারি ওর খিদে পেয়েছে বলেই এত কাঁদছে।

হায়দরাবাদ:

হায়দরাবাদের ওসমানিয়া জেনারেল হাসপাতালের কাছে মদ খেয়ে শিশুকে এক ব্যক্তির হাতে দিয়ে ভুলে চলে গিয়েছিলেন মা, খিদের জ্বালায় চিৎকার করে কাঁদতে থাকা শিশুটিকে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল পুলিশ।

পুলিশ জানায়, রবিবার রাতে মহিলা ওই শিশুকে অচেনা এক ব্যক্তির হেফাজতে রেখে দিয়ে জানান কিছুক্ষণ পরই তিনি ফিরে আসবেন। অনেকক্ষণ পরেও মহিলাকে ফিরে না আসতে দেখে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে নিজের বাড়ি নিয়ে যান এবং দুধ খাইয়ে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি তাঁর বন্ধু এবং আত্মীয়দের বিষয়টি জানালে তাঁরা শিশুটিকে আফজলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে।

দীর্ঘ শারীরিক অসুস্থতার শেষ নতুন বছরের শুরুতেই প্রয়াত অভিনেতা কাদের খান

রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কনস্টেবল এম রবিন্দর তাঁর স্ত্রীকে এবং অন্য একটি পুলিশ স্টেশনের একজন কনস্টেবলকে ফোনে পুরো ঘটনাটি জানান, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা, যিনি মহিলা কনস্টেবলও। পরে তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলে এসে শিশুটি স্তন্যপান করিয়ে শান্ত করেন।

কনস্টেবল প্রিয়াঙ্কা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, “আমি ফোন পাওয়ার পরে অবিলম্বে একটি ক্যাব বুক করে আফজলগঞ্জ পুলিশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হই, ওখানেই বাচ্চাটিকে নিয়ে আসা হয়েছিল"। তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও তো এক ছোট্ট শিশুর মা, তাই আমি বুঝতে পারি ওর খিদে পেয়েছে বলেই এত কাঁদছে। আমি অবিলম্বে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতেই সে শান্ত হয়ে যায়।"

পটনা বিমানবন্দরে আর ভিআইপি নন শত্রুঘ্ন সিনহা

পরে, শিশুটিকে পেটলাবুরজের সরকারি মাতৃত্ব হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ যখন মা'কে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল জোরকদমে তখনই চঞ্চলগুদা এলাকার কাছে একজন মহিলা কাঁদতে দেখেন তাঁরা। পরে ওই মহিলা সমস্ত ঘটনার ধারা বিবরণী দেন। মহিলার দাবি, ওই সময় তিনি মদ্যপ থাকায় শিশুকে ঠিক কোন ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছিলেন তা মনে করতে পারছিলেন না কিছুতেই। পুলিশ ওই মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি তাঁর শিশু সন্তানকে চিহ্নিত করেন।

যাচাই ও নিশ্চিতকরণের পর শিশুটিকে মহিলাকে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর হায়দরাবাদের সিটি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা কনস্টেবল দম্পতির প্রশংসা করেন। হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনারও এই মানবিক আচরণের জন্য দম্পতির প্রশংসা করেন।

বছর শেষের পার্কস্ট্রিট। জমজমাট ও জ্যাম-জমাট! দেখুন ভিডিও