অন্ধভক্তির নমুনা :গঙ্গাস্নান সেরে ভক্তিভরে 'করোনা মা' এর পুজো করলেন মহিলারা

Coronavirus: বিহারের বক্সার জেলায় করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক থেকে বাঁচতে গঙ্গার তীরে ভিড় করে প্রার্থনা করে করোনা মায়ের কৃপাদৃষ্টি চাইলেন তাঁরা

অন্ধভক্তির নমুনা :গঙ্গাস্নান সেরে ভক্তিভরে 'করোনা মা' এর পুজো করলেন মহিলারা

Coronavirus: 'করোনা মা' -এর পুজো করতে ব্যস্ত এই মহিলারা

হাইলাইটস

  • বিহারের বক্সার জেলায় করা হলে করোনা মায়ের পুজো
  • করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে আজব উপায় অবলম্বন করলেন সেখানকার মহিলারা
  • তাঁদের বিশ্বাস, করোনা দেবীকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই বাঁচা যাবে ওই রোগ থেকে
বক্সার:

ভয় থেকেই কি ভক্তি আসে? বিহারের (Bihar) একটি ঘটনা থেকে তো এমন প্রশ্নই উঠছে সাধারণের মনে। সম্প্রতি নীতীশ রাজত্বে এক আজব ঘটনার সাক্ষী থাকতে হলো। ভারত তথা গোটা বিশ্বই যখন করোনা ভাইরাসের (Coronavirus) ত্রাসে জবুথবু, ঠিক তখন ওই মারণ ভাইরাসকে 'মা' বলে, 'দেবী' বলে পুজো করা হল বিহারের বক্সারে (Buxar)। করোনা রোগটি যাতে তাঁদের প্রিয়জনের শরীরে জাঁকিয়ে না বসে, সেই প্রার্থনাতেই 'করোনা মা' (Corona Mai) এর পুজো করলেন বহু মহিলা। রীতিমতো ভক্তিশ্রদ্ধার সঙ্গে গঙ্গাস্নান সেরে ওই মহিলারা করোনা মায়ের উপাসনা করে ৯টি লাড্ডু, ৯টি ফুল, ৯টি লবঙ্গ, ৯টি ধূপকাঠি ধরিয়ে নদীর পাশে গঙ্গামাটিতে পুঁতে দিলেন। তাঁদের ভক্তিভাব দেখে হতবাক হয়েছেন অনেকেই। যে করোনা ভাইরাস একের পর এক মানুষের প্রাণ নিচ্ছে, এবার তাঁর করুণা পেতেই রীতিমতো হাতজোড় করছেন মহিলারা, অন্ধবিশ্বাসের কী নমুনা!

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কত কম খরচে করোনা চিকিৎসা সম্ভব? জানতে চাইলো আদালত

কিন্তু হঠাৎ এভাবে করোনা মায়ের পুজোর উদ্যোগ কেনই বা নিতে গেলেন মহিলারা? খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ওই মহিলাদের মধ্যেই কুসুম দেবী নামে একজন সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখেছিলেন যে, ৯টি লাড্ডু, ৯টি ফুল সহ নানা উপাচার দিয়ে পুজো করলে নাকি প্রসন্ন হন করোনা নামক রোগটিকে যিনি পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন সেই দেবী। কোনওভাবে যদি করোনা মাকে প্রসন্ন করা যায় তবে তাঁর ক্রোধের হাত থেকে রক্ষা পাবে জনজীবন। সেই কারণেই সব মহিলারা সমবেত হয়ে ওই পুজো করতে শুরু করেছেন।

কেন এমন একটি কুসংস্কারকে আঁকড়ে ধরতে চাইছেন তাঁরা এই প্রশ্ন করা হলে অনেকটা যেন এই কথাই বলতে চাইলেন বিহারের ওই মহিলারাও, কী সে কথা? ওই যে, "বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর"।

এদিকে দেশে করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রতিদিনই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৯৮৫১ জন, আর মারা গেছেন ২৭৩ জন। সব মিলিয়ে সারা দেশে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত মোট ২,২৬,৭৭০ জন। করোনা ভাইরাস এদেশে প্রাণ কেড়েছে মোট ৬,৩৪৮ জনের।

করোনা সঙ্কটের কারণে চলতি বছরে কোনও নতুন প্রকল্প নয়, জানিয়ে দিল সরকার

তবে দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও তার পাশাপাশি বাড়ছে পুনরুদ্ধারের হারও। ১,০৯,৪৬২ জন মানুষ কোভিডের কবলে পড়েও চিকিৎসা সহায়তায় ওই রোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন। দেশে করোনা পুনরুদ্ধারের হার তাই ৪৮.২৭ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে। 

এদিকে এই সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই ধীরে ধীরে জীবনের মূল ছন্দে ফিরতে চায় ভারত। তাই করোনা সতর্কতায় এক নয়া নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্র। আগামী ৮ জুন থেকে দেশের প্রায় সমস্ত শপিংমল, রেস্তোঁরা, হোটেল এবং ধর্মীয় স্থানগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে সরকার, তবে সব জায়গায় মেনে চলতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা ওই কড়া নির্দেশাবলী।

সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া ওই নির্দেশিকাতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে ধর্মীয় স্থান ও মলগুলোতে সীমিত সংখ্যক মানুষকে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানগুলিতে কোনওভাবেই প্রতিমা বা দেবালয়কে স্পর্শ করা যাবে না। অফিসগুলিও খুলে যাচ্ছে ৮ জুন থেকে। সেখানেও করোনা সতর্কতায় মেনে চলতে হবে ওই কেন্দ্রীয় নির্দেশাবলী। তবে আপাতত কনটেইনমেন্ট জোনের কোনও বাসিন্দা কাজে যোগ দিতে পারবেন না।