সীমানা সংঘাত প্রশমনে এস জয়শংকরের সঙ্গে চিনা বিদেশমন্ত্রীর টেলিফোনে কথা

১৯ তারিখ সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার সিডিএস-সহ ওই বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

সীমানা সংঘাত প্রশমনে এস জয়শংকরের সঙ্গে চিনা বিদেশমন্ত্রীর টেলিফোনে কথা

চিনা বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।

নয়াদিল্লি:

সোমবারের ইন্দো-চিন সংঘাতের (Indo-China Faceoff) দ্বিপাক্ষিক স্তরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ১৯ তারিখ সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বুধবার সিডিএস-সহ ওই বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি জন্য প্রস্তুত হতে বাহিনীকে আবেদন করেন রাজনাথ সিং। এদিকে, সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ুক, চায় না বেজিং। এই মর্মে বিবৃতি দিয়েছে তারা। তার মধ্যেই এদিন বিকেলে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই'র সঙ্গে বৈঠক করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (Foreign Minister S Jayshankar) টেলিফোন দুই মন্ত্রীর কথা হয়েছে। পিটিআই চিনা বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছে, "দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের গৃহীত প্রস্তাবনা মেনে চলা উচিত দুই রাষ্ট্রের।"

লাদাখে শহিদ ভারতীয় জওয়ানদের জীবন বৃথা যাবে না। অবশেষে মুখে খুলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চিনকে কড়া বার্তা পাঠাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ভারত শান্তি চায়। কিন্তু প্ররোচনা দিলে উপযুক্ত জবাব দিতে পারে ভারত।" তিনি জানিয়েছেন, দেশ শহিদ জওয়ানদের প্রতি গর্বিত। চিনের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁরা।" এদিন মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রস্তাবিত বৈঠক ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সেই বৈঠকের আগে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দু'মিনিট নীরবতা পালন করা সয়। এমনটাই পিএমও সূত্রে খবর। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি আশ্বাস দিতে চাই শহিদদের জীবন বৃথা যাবে না। সার্বভৌমত্ব আর একতা এখন আমাদের প্রাধান্য।" ইতিমধ্যে ১৯ জুন বিকেল পাঁচটায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী। লাদাখ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সেই বৈঠক হবে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান সেই বৈঠকে অংশ নেবেন।

সোমবার গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনা সেনার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সীমান্ত এলাকায়। ওই সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় সেনা জওয়ানদের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সব মিলিয়ে ভারত-চিন সীমান্তের উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। বুধবার সকালে সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতিতে প্রথমে একজন কর্নেল ও দুই ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং "উভয় পক্ষেই বেশ কিছু সেনা হতাহত" হয়েছে একথা বলা হয়। পরে আবার নতুন এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, আশঙ্কাজনক আরও ১৭ জনেরও মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে যে, ক্ষতি এড়াতে পারেনি চিনও। ওই সংঘর্ষে সেদেশে হতাহত কমপক্ষে ৪৩ জন জওয়ান। যদিও চিনের সেনা সূত্র থেকে এব্যাপারে কোনও নিশ্চিত বিবৃতি মেলেনি