দেবেন্দ্র ফড়নবিশের শপথ আসলে '৪০,০০০ কোটি রক্ষার এক নাটক': বিজেপি নেতা

Maharashtra: ফড়নবিশের ৮০ ঘণ্টার নাটক নিয়ে হোয়াটস অ্যাপে ভাইরাল হওয়া কিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি করেই ওই মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা অনন্ত কুমার হেগড়ে

কেন্দ্রীয় তহবিলের অর্থ সুরক্ষিত করতে ১৫ ঘণ্টা সময় লেগেছিল দেবেন্দ্র ফড়নবিশের, বলেন Ananth Kumar Hegde

নয়া দিল্লি:

মহারাষ্ট্রের নাটকীয় পটপরিবর্তন নিয়ে এক নয়া তথ্য সামনে আসায় নতুন রঙ নিতে পারে সে রাজ্যের রাজনীতি। সে রাজ্যে (Maharashtra) যেভাবে রাতারাতি শপথ নেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ (Devendra Fadnavis), সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি নেতা অনন্ত কুমার হেগড়ে। তিনি বলেন, ৪০,০০০ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় তহবিল রক্ষার জন্যেই ওই "নাটক" করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে বিজেপি নেতার (Ananth Kumar Hegde) এই মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া দল। বরাবরই নিজের মন্তব্যের কারণে বিতর্কে জড়ান হেগড়ে। এবার মহারাষ্ট্রের প্রসঙ্গে কর্ণাটকের ওই বিজেপি নেতা বলেন, আসলে কেন্দ্রীয় তহবিলের অর্থ সুরক্ষিত করতেই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং ওই অর্থ নিরাপদে রয়েছে তা নিশ্চিত করতে মোট ১৫ ঘণ্টা সময় লেগেছিল দেবেন্দ্র ফড়নবিশের।

"আপনারা সকলেই জানেন যে মহারাষ্ট্রে মাত্র ৮০ ঘণ্টার জন্য আমাদের প্রতিনিধি হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, কিন্তু তারপরেই তিনি নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেন। আমাদের এই নাটকটি কেন করতে হলো? আমরা কী জানতাম না গোটা পরিস্থিতি? আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই জানার পরেও কেন এমনটা করা হল? কেন তিনি রাতারাতি মুখ্যমন্ত্রী হলেন? এই প্রশ্নটি আজকাল সবাই জিজ্ঞাসা করে", উত্তরা কন্নড় আসনের ইয়াল্লাপুরে প্রচার করার সময়  সেই সব প্রশ্নেরই যেন উত্তর দেন অনন্ত কুমার হেগড়ে।

Maharashtra: বিরোধী পক্ষে বসে উদ্ধব ঠাকরে সরকারের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা দেবেন্দ্র ফড়নবিশের?

তিনি বলেন, "৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি" আর্থিক তহবিল মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। "যদি এনসিপি, কংগ্রেস এবং শিবসেনা জোট ক্ষমতায় আসে তবে হয়তো ওই ৪০,০০০ কোটি টাকা উন্নয়নের জন্যে ব্যয় নাও হতে পারত এবং ওই টাকার অপব্যবহার হতে পারতো",  বলেন ওই বিজেপি সাংসদ

"তাই ওই ঘটনা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে করা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে যাই ঘটুক না কেন, একটি বড় নাটক করার দরকার রয়েছে। সেই কারণেই সেখানে রাতারাতি সরকার গড়া হয় এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হন। তারপর ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই ফড়নবিশ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন যে ওই টাকা যেখানে যাওয়ার কথা ছিল সেখানেই গেছে কিনা ...ওই তহবিলকে সুরক্ষিত করা হয়। গোটা টাকার সবই কেন্দ্রকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, কেননা ওই টাকা যদি এখানে রাখা হত তাহলে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী...আপনি জানেন কী হতে পারতো", বলেন হেগড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর উচিত "ছোট ভাই উদ্ধব ঠাকরেকে সহযোগিতা করা": শিবসেনা

যদিও হেগড়ের দাবি খারিজ করে ফড়নবিশ বলেন, "এ জাতীয় কোনও ঘটনা ঘটেনি। এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি। আমি যতক্ষণ কার্যালয়ে ছিলাম তখন আমি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি। এই ঘটনাগুলি যেভাবে ঘটেছে বলা হচ্ছে তা সত্যি নয়। সরকারের অর্থ বিভাগ চাইলে এই জাতীয় দাবির তদন্ত করতে পারে"।

এদিকে হেগড়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিবসেনার রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত টুইট করেন যে ৮০ ঘণ্টার মুখ্যমন্ত্রী মহারাষ্ট্র থেকে যদি সত্যিই ৪০,০০০ কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে থাকেন তাহলে এটা মহারাষ্ট্রের প্রতি "বিশ্বাসঘাতকতা" ছিল।

২০২১-এও এ রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল, দেখুন ভিডিও:

More News