শ্রমিক স্পেশালে বাড়ি ফেরার সময় ট্রেনেই মৃত্যু হল বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের

West Bengal's Migrant: মৃত বুদ্ধ পরিহর মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা ছিলেন, তিনি রাজস্থানের বিকানেরের একটি হোটেলে চাকরি করতেন বলে জানা গেছে

শ্রমিক স্পেশালে বাড়ি ফেরার সময় ট্রেনেই মৃত্যু হল বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের

Migrant Worker Dies On Train: পরে তাঁর দেহ জিআরপির হাতে তুলে দেওয়া হয় (প্রতীকী চিত্র)

হাইলাইটস

  • রাজস্থান থেকে বাংলায় ফেরার পথেই মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের
  • লকডাউনের কারণে রাজস্থানে বহুদিন ধরেই আটকে ছিলেন ওই ব্যক্তি
  • তবে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, করোনা নয়, যক্ষ্মায় ভুগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর
মালদহ:

বহুদিনের দুর্ভোগের পর শেষপর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা হবে, বাড়িতে ফিরে প্রথমেই জড়িয়ে ধরবেন চেনা মানুষগুলোকে, হয়তো এমনটা ভেবেই শ্রমিক স্পেশালে উঠেছিলেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক (West Bengal) মালদহের বাসিন্দা বুদ্ধ পরিহর। কিন্তু বাড়ি পর্যন্ত আর পৌঁছনো হলো না তাঁর। ট্রেনেই মারা গেলেন (Migrant Worker Dies On Train) হরিশচন্দ্রপুরের বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের ওই ব্যক্তি। রাজস্থান থেকে পশ্চিমবঙ্গের দিকে আসা শ্রমিক স্পেশালের ঘটনা। শুধু তাই নয়, সহযাত্রী মৃত বুদ্ধ পরিহরের শরীরকে সঙ্গে নিয়েই প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে সফর করেন ওই ট্রেনে ওঠা অন্য পরিযায়ী শ্রমিকরা, ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের মধ্যেও। ওই প্রৌঢ়ের মৃত্যুতে একেবারে অকূল পাথারে পড়ল তাঁর পরিবার, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেই গত প্রায় ২০ বছর ধরে রাজস্থানের একটি হোটেলে কাজ করতেন বুদ্ধ। তাঁর সঙ্গে একই হোটেলে কাজ করতেন তাঁর ভগ্নীপতি সরযূ দাসও।

একদিনে সর্বাধিক ৩৭১ জন সংক্রমিত বাংলায়! ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৮, মোট সংক্রমিত ৫০৫১

করোনা ভাইরাসকে (Coronavirus) রুখতে দেশে যে লকডাউন জারি করা হয় তার কারণে বুদ্ধ পরিহর ও তাঁর ভগ্নিপতির হোটেলের ওই চাকরিটি চলে যায়। ফলে রাজস্থানে টাকাপয়সার অভাবে নিদারুণ কষ্টের মধ্যেই কাটাতে হচ্ছিল তাঁদের। এই লকডাউনের সময়েই তাঁরা নানাভাবে নিজেদের মালদহের গ্রামে ফেরার চেষ্টা করলেও কোনওভাবেই সফল হতে পারেননি। অবশেষে ২৯ মে সকাল ১১ টা নাগাদ শ্রমিক স্পেশালে জায়গা হয় তাঁদের। শনিবার রাত ১০টা নাগাদ ট্রেন যখন উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ের কাছাকাছি তখনই মৃত্যু হয় বুদ্ধ পরিহরের।

সংক্রমণের বিচারে জার্মানিকে টপকে অষ্টম স্থানে ভারত! মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়াল

পুলিশ জানিয়েছে যে, হঠাৎ করে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ায় ট্রেনের সহযাত্রীরা সন্দেহ করতে শুরু করেন যে তাঁর নিশ্চয়ই করোনা ছিল। এর ফলে তাঁর শরীর থেকে অন্যদের শরীরেও কোভিড- ১৯ ছড়িয়ে পড়েছে ভেবে রীতিমতো আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। 

রবিবার ভোর ৬.৪০ নাগাদ ট্রেনটি মালদহ স্টেশনে পৌঁছলে রেলের চিকিৎসকরা মৃত ব্যক্তিকে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করেন, পরে তাঁর দেহ জিআরপির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বুদ্ধ পরিহারের মৃতদেহ পরীক্ষা করে আপাতত চিকিৎসকরা অনুমান করছেন যে, বহুদিন ধরেই ভিতরে ভিতরে যক্ষ্মা রোগে ভুগছিলেন ওই ব্যক্তি, সেই কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বুদ্ধ পরিহারের সঙ্গে থাকা তাঁর ভগ্নীপতিও এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, পরিহর যক্ষ্মায় আক্রান্ত ছিল এবং ট্রেনে করে ফেরার সময় হঠাৎ করেই তিনি খুব অসুস্থ বোধ করছিলেন, তখন ভগ্নীপতিই তাঁকে ওষুধ খাওয়ান, কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি, মারা যান তিনি। 

তবে গোটা ঘটনাটি নিয়ে ইংলিশ বাজার থানা তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিহরের লাশটি পোস্টমর্টেমের জন্য মালদহ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন উর্ধ্বতন পুলিশকর্তা।