ভারতের আন্দোলনের আঁচ বাংলাদেশে আসতে পারে, পড়শি দেশের মন্ত্রীর উদ্বেগ

ভারতের আন্দোলনের আঁচ বাংলাদেশে আসতে পারে, পড়শি দেশের মন্ত্রীর উদ্বেগ

বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই আইন “অসাংবিধানিক এএবং বিভাজনমূলক”, যেহেতু এখানে মুসলিমদের বাদ দেওয়া হয়েছে (ফাইল)

ঢাকা, বাংলাদেশ:

ভারতে চলা দেশব্যাপী সিএএ ও এনআরসি- বিরোধী আন্দোলনের জেরে তৈরি অনিশ্চয়তার আঁচ আসতে পারে বাংলাদেশে। রবিবার পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী একে আব্দুল মেনন।সংশোধিত সিএএ আর এনআরসি শুধু পড়শি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে মেনন বলেছেন, আশা করবো ভারতের অশান্ত পরিবেশ শান্ত হবে এবং সে দেশ এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসবে।তারা নিজেরাই সমাধানসুত্র বার করতে পারবে, মন্তব্য বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর   
সেই সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতকে বাংলাদেশের এক নম্বর বন্ধু দাবি করে বলেন, “ভারতে এখন আর্থিক বৃদ্ধি নিম্নমুখী। এই সময় সে দেশে কোনও অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার আঁচ বাংলাদেশে এসে পড়বে।” মার্কিন মুলুকে এক্সময় তৈরি হওয়া আর্থিক মন্দার প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী দাবি করেছেন, সে দেশে যখন মন্দা এসেছিল তার আঁচ লেগেছিল পাশাপাশি অনেক দেশের গায়ে।কারণ আমরা এই বিশ্বে একটা পরিবার হিসেবে  থাকি। তাই আমার আশঙ্কা ভারতের অনিশ্চয়তার আঁচ আমাদের গায়েও লাগতে পারে। তবে তিনি বলেছেন, যদিও ভারত সরকার আমাদের বারবার আশ্বস্ত করেছে এটা সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিছু আইনি কারণে করা হচ্ছে। এমনকি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এই আইন কোনওভাবে বাংলাদেশকে প্রভাবিত করবে না।পিটিআইকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে এমন দাবিও করেন তিনি।এমনকী, তাঁর দপ্তরের তরফে সে সব বাংলাদেশীদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে,যারা  অবৈধভাবে ভারতে আছে, জানান তিনি। 
সম্প্রতি সিএএ আইনে রূপান্তরিত হওয়ার পরেই গত ১২ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত ভারত সফর বাতিল করেছিলেন তিনি। এদিকে সিএএ ও এনআরসি- বিরোধী আন্দোলনের মাত্রা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গোটা দেশ থেকে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে প্রায় ২০ জনের বেশি মৃত্যুর খবর মিলেছে। আটক ও গ্রেফতারি মিলিয়ে সংখ্যাটা শতাধিক। দেশের একাধিক মেট্রো শহরে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে ইন্টারনেট। তাতেও দমছে না নাগরিক আন্দোলন।