মধ্যপ্রদেশে 60 লক্ষ 'নকল ভোটার'এর অভিযোগ তুলল কংগ্রেস, তদন্তের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

মধ্যপ্রদেশে এই বছরের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকায় থাকা শয়ে শয়ে অসঙ্গতি ছেঁটে দেওয়া হবে

বিজেপি জানিয়েছে তালিকাটি নিয়ে তদন্ত করে অসঙ্গতি দূর করা উচিত শীঘ্রই

হাইলাইটস

  • এই বছরের শেষের দিকে মধ্যপ্রদেশে নির্বাচন
  • কংগ্রেস বিজেপি সরকারের বিরূদ্ধে ব্যাপক ভোটার জালিয়াতির অভিযোগ করেছে
  • নির্বাচন কমিশন প্রতিটা দরজায় গিয়ে সমস্ত ত্রুটি দূর করার আদেশ দিয়েছে
ভোপাল:

মধ্যপ্রদেশে এই বছরের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকায় থাকা শয়ে শয়ে অসঙ্গতি ছেঁটে দেওয়া হবে। বিরোধী দল কংগ্রেস প্রায় 60 লক্ষ নকল ভোটারের তালিকা দিয়ে নালিশ জানানোয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এই ব্যাপারটি নিয়ে তদন্ত করার পর  যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অসঙ্গতি মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশন চারটি দল তৈরি করেছে। যারা তালিকার অসঙ্গতি দূর করার জন্য একদম দরজায় দরজায় গিয়ে যাচাই করে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যত শীঘ্র সম্ভব একটি ত্রুটিমুক্ত এবং সংশোধিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যদি কোথাও কোনও ইচ্ছাকৃত ভুলের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যাপারে অবগত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই দলটি তদন্ত শুরু করবে সোমবার থেকে। রিপোর্ট জমা দেবে চারদিনের মধ্যে।

রাজ্য কংগ্রেসের প্রধান কমলনাথ জানিয়েছেন যে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করা 60 লক্ষ নকল ভোটারের তালিকা তাঁরা নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই ঘটনাকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার' বলে ব্যাখা করে কমলনাথ জানিয়েছেন, এই সমস্ত নাম ইচ্ছাকৃতভাবে তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, এই পুরো ঘটনাটি শাসক বিজেপির মস্তিষ্কপ্রসূত বলে দাবি করে তাদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “গত 10 বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে 24 শতাংশ আর ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে গেল 40  শতাংশ, এটা সম্ভব হয় কী করে? আমরা সমস্ত কেন্দ্রের ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখেছি। একজন ভোটারের নাম 26'টা আলাদা তালিকাতেও রয়েছে। ভাবুন! এই রকম ঘটনারই ছড়াছড়ি”।

নকল ভোটারের সংখ্যা 60 লক্ষ- এই তথ্য সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মুখ্য নির্বাচনী অফিসার সালিনা সিংহ বলেন, “ আমরা এই ধরনের ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছি। এখনও পর্যন্ত কমবেশি 3.86 লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সংগ্রাহকদের সঙ্গে সবসময়ই যোগাযোগ রেখে চলেছি আমি। বারবার ভিডিও কনফারেন্সও করছি। ঘটনার পর্যালোচনা আমার পক্ষ থেকে চলছেই”।

এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের উপনির্বাচনের আগেও কংগ্রেস প্রায় একইরকম অভিযোগ জানিয়েছিল। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি স্মারক জমা দিয়ে দলের নেতা রণদীপ সিংহ সূর্যেওয়ালা বিজেপিকে “গণতন্ত্রের হত্যা” করার জন্য দায়ী করেছিলেন। এপ্রিল মাসে মুখ্যা নির্বাচনী অফিসার সালিনা সিংহ জানান, 6 লক্ষ অবৈধ ভোটারের নাম সেই তালিকাটি থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।