তথ্য জানার অধিকার আইনে প্রধানবিচারপতির দফতর: ১০টি তথ্য

দিল্লি হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, “প্রধানবিচারপতি সরকারি কর্তৃপক্ষ। তথ্য জানার অধিকার এবং গোপনীয়তার অধিকার একই মুদ্রার দুই পিঠ”

সুপ্রিম কোর্ট বলে, “ সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রধানবিচারতির দফতর”

নয়াদিল্লি: ভারতের প্রধানবিচারপতি সরকারি প্রতিনিধি, এবং তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় পড়ে, বুধবার ঐতিহাসিক রায়ে জানাল সু্প্রিম কোর্ট, পাশাপাশিজোর দিয়ে জানাল, “একটি সাংবিধানিক গণতন্ত্রে, বিচারপতিরা আইনের ঊর্দ্ধে থাকতে পারেন না”।২০১০ দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে পুনর্বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ, সেই বেঞ্চের সদস্য ছিলেন প্রধানবিচারতিও। সুপ্রিম কোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন অধিকারিক এবং সেক্রেটারি জেনারেলের আবেদন খারিজ করে দেন তিনি।

এখানে রইল ১০'টি তথ্য:

  1. হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে, আদালত বলে, “তথ্য জানার অধিকার এবং গোপনীয়তার অধিকার  একই মুদ্রার দুই পিঠ। কেউ একে অপরের থেকে বেশী প্রধান্য পেতে পারে না”।
     

  2. প্রধানবিচারপতির দফতর থেকে তথ্য জানানোর ঘোষণা করার সময় বিচারপতিরা বলেন, গোপনীয়তার অধিকার একটি গুরুত্বপূ্র্ম দিক, এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে একটির ভারসাম্য রাখা উচিত।
     

  3. বিচারপতিরা বলেন, “বিচারবিভাগীয় নির্ভরতা এবং দায়বদ্ধতা হাতে হাত রেখে চলবে”, তবে স্বচ্ছতা বিচারবিভাগীয় নির্ভারশীলতা কমায় না। তাঁরা সতর্ক  করে দেন, তথ্য জানার অদিকার আইন, নজরদারির যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
     

  4. প্রধানবিচারপতি রঞ্জন গগৈ ছাড়াও বেঞ্চে ছিলেন, বিচারপতি এনভি রামানা, বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি দীপক গুপ্তা, বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। প্রধানবিচারপতি এবং বিচারপতি দীপক গুপ্তা এক রায় লেখেন, বিচারপতি রামানা এবং বিচারপতি চন্দ্রচূড় আলাদা রায় লেখেন।
     

  5. বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, বিচারবিভাগ পুরোপুরি প্রতিবন্ধকতার মধ্যে কাজ করতে পারে  না, যেহেতু বিতাপপতিরা সাংবিধানিক পদে থাকেন। বিচারপতি রামানা বলেন, গোপনীয়তার অধিকার এবং স্বচ্ছতার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য থাকা উচিত, যে কোনও প্রকাশ হওয়া থেকে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে।
     

  6. বিচারপতি এবং আইনজীবীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে, পাঁচজন সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতিদের নিয়ে তৈরি করা কলেজিয়াম সরকারি করা উচিত কিনা, সেই নিয়ে বিতর্কে, সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে, বিষয়টি মামলার ওপরে নির্ভর করা উচিত। বেঞ্চ আরও জানায় যে, কলেজিয়ামের নিয়োগ করা বিচারপতির নামই শুধুমাত্র প্রকাশ করা হবে, কারণ নয়।
     

  7. ২০১০ সালে দিল্লি হাইকোর্ট জানায় যে, প্রধানবিচারপতির দফতর তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় আসে, পাশাপাশি জানায় বিচারবিভাগীয় নির্ভরশীলতা বিতারপতিদের সুবিধার নয়, তবে তাঁদের ওপর একটি দায়বদ্ধতা তৈরি করে। সুপ্রিম কোর্টের যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট, তাদের যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধানবিচারপতির দফতরকে তথ্য জানার অধিকার আইনে আনা বলে সেটা, বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতায় “ব্যাঘাত” হবে।   
     

  8. প্রধানবিচারপতির দফতরকে স্বচ্ছতা আইনে আনার উদ্যোগ নেন তথ্য জানার অধিকার আন্দোনের কর্মী এসসি আগরওয়াল।  তাঁর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ মামলার আবেদনে জানান যে, নিজদের ইচ্ছেমতো বিচার করতে পারে না, “মতবাদের প্রয়োজনে” তারা মামলা শোনে।
     

  9. বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে “দুর্ভাগ্যজনক এবং বিরক্তকর” অনিচ্ছা রয়ছে তথ্য জানার অধিকার আইনে জানানোর ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, “কোনও বিচারপতিই ভিন্ন গ্রহে বাস করেন না”।
     

  10. আইনজীবী বলেন, জাতীয় বিচারবিভাগীয় দায়বদ্ধতা কমিশন, বিচারবিভাগকে সরকারের হস্তক্ষেপ থেকে রক্ষার জন্য খারিজ করা হয়েছে, তবে তারমানে এই নয় যে, বিচারবিভাগ “সরকারি বিবেচনা” থেকে মুক্ত। প্রশান্ত ভূষণ বলেন, “এটা দায়বদ্ধতা থেকে আলাদা নয়। বিচারবিভাগের স্বাধীনতার মানে হল, তা সরকারের থেকে স্বাধীন, সাধারণ মানুষের থেকে নয়। মানুষের জানার অধিকার রয়েছে, সরকারি কর্তৃপক্ষরা কী করছে”।  ২০১০-এর রায় প্রধানবিচারপতি কেজি বালাকৃষ্ণনের ধাক্কা বলে করা হয়েছিল, তথ্য জানার অধিকার আইনে বিচারপতিদের তথ্য জানানোর বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।



More News