This Article is From May 13, 2020

দাহ বা কবর দিতে এসে ব্যবহৃত পিপিই কিট যত্রতত্র ফেলে যাচ্ছে মৃতের পরিবার! বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা

Coronavirus Ahmedabad: দাহ করা বা কবর দেওয়ার পরে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) কিটগুলিকে যত্রতত্র ফেলে দেওয়া এবং এই রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পাদনকারী পরিবারগুলির জন্য সুরক্ষা গিয়ারের অভাব শহরকে আরও সম্ভাব্য সংক্রমণের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে রোজ।

ব্যবহৃত পিপিই পোশাক জৈব-বিপত্তি এবং এটি পুড়িয়ে বা মাটি চাপা দিয়ে নিরাপদে নষ্ট করে ফেলতেই হয়।

আহমেদাবাদ:

নগরীর বৃহত্তম কবরস্থান জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছ ব্যবহৃত মাস্ক, পিপিই কভার, গ্লাভস! আহমেদাবাদের বৃহত্তম কবস্থান মুসা সুহাগের প্রবেশদ্বারের চিত্র এখন এমনই। মুসা সুহাগ শহরের কবরস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম একটি, যেখানে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত তাঁদের সমাহিত করা হয়েছে। শেষকৃত্যগুলি আহমেদাবাদ পৌর কর্পোরেশন এবং যেখান থেকে মরদেহ আনা হয় সেই হাসপাতালের উদ্যোগেই হয়। কর্মী ও মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম দেওয়া হয় শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সময়। ব্যবহৃত পিপিই পোশাকটিকে জৈব-বিপত্তি হিসাবেই বিবেচনা করা হয় এবং এটি পুড়িয়ে বা মাটি চাপা দিয়ে নিরাপদে নষ্ট করে ফেলতেই হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ যে, যারা এই কিট ব্যবহার করেন তারা সেখানেই তা ফেলে রেখে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা অলকেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমরা ঠিক ওখানেই থাকি, রাস্তার পাড়েই আবাসনে। প্রতিটি কবরস্থানে প্রায় ১৬ টি সুরক্ষা কিট ব্যবহৃত হয়। তারা সমস্ত কিছু ফেলে রেখে দেয়, গ্লাভস, জুতোর ঢাকনা, সমস্ত কিছু। এমনকি সাফাই কর্মীরাও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে ওগুলি তোলেন না।”

“কুকুরগুলো তখন ফেলে দেওয়া কিটস মুখে করে টেনে আমাদের আবাসনে নিয়ে আসে,” যোগ করেন ওই অঞ্চলের আরেক বাসিন্দা এবং কংগ্রেস কর্মী রাজেশ শাহ। অলকেশ ত্রিবেদী জানান যে, অবস্থা দেখে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে এলাকা ছেড়ে কিছু মানুষ চলেও গেছেন।

আহমেদাবাদ এখনও পর্যন্ত ৬,০০০ এরও বেশি কোভিড আক্রান্ত নিয়ে দেশের বৃহত্তম COVID-19 হটস্পট হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ৪২১ জন মারা গিয়েছেন এই শহরে। দাহ করা বা কবর দেওয়ার পরে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) কিটগুলিকে যত্রতত্র ফেলে দেওয়া এবং এই রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পাদনকারী পরিবারগুলির জন্য সুরক্ষা গিয়ারের অভাব শহরকে আরও সম্ভাব্য সংক্রমণের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে রোজ।

কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক সৈয়দ লিয়াকত আলি জানান যে, তিনি কবরস্থান পরিচালন সংস্থা সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের ট্রাস্টিদের, পৌর কর্পোরেশন এমনকি পুলিশ কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেছেন, কিন্তু ফল মেলেনি।

সুতরাং তিনি এখন বাধ্য হয়ে নিজেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে রেখে যাওয়া ব্যবহৃত পিপিই কিটগুলি জ্বালিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

লিয়াকত আলি বলেন, “আমার কাছে কিছু পিভিসি পাইপ রয়েছে, ব্যবহৃত পিপিইগুলি তুলতে আমি ওই পাইপ ব্যবহার করি।”

COVID-19-এ আক্রান্ত হয়ে মৃতদের জন্য কবর একটু অন্যভাবে খোঁড়া হয়। হাতে খোঁড়ার বদলে পৌরসভার কর্মীরা একটি বুলডোজার ব্যবহার করে এই কবর খনন করেন। কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আহমেদাবাদের দুধেশ্বর শ্মশানে, একই রকম চিত্র দেখা গিয়েছে।

এনডিটিভি যে সময় পরিদর্শন করে তখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত ৬৪ বছর বয়সী নটবর বাইয়ের শেষকৃত্য শুরু হতেই যাচ্ছিল। একই সময়ে, অন্যান্য কারণে মৃত এমন অন্তত ৩ জনের শেষকৃত্যও চলছিল।

নটবর বাইয়ের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন যে, শেষকৃত্য করার সময় পরার জন্য তাদের প্রত্যেককে মাত্র একটি করে সুরক্ষা কিট সরবরাহ করা হয়। নটবরের পুত্র গৌতম বাই জানান, তার বাবার শেষকৃত্য পিপিই পরে তাঁর খুড়তুতো ভাই রাকেশ সম্পন্ন করেন।

“তাঁরা আমাদের একটি পিপিই কিট দেন এবং জানান যে তাঁকে দাহ করার সময় এটি পরতে হবে,” রাকেশ বলেন।

দুধেশ্বরের শ্মশানে কোভিড-১৯ রোগীদের দাহ করার বিষয়টির দায়িত্বে রয়েছেন বিনোদ, তিনি জানান, করোনাভাইরাস ব্যতীত অন্য কারণে মারা যাওয়া মানুষদের প্রকাশ্যেই দাহ করা হচ্ছে শ্মশানে, কিন্তু যাদের দেহে করোনাভাইরাস পজিটিভ মিলেছে তাঁদেরকে একটি গ্যাসচালিত দাহকক্ষে পোড়ানো হচ্ছে।

“মিউনিসিপাল কর্পোরেশন একটি গাড়িতে দেহ (করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের) নিয়ে আসে। তাঁদের পরিবারও সঙ্গে আসে। তাঁরা এগুলি এখানে নিয়ে আসেন এবং তারপরে আমি আসি। আমাদের পিপিই পরতে হয় এবং আমাদের সেটা নষ্টও করে ফেলতে হয়,” বলেন বিনোদ।

তবে, যারা COVID-19-এ মারা গিয়েছেন এবং যারা অন্যান্য কারণে মারা গিয়েছেন- দুই পরিবারের সদস্যরাই সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই কাজ করতে থাকেন।

.