পাহাড়কে ভালোবেসে এভারেস্টেই শেষশয্যা পাতলেন দুই পর্বতারোহী

শৃঙ্গ জয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে দুর্গম পাহাড়ের কোলেরই তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেন চিরকালের মতো।

পাহাড়কে ভালোবেসে এভারেস্টেই শেষশয্যা পাতলেন দুই পর্বতারোহী
কাঠমান্ডু:

অভিযান এঁদের রক্তে। বারেবারে তাই এঁদের হাতছানি দিয়ে ডাকে ভয়াল-সুন্দর এভারেস্ট (Mount Everest)। সেই কারণে মৃত্যু (Die) নিশ্চিত জেনেও এঁরা আকর্ষণ এড়াতে পারেন না পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গের। সেই নেশাই কাল হল ব্রিটিশ এবং আইরিশ পর্বতারোহীর (British, Irish Climbers)। শৃঙ্গ জয়ের স্বপ্ন বুকে নিয়ে দুর্গম পাহাড়ের কোলেই তাঁরা ঘুমিয়ে পড়লেন চিরকালের মতো। খবর, এই নিয়ে গত একসপ্তাহের মধ্যে মোট ছয় জন পর্বতারোহীর মৃত্যু হল এভারেস্টকে ছুঁতে গিয়ে।

এভারেস্ট পরিবার এক্সপেডিশন থেকে মুরারী শর্মা জানিয়েছেন, ব্রিটিশ পর্বতারোহী ৪৪ বছরের রবিন ফিশার (British Climbers) আজ ভোরে বরফে মোড়া এভারেস্ট শৃঙ্গে (Mount Everest) পোঁছোন। কিন্তু ফেরার পথে ঘটে অঘটন। মাত্র ১৫০ মি. নীচে নামতে না নামতেই তুষারঝড়ে আটকে যান তিনি। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পর্বতারোহন সংস্থা থেকে পাঠানো গাইড যদিও তাঁকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, হিমালয় পর্বতের উত্তর তিব্বতের দিক থেকে শৃঙ্গে পৌঁছোনোর চেষ্টা করেছিলেন বছর ছাপ্পানোর এক আইরিশ পর্বতারোহী। যদিও তিনি এভারেস্ট বিজয় না করেই তিনি ফিরে আসছিলেন তাঁবুতে। ফেরার পথে তাঁবু থেকে সাত হাজার মিটার উঁচুতেই মৃত্যু হয় তাঁর। এমনটাই ফেসবুকে জানিয়েছে আয়োজক সংস্থা। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে এই দুই পর্বতারোহী ছাড়াও এভারেস্টে (Mount Everest) শেষশয্যা পাতেন আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আইরিশ এবং নেপালের মোট চার পর্বতারোহী। আয়োজক সংস্থার মতে, গত সপ্তাহে যেন মৃত্যুমিছিল চলেছে পর্বতারোহীদের। তারপরেও মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে পর্বতে ওঠার নেশায় স্প্রিং ক্লাইম্বিং সিজনে এগারো হাজার ডলার খরচ করে প্রতিবছর তাঁরা আসেন এখানে। এভারেস্ট জয়ের দুরন্ত নেশায়।