পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জম্মু ও কাশ্মীরের গেলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদরা

European Union-এর দলটি সেনাবাহিনীর সদর দফতর পরিদর্শন করবে, সেখানে জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে বোঝানো হবে তাঁদের

দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন European Union-এর সাংসদরা

নয়া দিল্লি/ শ্রীনগর:

জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এদেশে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) একদল সাংসদ। আজ (মঙ্গলবার) সকালে জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) উদ্দেশ্যেও রওনা হন তাঁরা। ওই রাজ্য থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার পর থেকে (Article 370) দু'মাসেরও বেশি সময় ধরে জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যখন বিরোধীরা নানা প্রশ্ন তুলছেন, সেই সময়েই ওই উপত্যকা অঞ্চলের পরিস্থিত খতিয়ে দেখতে এ দেশে এলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদরা। ৫ অগাস্ট জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে সে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও বিভক্ত করার ঘোষণা করা হয়। সেই সময় থেকেই কড়া বিধিনিষেধ জারি রয়েছে ওই উপত্যকা অঞ্চল জুড়ে। সেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই প্রথম আন্তর্জাতির দল হিসাবে এ দেশে আসেন ওই সাসংদরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র ৩ জনই বাম বা উদারপন্থী দলের অন্তর্ভুক্ত। তারা সকলেই তাদের ব্যক্তিগত আগ্রহে ভারত সফর করছেন।

ইউরোপিয় ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যাহ্নভোজ অজিত দোভালের, আমন্ত্রিত তিন কাশ্মীরী নেতা

এই দলটি সেনাবাহিনীর সদর দফতর পরিদর্শন করবে বলে আশা করা হচ্ছে, সেখানে তাদের জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে বোঝানো হবে এবং সেখানেই তাঁরা মধ্যাহ্নভোজন সারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ওই সাংসদদের দুটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তাঁরা জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যবসায়ী, হাউজবোটের মালিক এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গেও দেখা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কাশ্মীর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ আশিক বলেছেন যে তিনি এখনও পর্যন্ত কোনও আমন্ত্রণ পাননি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদদের মধ্যে অন্যতম নাথন গিল সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেছেন যে, "বিদেশি প্রতিনিধি হিসাবে কাশ্মীরে গিয়ে পরিস্থিতি নিজেদের চোখে খতিয়ে দেখার জন্য়ে এটা আমাদের পক্ষে একটা ভাল সুযোগ"।অপর সদস্য থিয়েরি মেরিয়ানি বলেন, "আমরা কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখতে যাচ্ছি, অন্তত তাঁরা আমাদের কী দেখাতে চায় সেটা জানা যাবে"।

“গণতন্ত্রের অপমান”, জম্মু ও কাশ্মীরে বিদেশী প্রতিনিধিদের সফর নিয়ে মন্তব্য শশী থারুরের

সোমবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের পরে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে ভারতে স্বাগত জানিয়েছেন, পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ফলপ্রসূ সফর হওয়ার প্রসঙ্গে আশা ব্যক্ত করেছেন। এই প্রতিনিধিদলকে জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিভিন্নতার বিষয়টি আরও ভাল করে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে; তাঁরা এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও প্রশাসনের অগ্রাধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়েও মনোযোগ দেবেন"।

পাকিস্তানের নাম না দিয়েই প্রধানমন্ত্রী মোদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাংসদদের বলেন যে যারা সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে বা তাতে মদত জোগায় এবং সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসাবে ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

যদিও রাহুল গান্ধির মতো বিরোধী নেতারা এই সফর নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছেন। অগাস্টে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফেরৎ আসা ওই কংগ্রেস নেতা টুইট করেছেন: "ইউরোপের সাংসদরা জম্মু ও কাশ্মীর সফরে যেতে চাইলে তাঁদের স্বাগত জানানো হচ্ছে, অথচ দেশের সাংসদদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এটা খুব ভুল কাজ হচ্ছে"।

কংগ্রেসের আরেক সংসদ সদস্য শশী থারুর কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে "গণতন্ত্রের অপমান" বলে অভিহিত করেছেন।

More News