This Article is From Feb 18, 2020

‘দাদার কীর্তির জন্য তাপসের অডিশন নিয়েছিলাম আমিই’: সন্ধ্যা রায়

Tapas Paul Death: স্মৃতিরোমন্থনের অনুরোধ জানাতেই ভাঙা গলায় খেদ, ‘হে ভগবান! নিজের হাতে যাকে তৈরি করলাম, আজ তার সম্বন্ধে বলতে হবে আমাকে!’

‘দাদার কীর্তির জন্য তাপসের অডিশন নিয়েছিলাম আমিই’: সন্ধ্যা রায়

ভাইয়ের স্মৃতিতে অশ্রুসজল দিদি (ছবি প্রতীকী)

কলকাতা:

মুঠোফোনে ধরতেই গলায় একরাশ কান্না। ‘তাপস পাল (Tapas Paul) নেই', এই কথাটাই মানতে পারছেন না প্রাক্তন সাংসদ, অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায় (Sandhya Roy)। অভিনয় এবং রাজনীতির সুবাদে যিনি প্রয়াত প্রাক্তন-অভিনেতা-সাংসদের আক্ষরিক অর্থেই মাতৃসম দিদি। স্মৃতিরোমন্থনের অনুরোধ জানাতেই ভাঙা গলায় খেদ, ‘হে ভগবান! নিজের হাতে যাকে তৈরি করলাম, আজ তার সম্বন্ধে বলতে হবে আমাকে!' তারপরেই ভেজা গলায় ফিরে গেলেন ১৯৮০ সালে। তরুণ মজুমদারের ‘দাদার কীর্তি'র অডিশনের মুহূর্তে।

‘তাপসের অভাব অনুভব করব', টুইটে শোকবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

'আমরা তখন দাদার কীর্তির জন্য অডিশন নিচ্ছি। তখনই চন্দননগর থেকে অডিশন দিতে আসে তাপস। একনজরে ও চোখ টেনেছিল আমার পরিচালক স্বামী তরুণ মজুমদারে। প্রাথমিক কথা বলার পর তনুবাবু আমার হাতে তুলে দেন তাপসকে। বলেন, অডিশন নিয়ে দেখ। পাশ করলে নেওয়া হবে। কেদার চরিত্রের জন্য আমরা খুব সরল-নিষ্পাপ একটি মুখ খুঁজছিলাম। দেখলাম, আমরা যেমনটা চাই তেমনটাই তাপস। ওর মুখ, ওর হাসি দেখে এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে আর আমি দু-বার ভাবিনি। আমার দেখা যে ভুল নয়, তার প্রমাণ ছবির জনপ্রিয়তা। তনুবাবু আমায় দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাপসকে গড়েপিটে নেওয়ার। খুব খাটতে পারত। চন্দননগর থেকে রোজ আসত রিহার্সালে। মুখের হাসি কিন্তু কোনোদিন ম্লান হয়নি', জানালেন অভিনেত্রী।

nrfpg2hg

কান্না চাপা গলায় ফের সন্ধ্যার স্মৃতিচারণ, 'সেই শুরু। আমার কাছেই থাকত সেসময়। দাদার কীর্তির পর দিল্লি গেল। সব দেখেছি নিজের চোখে। এরপর অনেকগুলো বছর, মাস, দিন কেটে গেছে একসঙ্গে অভিনয় দুনিয়ায় পথ চলতে চলতে। আমার অভিনয় জীবন যদিও ওদের থেকে অনেক আগে। বলতেই পারি আমি ওর মাতৃসমা দিদি ছিলাম। একের পর এক অনেকগুলো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছি। ভালোবাসা ভালোবাসা, মঙ্গলদীপ, গুরুদক্ষিণা, ছোট বউ, আগমন, পথভোলা---কত নাম বলব! একবার যে কাজে হাতে রেখেছ সোনা ফলিয়েছে। মুম্বই, দিল্লি, কলকাতা, বড়পর্দা, যাত্রা অভিনয়ের কোনও আঙিনা বাদ রাখেনি সে। ভীষণ ভালো মানুষ ছিল। রাজনীতিতেও তাই চার বারের নির্বাচন জয়ী বিধায়ক, সাংসদ। তাপসের তুলনা তাপস নিজেই।'

চলে গেলেন তাপস পাল, ৬১-তে স্তব্ধ 'দাদার কীর্তি'

কিসের জোরে আট, নয়ের দশকে রুপোলি পর্দায় রাজত্ব করেছেন তিনি? অভিনেত্রীর দাবি, 'নিষ্পাপ মুখ, শিশুর মতো সরল হাসি। আর পাশের বাড়ির ছেলে হয়ে ওঠার মতো অভিনয়। তাপস ছিল নরম মাটির ঢেলা। যে চরিত্র দেওয়া হত, তাতেই সে মানিয়ে যেত। অভিনয় দুনিয়া সারা জীবন তাই মনে রাখবে তাপসকে। দাদার কীর্তিকে।'   

.