This Article is From Jul 26, 2019

“পুরো দেশ দেখছে”, আজম খানের মন্তব্যে আক্রমণাত্মক স্মৃতি ইরানি

বৃহস্পতিবার লোকসভায় তিন তালাক বিল নিয়ে আলোচনার সময় সব সীমারেখা পার করেন তিনি।

ঘটনার নিন্দা করে স্মৃতি ইরানি বলেন, “এটা সমস্ত সাংসদদেরই অপমান, পুরুষ সাংসদেরও”।

হাইলাইটস

  • বিজেপি সাংসদ রমা দেবীকে করা আজম খানের মন্তব্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়
  • এটা একটা জঘন্য আচরণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানাচ্ছি: নির্মলা সীতারা
  • সমস্ত দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন অধ্যক্ষ
নয়াদিল্লি:

লোকসভায় তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিল নিয়ে বিতর্কের সময় বিতর্কিত মন্তব্য করেন সপা সাংসদ আজম খান (Azam Khan)। শুক্রবার সংসদে ব্যাপক আক্রমণ ও নিন্দার মুখে পড়লেন তিনি। লোকসভায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে বলেন, “একটি একটি জঘন্য কাজ, আমি আপনার কাছে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি”। সমাজবাদী পার্টি নেতা তথা  সাংসদ আজম খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন অধ্যক্ষ। সেই বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে আজম খানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য পরিচিত আজম খান (Azam Khan)। তবে বৃহস্পতিবার লোকসভায় তিন তালাক বিল নিয়ে আলোচনার সময় যেন সব সীমারেখা পার করে যান তিনি।

সংসদে অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা রমা দেবীর প্রতি অশোভন মন্তব্য আজম খানের

আজম খানের মন্তব্যে অসন্তুষ্ট অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা বিজেপি সাংসদ রমা দেবী বলেন তাঁর ‘চেয়ার'-কে উদ্দেশ করে মন্তব্য করতে।

সমাজবাদী সাংসদ তখন এমন এক বিষয়-বহির্ভূত মন্তব্য করেন, যেটাকে সকলেই যৌনগন্ধী ও আক্রমণাত্মক বলে মনে করেন। সঙ্গে সঙ্গে সরকার পক্ষের বেঞ্চ থেকে ‘শেম' ধ্বনি শোনা যায়। পরে মন্তব্যটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

তাক্ষণিক “তিন তালাক” রোধে বিল পাশ লোকসভায়, ওয়াকআউট বিরোধীদের

৭০ বছরের সাংসদ পরে নিজের মন্তব্যকে নিরীহ প্রমাণ করতে চেয়েও ব্যর্থ হন।

বিস্ময়কর ভাবে সমাজবাদী পার্টির মুখ্য অখিলেশ যাদব আজমকে সমর্থন করেন। এমনকী আজম ওই কুৎসিত মন্তব্য করার সময় অখিলেশের ঠোঁটে হাসির রেখা ফুটে উঠতে দেখা যায়।

এদিন সকালে কয়েকজন সাংসদ, যাঁদের মধ্যে চারজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও রয়েছেন, তাঁরা দাবি রেন, এমন মন্তব্যের জন্য শাস্তি পেতেই হবে আজমকে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘‘পুরো দেশ দেখছে কী হয়েছে... এটা পুরুষসহ সমস্ত সাংসদদের কাছে কলঙ্কজনক। এটা দেখেও আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। আমাদের এক স্বরে বলতে হবে এটা গ্রহণীয় নয়।''

তিনি আজম খানের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘‘এটা একটা বাড়ি নয় যে, মানুষ আসবে এবং কোনও মহিলার চোখের দিকে তাকাবে।''

তাঁর সতীর্থ, আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, হয় আজম খানকে ক্ষমা চাইতে হবে অথবা তাঁকে কক্ষ থেকে সাসপেন্ড করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘ঘটনাটি যন্ত্রণাদায়ক। রমা দেবী সেটিকে পরম মর্যাদার সঙ্গে সামলেছেন। আমাদের আবেদন, আপস না করে কঠোরতম শাস্তি।''

বিরোধী বেঞ্চ থেকেও এ ব্যাপারে সহমত হতে দেখা যায়। তাঁদের অন্যতম তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রথমবার সাংসদ হওয়া অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘‘আমি কনিষ্ঠতম সাংসদ এবং এটা একটা শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। কিন্তু কাল যা হল তা আমার শেখার অংশ হতে পারে না। কোনও রাজনৈতিক পার্থক্য ছাড়াই, কেউ সংসদে দাঁড়িয়ে একজন মহিলাকে বলতে পারেন না, ‘আমার চোখের দিকে তাকান এবং কথা বলুন।' স্পিকার স্যার, সমস্ত মহিলারা এখানে আপনার কাছ থেকে কোন বড় কিছ আশা করছে।''

ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি বলেন, আজম খানের এমন ধরনের মন্তব্যে মেয়েদের নিজেদের ছোটবলে মনে হয়।

.