This Article is From Apr 20, 2020

"ভারতের নতুন এফডিআই নীতি বিভেদমূলক", অভিযোগ চিনের: ১০ টি তথ্য

পড়শি রাষ্ট্রগুলোর (ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষা) এদেশে বিনিয়োগের জন্য দুটি এফডিআই ধারা ছিল।

ভারতের নতুন এফডিআই নীতিতে দেশীয় সংস্থাগুলোকে অধিগ্রহণের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। (ফাইল ছবি)

হাইলাইটস

  • ভারতের নতুন এফডিআই নীতির সমালোচনা করে বিবৃতি দিল চিন
  • সংশোধিত নীতি বিভেদমূলক, এদিন বিবৃতিতে জানিয়েছে চিনা দূতাবাস
  • শনিবারই এই নীতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বদল আনা হয়েছে
নয়া দিল্লি: ভারতের সংশোধিত এফডিআই নীতি (Amended FDi rule in India) বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) ঘোষিত নীতির পরিপন্থী। সোমবার এই ভাষায় বিবৃতি দিল চিনা দূতাবাস (China Embassy)। সম্প্রতি এফডিআইয়ের চলতি ধারায় বদল এনেছে কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক। সেই বদল বিভেদমূলক, স্বাধীন ও সঠিক বাণিজ্যের বিরোধী। বিবৃতিতে এমন অভিযোগও করেছে বেজিং। তাদের দাবি‌ "ফের ঘোষিত নীতিতে বদল আনুক ভারত।" সঙ্কটকালে মন্দার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে দেশীয় সংস্থাকে অধিগ্রহণ করতে না পারে, তাই চলতি এডফডিআই নীতিতে সংশোধনী আনে কেন্দ্রীয় সরকার। সুযোগের অপব্যবহার করে ভারতীয় সংস্থাকে চিনের অল্প পুঁজিতে অধিগ্রহণ করার কৌশল আটকাতে এই সংশোধনী। শনিবার এমনটা জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় একটা সূত্র।

দেখুন সেই ১০ পয়েন্ট:

  1. ভারতের নতুন এফডিআই নীতির সমালোচনা করে বিবৃতি দিল চিন। দূতাবাস থেকে জারি করা সেই বিবৃতিতে বলা, "ভারতের সংশোধিত এফডিআই নীতি বিভেদমূলক। অতিরিক্ত দায় চাপানো হয়েছে। এই সংশোধন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডাবলুটিও'র ঘোষিত নীতির পরিপন্থী। এই নীতি উদার অর্থনীতি ও বিদেশী বানিজ্যকে স্বাগত জানানোর বিরোধী। আমাদের আশা ভারত এই সংশোধনীতে বদল আনবে। সব দেশের বিনিয়োগকে সমানভাবে স্বাগত জানাবে। পাশাপাশি খোলামেলা ও প্রতিবন্ধকতা-হীন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করবে।" 

  2. পড়শি রাষ্ট্রগুলোর (ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষা) এদেশে বিনিয়োগের জন্য দুটি এফডিআই ধারা ছিল। পাকিস্তান, বাংলাদেশের জন্য একটা ধারা। যেখানে সরকারি অনুমতি ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব ছিল না। আর চিন, নেপাল, মায়ানমার ও ভুটানের জন্য একটা ধারা। যেখানে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিনিয়োগ করা যেত। কিন্তু সংশোধনীতে চিন, নেপাল, ভূটানকেও এখন সরকারি অনুমোদন নিয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। এখানেই আপত্তি তুলেছে বেজিং। 

  3. পূর্বতন এফডিআই বিধিতে বলা ছিল, পাকিস্তানের কোনও শিল্পপতি বা শিল্প প্রতিষ্ঠান সরকারি সবুজ সঙ্কেত নিয়ে ভারতে বিনিয়োগ করতে পারবে। ব্যাতিক্রম-- প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্র।

  4. বিশ্বব্যাপী একটা রব উঠেছে এই ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্কটে একাধিক ধুঁকতে থাকা সংস্থাকে অল্প পুঁজিতে অধিগ্রহণ করে নিচ্ছে চিনা সংস্থাগুলো। সেই আশঙ্কায় সম্প্রতি নিজেদের এফডিআই নীতিতে সংশোধনী এনেছে তারা। দেশীয় সংস্থাগুলোকে চিনা অধিগ্রহণের হাত থেকে বাঁচাতে এই পদক্ষেপ। 

  5. কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক এই মর্মে শনিবার সংশোধনী আনার পরেই ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি। তিনি টুইটে লিখেছিলেন, আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমার সতর্কবার্তাকে প্রাধান্য দিয়ে এফডিআই নীতিতে সংশোধন আনা হয়েছে। 

  6. ১২ এপ্রিল কংগ্রেস সাংসদ লিখেছিলেন, এই আর্থিক মন্দার জেরে প্রভাবিত হবে অনেক দেশীয় সংস্থা। সেই সংস্থাগুলো অধিগ্রহণের উপযুক্ত হয়ে পড়বে। কেন্দ্রের এখন উচিত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা। তারা যাতে এই সুযোগে দেশীয়  বিপন্ন সংস্থাগুলোকে অধিগ্রহণ করতে না পারে। 

  7. ইতিমধ্যে চিনা পিপলস ব্যাঙ্ক বেসরকারি এইচডিএফসি'র ১.০১% শেয়ার কিনে নিয়েছে। সেই ঘটনার পরেই এমন টুইট করেছিলেন রাহুল গান্ধি। 

  8. ভারতে এফডিআইয়ের দুটি ধারা। অটোমেটিক মোড। এই ধারাতে বিদেশি সংস্থার সরকারি অনুমোদন দরকার পড়ে না। আর সরকারি মোড। যে ধারাতে কেন্দ্রীয় সরকারের সিলমোহর ছাড়া বিনিয়োগ করতে পারে না কোনও বিদেশি সংস্থা।