ভারত-চিন বিবাদকে ঘিরে রাহুল গান্ধির কটাক্ষের জবাব কবিতায় দিলেন রাজনাথ সিং

এর আগে অমিত শাহ বলেন, উরি ও পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলার পর সার্জিক্যাল এবং এয়ার স্ট্রাইক করে ভারত দেখিয়েছে যে দেশের প্রতিরক্ষা নীতি কতটা শক্তিশালী

ভারত-চিন বিবাদকে ঘিরে রাহুল গান্ধির কটাক্ষের জবাব কবিতায় দিলেন রাজনাথ সিং

India-China Border Problem: রাজনাথ সিং জানান যে, ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার সমাধান নিয়ে সংসদে বিস্তারিত জানাবেন তিনি (ফাইল চিত্র)

হাইলাইটস

  • রাহুল গান্ধিকে মোক্ষম জবাব দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং
  • সোমবার ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন রাহুল
  • রাজনাথ জানিয়েছেন, সংসদে এব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন
নয়া দিল্লি:

ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা (India-China Border Problem) নিয়ে সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কটাক্ষ করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি। এবার বিরোধী দলের ওই নেতাকে (Rahul Gandhi)  রীতিমতো কাব্যিক ঢঙে জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। রবিবার এক ভার্চুয়াল র‌্যালি থেকে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, উরি এবং পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলার পরে সার্জিক্যাল এবং এয়ার স্ট্রাইক করে ভারত দেখিয়ে দিয়েছে যে দেশের প্রতিরক্ষা নীতি কতটা শক্তিশালী।তিনি একথাও বলেন যে, "ভারতের প্রতিরক্ষা নীতি সারা বিশ্বের সমীহ আদায় করেছে। পুরো বিশ্ব একমত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের পরে যদি নিজেদের সীমান্ত রক্ষা করতে সক্ষম কোনও দেশ হয় তবে তা হল ভারত"।

"সবাই জানে": অমিত শাহের "প্রতিরক্ষা মন্তব্য" নিয়ে রাহুল গান্ধির কটাক্ষ

এরপরেই টুইটারে কিংবদন্তি উর্দু-পার্সিয়ান কবি মির্জা গালিবের একটি কবিতার প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহকে কটাক্ষ করেন রাহুল গান্ধি। তিনি টুইট করেন, "প্রত্যেকেই 'সীমা' (সীমান্ত) তে কী ঘটছে সেই কঠিন বাস্তবটি জানেন। তবে মনকে খুশি রাখতে 'শাহ-ইয়াদ' একটা ভাল পরিকল্পনা"।

রাহুলের টুইটের কয়েক ঘন্টা পরে যেন অমিত শাহের হয়ে জবাব দিয়ে দেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। "যখন হাতে ব্যথা হয় তখন তার চিকিৎসা করুন, তবে যদি হাত নিজেই ব্যথা পেতে চায় তাহলে কী করা যাবে",  কংগ্রেসের প্রতীক 'হাত' এর ছবি তুলে ধরে সনিয়া পুত্রকে কটাক্ষ করেন পোড় খাওয়া ওই বিজেপি নেতা। আসলে বিখ্যাত কবি মনজার লখনভীর একটি কবিতা তুলে ধরে তিনি ওই মন্তব্য করেন।

ভারত-চিন সীমারেখার যে পাঁচটি এলাকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে পূর্ব লাদাখ তার মধ্যে অন্যতম। অভিযোগ গত ৫ মে ওই এলাকা দিয়েই ভারত-চিন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে চিনের সেনাবাহিনী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে তখনই জানানো হয় যে মোটরচালিত নৌকাগুলির সাহায্যে পানগং হ্রদে ঘোরাফেরা করছে চিনা সৈন্যরা। তারপরেই রুখে দাঁড়ায় ভারত।

ভারত এবং চিনের মধ্যে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা রয়েছে। ইদানিং সেই সীমান্ত এলাকাতেই দুই দেশের সেনার মধ্যে চাপানউতোর তৈরি হয়। ভারতের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে চিনা সেনাবাহিনী লাদাখ ও সিকিমের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি টপকে এদেশের জমিতে ঘাঁটি গাঁড়ার চেষ্টা করলে ভারতীয় সেনাবাহিনী তা রুখে দেয়। দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় চিনের তরফ থেকে প্রথমে ভারতকে দোষারোপ করা হয়। কিন্তু এদেশের পক্ষ থেকে চিনের দাবি নস্যাৎ করে বলা হয় যে ওই দেশের সেনাই সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

শান্তিপূর্ণভাবে ইন্দো-চিন সীমান্তে ফেরান হবে স্বাভাবিক পরিস্থিতি: বিদেশ মন্ত্রক

এরপরেই পূর্ব লাদাখের কাছে ভারত ও চিনের মধ্যে হওয়া সীমান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে বৈঠক হয়। ওই বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক জানায় যে, ভারত ও চিন "বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে সীমান্তবর্তী পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে" সম্মত হয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়েও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং টুইট করে জানান যে, "কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা সীমান্তে কী হচ্ছে সেই সম্পর্কে জানতে চাইছেন। আমি দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই এই বলে যে আমি সংসদে এবিষয়ে বিস্তারিত জানাব"।