আধ ঘন্টার বৃষ্টিতেই এলোমেলো কলকাতা, নিহত ১, ব্যাহত বিমান পরিষেবা

বাংলাদেশের উপর আছড়ে পরতে পারে সাইক্লোন ঝড়। তার জেরেই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আগামী দুদিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

বৃষ্টিতে জল জমে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

কলকাতা:

মিনিট তিরিশের প্রবল বজ্র বিদ্যুৎ (lightening strike) সহ বর্ষণ। তাতেই এলোমেলো শহর কলকাতা (Kolkata)। বাজ পড়ে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির। আহত ১৫ জন। বৃষ্টিতে দৃশ্যমানতার অভাবে বিমান চলালচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। জল জমেছে (water-logging)  কলকাতার (Kolkata) বিভিন্নপ্রান্তে। দুর্যোগের আশঙ্কায় পুরনিগম ও রাজ্য সরকারের তরফে কন্ট্রোল রুম (control room) খোলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পথে, বলে দাবি করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম  (Firhad Hakim)। স্ত্রী ও বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে এদিন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে (Victoria Meorial) এসেছিলেন সুজিত পাল  (Sujit Paul)। বিকেল নাগাদ বৃষ্টি (rain) আসতে তারা গাছের তলায় আশ্রয় নেন। নিমেষে বাজ পড়ে মৃত্যু হয় সুজিতের। আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কম সময়। কিন্তু মারাত্মক স্পেল বৃষ্টির। তার জেরেই এদিন শহরের নানাপ্রান্তে জল জমে বিপত্তি ঘটে। যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে যায়। কলকাতায় প্রবল যানজটের (traffic jams) সৃষ্টি হয়। গাছও ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে কলকাতা পুরনিগম কন্ট্রোল রুম চালু করে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) বলেন, ‘আধ ঘন্টার প্রচন্ড বৃষ্টিতে কলকাতার বেশ কিছু জায়গায় জল জমে যায়। পুরনিগম পাম্প দিয়ে জমা জল সরাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পথে। তবে পরে এই ধরণের বৃষ্টি হতে পারে। তাই সতর্ক থাকছি।'

বাংলাদেশের উপর আছড়ে পরতে পারে সাইক্লোন ঘূর্নি (cyclonic circulation)। তার জেরেই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে (Gangetic West Bengal) আগামী দুদিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর (met department)। ফলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে হাওয়া অফিসের তরফে। দফতরের অধিকারিক ডি বণিক বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘন্টায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।'

Newsbeep

কলকাতা পুরনিগমের কন্ট্রোল রুমের পর্যালোচনা অনুযায়ী, বেহালা, জিঞ্জিরাবাজার, মমিনপুর এলাকায় শুক্রবার বিকেলের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

গত দু'সপ্তাহ ধরেই দেশের বেশ কযেকটি রাজ্যে অতি বৃষ্টির জেরে বন্যা হয়েছে। কেরল, মহারাষ্ট্র, কর্নাটকে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২৭০। দুর্গত ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। মধ্যপ্রদেশও বন্যার কড়াল গ্রাসে। এই রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ৪০। বন্ধ স্কুল, কলেজ।