মৃত্যু আতঙ্কে রাতভর দু'চোখের পাতা এক করতে পারেনি নির্ভয়া কাণ্ডের সাজাপ্রাপ্তরা

2012 Delhi Rape Case: শুক্রবার দিল্লির তিহার জেলে ফাঁসিতে ঝোলানো হল ৪ আসামিকে, দীর্ঘ ৭ বছর পর হয়তো শান্তি পেল চিরঘুমে চলে যাওয়া নির্ভয়ার আত্মা

মৃত্যু আতঙ্কে রাতভর দু'চোখের পাতা এক করতে পারেনি নির্ভয়া কাণ্ডের সাজাপ্রাপ্তরা

Nirbhaya Convict: শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় নির্ভয়া কাণ্ডের আসামিদের ফাঁসি দেওয়া হয় (ফাইলচিত্র)

হাইলাইটস

  • শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার সময় ফাঁসিতে ঝোলানো হয় নির্ভয়া কাণ্ডের আসামিদের
  • ৪ অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করার পরে তাদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্যে পাঠানো হয়
  • ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় দেশের বিচার বিভাগ ও সরকারকে ধন্যবাদ দেন নির্ভয়ার মা
নয়া দিল্লি:

শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই যেন সমাপ্তি হল এক অন্ধকারময় অধ্যায়ের (2012 Delhi Rape Case)। ফাঁসি আটকানোর হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত চরম সাজাই মেনে নিতে হল নির্ভয়া কাণ্ডের ৪ আসামিকে। দিল্লির এক প্যারামেডিকেল ছাত্রী, যে পরে পরিচিত হয় 'নির্ভয়া' নামে, তাঁকে গণধর্ষণ এবং তারপর নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগে ফাঁসিতে (Nirbhaya case) ঝোলানো হল অক্ষয় ঠাকুর (৩১), পবন গুপ্তা (২৫), বিনয় শর্মা (২৬) ও মুকেশ সিংকে।  দিল্লির তিহার জেলে এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় দীর্ঘ ৭ বছর পর হয়তো কিছুটা হলেও শান্তি পেল অসময়ে চিরঘুমে চলে যাওয়া নির্ভয়ার (Nirbhaya) আত্মা। অথচ ফাঁসি হওয়ার আগে দোষীরা তাদের চরম সাজা এড়াতে সমস্ত আইনি বিকল্প ব্যবহার করে ছিল, তবে অবশেষে ন্যায়বিচার পেল নির্ভয়ার পরিবার। জেল সূত্রে জানা গেছে, ফাঁসির আগে নাকি ভয়ঙ্করভাবে মৃত্যুভয় চেপে বসেছিল অপরাধীদের মনে। সেই মৃত্যুভয় এতটাই যে তারা সারা রাত ঘুমোতে পারেনি।

দীর্ঘ ৭ বছর পর ফাঁসিতে ঝোলানো হল নির্ভয়া কাণ্ডের ৪ আসামিকে

NDTV এও জানতে পেরেছে যে, শুধু অক্ষয়, পবন, বিনয় ও মুকেশই নয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে তিহার জেলে বন্দি প্রায় সব অপরাধীরাই জেগে ছিল। দিনের পর দিন ধরে চলা আইনি জটের গেরো পেরিয়ে আজ (শুক্রবার) ভোর সাড়ে ৫টায় ফাঁসিতে ঝোলানো হয় নির্ভয়া কাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ৪ অপরাধীকে। এই প্রথম দিল্লির তিহার জেলে একটি নির্দিষ্ট মামলায় একসঙ্গে ৪ অপরাধীর ফাঁসি হল, ভারতের ইতিহাসেও এই ঘটনা নজিরবিহীন। ৪ দোষীকে ফাঁসিতে ঝোলান জল্লাদ পবন।

জানা গেছে, ফাঁসির আগের রাতে গোটা তিহার জেলকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে রাখা হয়। সমগ্র জেল চত্বরই ফাঁসির আগের রাতে লকডাউন পরিস্থিতিতে ছিল। তিহার জেল সূত্রে খবর, এশিয়ার বৃহত্তম এই কারাগারের কোনও বন্দিই এদিন চোখের পলকের জন্যেও ঘুমাতে পারেনি। সবাই যেন প্রহর গুণছিল নির্ভয়া কাণ্ডের আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার জন্যে।

"আমি মেয়ের ছবিকে জড়িয়ে ধরেছিলাম": ৪ আসামির ফাঁসি কার্যকরের পর বললেন নির্ভয়ার মা

ফাঁসির আগে ৪ অপরাধীরই মেডিকেল চেক আপ করা হয়। ফাঁসি কার্যকর করার সাক্ষী ছিলেন কেবল ৫ জন।ফাঁসির সময় উপস্থিত ছিলেন কারা সুপারিন্টেন্ডেন্ট, ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট, মেডিকেল অফিসার আরএমও এবং এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট এবং আর একজন কারা-কর্মী। তাঁদের সামনেই ওই ৪ ঘৃণ্য অপরাধীকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে দেন জল্লাদ পবন। ফাঁসির কিছু সময় আগে নির্ভয়া মামলার আসামিদের স্নান ও প্রাতঃরাশের জন্যে বলা হলেও তারা স্নান বা খাওয়া কোনওটাতেই রাজি হয়নি। 

আজ (শুক্রবার) ঠিক ভোর সাড়ে পাঁচটায় ওই  চার আসামিকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ফাঁসি কার্যকরের পর আধঘণ্টারও বেশি সময় তাদের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। মৃ্ত্যু সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়ার পরে ওই ৪ জনের দেহ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয় এবং চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল মৃতদেহগুলি পরীক্ষা করে। এরপর দেহগুলি দীনদয়াল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্যে পাঠানো হয়।