খাবারের বাটোয়ারা নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের মারপিট রেল কামরায়! নীরব দর্শক আরপিএফ

এভাবে কথা বাকবিতণ্ডা থেকেই হাতাহাতির সুত্রপাত বলে জানিয়েছে রেল। চলেছে নির্দ্বিধায় ঘুসোঘুসি ও কিল-চড়

খাবারের বাটোয়ারা নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের মারপিট রেল কামরায়! নীরব দর্শক আরপিএফ

প্রায় ১২০০ জন পরিযায়ী শ্রমিককে নিয়ে কল্যাণ থেকে ছেড়েছিল সেই ট্রেন।

সাতনা (মধ্যপ্রদেশ):

হাতে বেল্ট নিয়ে রেল কামরার ভিতর চলছে প্রবল মারপিট  (Clash broke out in rail compartment) । আর স্টেশনে দাড়িয়ে থাকা আরপিএফ সেই মারপিটের নীরব দর্শক। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের সাতনা স্টেশনের এমন সংঘর্ষের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। জানা গিয়েছে, খাবারের বাটোয়ারা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। সেই সংঘর্ষে জখম হয়েছেন কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক। রেল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার প্রায় ১২০০ পরিযায়ী শ্রমিককে নিয়ে মহারাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে একটা স্পেশাল ট্রেন বিহারের উদ্দেশে রনা দিয়েছিল। সেই ট্রেন বুধবার দুপুরে মধ্যপ্রদেশের সাতনা স্টেশনে ঢুকলে শুরু হয় সংঘর্ষ। পরিযায়ী যাত্রীদের মধ্যে খাবার বিতরণ, এই সংঘর্ষের নেপথ্যে। এমন অভিযোগ তুলেছে রেল। যদিও পরিযায়ী নাগরিকদের তরফে অভিযোগ, "দীর্ঘ যাত্রাপথে তাঁদের খাবার পরিবেশন করা হয়নি।" সেই ট্রেনের এক যাত্রীর অভিযোগ,"আমি দেখলাম ২৪ প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হয়েছে। একটা কামরার সবাই সেই খাবার পেয়েছে। কিন্তু আমাদের কেউ খাবার পরিবেশন করেনি। এই কামরায় যাত্রীরা দীর্ঘ সময় যাত্রা করে ক্ষুধার্ত।" 

এভাবে বাকবিতণ্ডা থেকেই হাতাহাতির সুত্রপাত বলে জানিয়েছে রেল। চলেছে নির্দ্বিধায় ঘুসোঘুসি ও কিল-চড়।  দেখুন সেই ভাইরাল ভিডিও: 

জানা গিয়েছে, সংক্রমণের আশঙ্কায় রেল পুলিশ মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসেনি। প্ল্যাটফর্ম থেকে জানলায় লাঠির দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে তাঁরা। যদিও সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। ট্রেন সাতনা স্টেশন ছাড়ার পরেও চালু ছিল সেই সংঘর্ষ। 

এদিকে, বুধবার দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়াল, চারমাস আগে প্রথম কেরলে করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল। গত তিনদিনের ব্যবধানে দেশে প্রায় ১০,০০০ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এখন দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০,৫৪৫ জন, বেশিরভাগ আক্রান্তই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। এখনও পর্যন্ত ১৪,০০০ এর বেশি মানুষ আরোগ্যলাভ করেছেন এবং ১,৬৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে মহারাষ্ট্রে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১৬,৭৫৮ জন, তারমধ্যে বুধবারই ১,২৩৩ জন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। মহারাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের মধ্যে বেশিরভাগ মুম্বইয়ের বাসিন্দা, সেখানে করোনা আক্রান্ত ১০,৭১৪ জন।

দেশে করোনা আক্রান্তের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাট, সে রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৬২০০ এর বেশি, তারপরেই রয়েছে রাজধানী দিল্লি, সেখানে আক্রান্ত ৫,০০০ জন। দিল্লির পরেই রয়েছে তামিলনাড়ু, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪,০০০ ছাড়িয়েছে।