Election 2019

Elections 2019

All Your Questions Answered

Countdown To Results

    Elections 2019 All Your Questions Answered

    ৮০ কোটিরও বেশী মানুষ ভোট দেবেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি হয়ে গেলেই তা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন,২০১৪ নির্বাচনে, ৮৩.৪ কোটি ভোটদাতা ছিলেন।
    তবে যতজন মানুষ ভোট দেন, তার সংখ্যাটা অনেক কম।
    স্বাধীন ভারতে ২০১৪ সালে সবচেয়ে বেশী ভোট পড়েছিল, অর্থাৎ এ সংখ্যাটা ২৮ কোটি।
    কেন? ভোটারদের ভোট দেওয়ার ইচ্ছার অভাব থেকে শুরু করে অনেক কিছুই হতে পারে।

    লোকসভায় দেশজুড়ে ৫৪৩ জন প্রতিনিধি বাছাই করতে ভোট দাতারা।এবারের ভোটে নির্বাচিত হবেন ১৭ তম লোকসভার প্রতিনিধিরা।বৃহত্তর দল অথবা জোটের তরফে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হবে।
    লোকসভা সংসদের নিম্মকক্ষ, এবং রাজ্যসভা উচ্চকক্ষ।

    হ্যাঁ।ইতিহাস বলছে, রাজ্যের নির্বাচনে যে দল জয়ী হয়, সেই লোকসভা নির্বাচনে জেতে, যদি একবছরের মধ্যে দুটি ভোটই হয়।তবে, সম্ভাবনা কমে।
    এর অর্থ, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মিজোরাম, তেলেঙ্গানায় এর অর্থ, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মিজোরাম, তেলেঙ্গানায় ভোটের যে রেজাল্ট দেখা গিয়েছে গত বিধানসভা নির্বাচনে, লোকসভাতেও সেই ধারা বজায় থাকবে বলে আশা করা যায়।
    ভোটারদের প্রবণতা বোঝা যায়, স্থানী. নির্বাচনগুলিতেও।
    বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ তথা ব্রোকিংস ইন্ডিয়ার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ধ্রুব জয়শঙ্কর ২০১৮ সালে দেখিয়েছেন, বিগত বিধানসভা নির্বাচনের মতোই যদি সমস্ত মানুষ ভোট দেন, তাহলে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পাবে ২০৭ টি আসন---সংখ্যাগরিষ্ঠতা ২৭২।কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেতে পারে ১৬৩ টি আসন।

    নির্বাচনে কোন বিষয়গুলি মুখ্য হয়ে উঠবে তা আন্দাজ করা কঠিন। তবে বৃহত্তর অর্থে বলতে গেলে, এ বছরে নির্বাচনে, যে বিষয়গুলি আপনাদের জানা দরকার

    জাতীয় নিরাপত্তা
    পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা, যা পুলওয়ামা হামলা দিয়ে শুরু হয়েছিল, জাতীয় নিরাপত্তাকে সামনে এনে দিয়েছে এবং কেন্দ্রের সামনে একটি নির্বাচনী ইস্যু। পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা-পাকিস্তানের বালাকোটে বিমানহানা থেকে শুরু করে, জম্মু কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা মোতায়েনকে লক্ষ্য করে ইসলামাবাদের যুদ্ধবিমান পাঠানো—খুব গভীরভাবে দেখা হবে।যেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ উঠেছে, বড় সংখ্যায় হতাহতও হয়েছে, শাসকদলের তরফে বলা হয়েছে, সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনীকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

    কৃষক
    বিগত কয়েকমাসে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে ফসলের নায্য দামের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা, সেই মতো পরিকাঠামো ও পদ্ধতি তৈরির দাবি উঠেছে, পাশাপাশি জোরদার হয়েছে ঋণ মকুবের দাবিও।
    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রা মোদীর দেওয়া ২০২২-২৩ এর মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি,  এবং বিরোধীদের দেওয়া আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি, এর থেকেই বোঝা যায়, কৃষক ভোটের প্রয়োজন রয়েছে দুদিকেই।

    বেকারত্ত্ব
    রিপোর্টে পাওয়া গেছে, গত চার দশকে ভারতের বেকারত্ত্ব বেড়েছে, ২০১৮ সালেই শুধুমাত্র ১ কোটি কর্মসংস্থান কমেছে ভারতের।এটি নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু।
    জাত, ধর্ম ছাড়া, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্য সংরক্ষণের বিষয়টিকে তুলে ধরতে পারে বিজেপি, পাশাপাশি স্বনির্ভরতা এবং উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া, অন্য জায়গায় বিরোধীদের হাতে রয়েছে বেকারত্ত্বের পরিসংখ্যান এবং কয়েক কোটি চাকরি তৈরির নরেন্দ্র মোদীর প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে তারা।

    গরীবি
    বেকারত্ত্ব এবং কৃষকদের দুরবস্থা অন্যতম একটি বিষয়, গ্রাম্য এলাকায় গরিবী, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়ে কয়েকমাস আগে নির্বাচনের অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছিল।শাসক দল বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়েছে গ্রামীণ ভোটাররা।  তার মানে এই নয় যে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, তবে, কিন্তু গরীবি থেকে মানুষকে মুক্ত করতে সরকারের প্রচেষ্টা কতটা সেখানকার মানুষের  মনে দাগ কাটতে পারছে, তার অবশ্যই প্রভাব থাকবে।

    ব্যবসা
    জিএসটির মতো, ভারতীয় কর কাঠামোয় ওঠাপড়া, এবং নোট বাতিলের মতো পদক্ষেপ অবশ্যেই এবারে প্রভাব ফেলবে।
    বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে এটা দেশের অর্থনীতির জন্য ভাল, আসল প্রশ্নটা হল, ছোটো, মাঝারি ক্ষুদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী এবং মধ্যবিত্ত মানুষরা দলকে বিশ্বাস করবেন কিনা।

    দূর্নীতি
    কংগ্রেস নেতৃত্বের শেষের বছরে প্রকাশ্যে আসা দূর্নীতি র ওপরে আঘাত করা হয়েছে বলে প্রচার বিজেপির।সেখানে বিরোধীদের হাতিয়ার, রাফাল চুক্তি, তাদের অভিযোগ, পুঁজিপতিদের সুবিধা করে দিচ্ছে সরকার।

    রাম জন্মভূমি
    যে দেশে ৮০ শতাংশ, নির্বাচনের আবহে তাদের আরাধ্য দেবতা রামচজন্মভূমি।ফলে এবারের নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে রামজন্মভূমি।

    জাতীয়তাবাদ+উদারবাদ
    কোন নীতির ভোটাররা নিজেদের বেশী শক্তিশালী মনে করছেন, তা একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।বিগত কয়েকমাসে, অনেকেই রাজনৈতিক পরিচয়, বাক স্বাধীনতা এবং অসহিষ্ণুতা বেড়ে চলার অভিযোগ করেছেন।

    আদর্শ আচরণবিধি হল, একটি আচরণবিধি, যা প্রার্থী, এবং রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সরকারকেও মেনে চলতে হয়, অবাধ নির্বাচনের জন্য।ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন কাজ করতে পারে না সরকার, সেই সময়ে।
    ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়।

    ইভিএম হল একটি ইলেকট্রনি যন্ত্র, যাতে ভোট পড়ে।এর মধ্যে দুটি ইউনিট থাকে, একটি কন্ট্রোল ইউনিট এবং অন্যটি ব্যালট ইউনিট।
    ২০১০ সাল থেকে নির্বাচন কমিশনের  তরফে তৃতীয় এখটি ইউনিট যোগ করা হয়েছে যেটি হল ভিভিপ্যাট ইউনিট।যার মাধ্যমে একটি পেপার রিসিপ্ট  পাওয়া যায়, এর থেকে ভোটার বুঝতে পারেন, তাঁর ভোটটি ঠিক জায়গায় পড়েছে কিনা।আসন্ন সমস্ত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে এটি ব্যবহার করা হবে।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ইভিএম বিকৃত-রোধক এবং সঠিক।
    গত কয়েকবছরে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বেশীরভাগই যে সমস্ত দল ভোটে পরাজিত হয়েছে তাদের তরফে।
    এই নিয়ে গত বছরে একটি কর্মসূচী নেয় নির্বাচন, কিন্তু ভোটযন্ত্র নিয়ে অভিযোগ যায় নি।
    ভারতীয় নির্বাচনে অবাধ করে তুলতে, ইভিএম প্রত্যাহার করা হবে না।বিশেষজ্ঞদের মত, ব্যালট বক্সের থেকে ইভিএম হ্যাক অনেক কঠিন কখনও ব্যালট বক্স ভেঙ্গে দেওয়া, চুরির ঘটনা ঘটেছে।

    প্রথমবার ১৯৮২ সালে ৫০ টি  ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়, কেরলার পারুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে।পরে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ১৯৯৮ সালে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হয়।২০০৪ লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবার লোকসভা ভোট পুরোপুরিই ইভিএমে হয়।
    কোনও কোনও জায়গায় ১০ গুণ বেশী দ্রুততা রয়েছে ইভিএমের।যেখানে পেপার ব্যালটে একটি বিধানসভা কেন্দ্রে গণনা হতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০ ঘন্টা, সেখানেদু থেকে তিন ঘন্টায় গণনা হত ইভিএমে।

    নোটা মানে ওপরের কোনওটাই নয় হল একটি ভোট অপসন, যার মাধ্যমে কেন্দ্রের সব ভোটারকেই প্রত্যাখান করা যায়।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রথম ২০১৩ সালের অক্টোবরে নোটা ব্যবহার করা হয়।
    গত বছরের নির্বাচনে, গুজরাটে নোটা ভোট পড়ে, ১.৮ শতাংশ, সেখানে বিহারে সর্বোচ্চ ২.৪৮ শতাংশ।

    নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনও প্রার্থীর থেকে নোটায় বেশী ভোট পড়লে, সবচেয়ে বেশী ভোট যে প্রার্থী পাবেন, তিনিই জয়ী হবেন।

    আপনি যোগাযোগ করতে পারেন নির্বাচন কমিশনের অফিসে অথবা জাতীয় ভোটার পরিষেবা ওয়েবসাইট www.nvsp.in দেখতে পারেন।

    যদি আপনার ভোটার পরিচয়পত্র না থাকে, তাহলেও আপনি ভোট দিতে পারবেন সরকারের সচিত্র কোনও পরিচয়পত্র দেখিয়ে।সেগুলি হল:
    পাসপোর্ট
    ড্রাইভিং লাইসেন্স
    কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকার পরিচালিত সংস্থার কর্মচারীর সচিত্র পরিচয়পত্র থাকলে তা দিয়ে ভোট দেওয়া যায়।
    ব্যাঙ্ক অথবা পোস্ট অফিসের দেওয়া সচিত্র পাসবইও ব্যবহার করা যায়।
    প্যান কার্ড
    ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টারের আওতায় রেজিস্টার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার দেওয়া স্মার্টকার্ডও ব্যবহার করা যায়।
    নারেগা জব কার্ড
    শ্রমমন্ত্রকের দেওয়া স্বাস্থ্যবিমা স্মার্টকার্ড
    পেনশনের সচিত্র নথি
    ভোটের রশিদ
    সাংসদ, বিধায়কদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র
    আধারকার্ড
    এগুলি না থাকলে, ভোটার পরিচয়পত্রের জন্য আপনি অলাইন বা অফলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন।
    অফলাইনে  নাম নথিভুক্ত করতে হলে, আপনাকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে যেতে হবে এবং ৬ নম্বর ফর্ম ভর্তি করতে হবে।প্রয়োজনীয় বিশদ বিবরণ এবং নথি দেওয়ার পর, ফর্মটি জমা দিতে হবে, পরে যে কোনও তারিখে আপনাকে ভোটার পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
    জাতীয় ভোটার পরিষেবার www.nvsp.in. ওয়েবসাইটে আপনি অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করতে পারেন।

    হ্যাঁ। ভারতের যে কোনও বিধায়ক লোকসভায় লড়তে পারেন।যাইহোক, নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে বিধায়ক পদ ছাড়তে হবে তাঁকে।দুটি পদে থাকতে পারবেন না তিনি।

    হ্যাঁ।ভোটার লিস্টে নাম থাকলেই, আপনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আধারকার্ডকে পরিচয়পত্র হিসাবে ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবেন।

    হ্যাঁ। যদি অন্য কোনও দেশে নাগরিকত্ত্ব না নিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি ভারতে তাঁর এলাকার ভোটার হিসাবে গণ্য হবেন।

    একমাত্র যদি আপনি বাহিনীতে চাকরি করেন, সরকারী অফিসে চাকরি করেন, অথবা ভোটের কাজ করতে হয়, যদি রাজ্যের বাইরে আপনার পোস্টিং হয়, যদি আপনাকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয় তাহলে পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার করতে পারবেন।

    এটি হল যেখানে জয়ীর পক্ষে ঐতিহাসিক ভোট পড়ে।এই আসনে ভোট এবং গণনার দিন বোঝা যায়, কী হতে চলেছে।