‘‘ভিন্নমতকে চেপে রাখতে নিষ্ঠুর অবদমন’’: সরকারের নিন্দায় সনিয়া গান্ধি

সনিয়া গান্ধি বলেন, ‘‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বৈষম্যমূলক এবং প্রস্তাবিত দেশব্যাপী এনআরসি গরিব মানুষকে আহত করবে।''

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বৈষম্যমূলক বলে দাবি সনিয়া গান্ধির।

নয়াদিল্লি:

কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধি (Sonia Gandhi) শুক্রবার টেলিভিশনে এক বার্তায় সরকারকে আক্রমণ করলেন। নাগরিকত্ব আইনের (CAA)প্রতিবাদে (Protest Against CAA) সরকারের ‘‘নিষ্ঠুর অবদমন'' ও এই বিষয়ে দেশজুড়ে প্রবল গণ আন্দোলনে মানুষের কণ্ঠস্বরকে অবহেলা করার অভিযোগ জানালেন তিনি। দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে সনিয়া গান্ধি বলেন, ‘‘বিজেপি সরকার ভিন্নমতকে চেপে দিতে নিষ্ঠুর শক্তি প্রয়োগ করছে। গণতন্ত্রে এটা গ্রহণযোগ্য নয়।'' তিনি বলেন, ছাত্র, যুব ও সাধারণ নাগরিকদের উপরে সরকারের নিষ্ঠুর অবদমনের বিষয়ে তাঁর দল গভীর যন্ত্রণা প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্রে মানুষের অধিকার থাকে ভুল সিদ্ধান্ত সরকারের ভুল নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার এবং তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করার। পাশাপাশি এটা সরকারেরও দায়িত্ব নাগরিকদের কথা শোনা এবং তাদের উৎকণ্ঠা প্রকাশের।''

‘‘কীসের এনআরসি'': বিজেপির জোটসঙ্গী নীতীশ কুমারের কথায় বড় ইঙ্গিত

তিনি আরও বলেন, ‘‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বৈষম্যমূলক এবং প্রস্তাবিত দেশব্যাপী এনআরসি গরিব মানুষকে আহত করবে।''

নোটবন্দির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘‘নোটবন্দির সময়ের মতো তাদের লাইনে দাঁড়িয়ে পড়তে হবে তাদের এবং তাদের পূর্বপুরুষদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য। জনগণের আশঙ্কা বাস্তব এবং বৈধ। কংগ্রেস পার্টি দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করে যে তারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও তাদের মৌলিক অধিকারকে রক্ষা করতে এবং আমাদের সংবিধানের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যকে সমুন্নত করতে দায়বদ্ধ।''

Protest Against CAA: পুরনো দিল্লিতে সংঘর্ষ, গাড়িতে ধরানো হল আগুন

তিনি আরও জানান, তাঁর দল পড়ুয়াদের পাশেও দাঁড়াচ্ছে। কংগ্রেস নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, নতুন নাগরিকত্ব আইনে ২০১৫ সালের আগে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে এদেশে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগের কথা বলা হয়েছে। এই আইনের ফলে প্রথমবার ধর্মের ভিত্তিতে ভারতের নাগরিকত্বের কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই নতুন আইনে অন্য দেশে ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার নাগরিকরা এদেশের নাগরিকত্ব পেতে পারবেন। সমা‌লোচকদের দাবি, এই আইন বৈষম্যমূলক। এটি সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ নীতিকে লঙ্ঘন করছে।