অযোধ্যা মামলায় কেন মুসলিমদের আলাদা করে জমি দেওয়া হল? রায়ে কী বলা হয়েছে?

Ayodhya Verdict: দশক পুরনো আইনি বিবাদ মেটাতেই অযোধ্যায় আলাদা করে মসজিদ নির্মাণের জন্যে মুসলিমদের জমি দেওয়ার বিধান দেওয়া হয়

অযোধ্যা মামলায় কেন মুসলিমদের আলাদা করে জমি দেওয়া হল? রায়ে কী বলা হয়েছে?

Ayodhya Verdict: দেশ জুড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যেও আবেদন করা হয়েছে

নয়া দিল্লি:

শনিবার দশক পুরনো আইনি বিবাদ মেটাতে অযোধ্যা জমি মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। অযোধ্যায় (Ayodhya) বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে তৈরি হবে মন্দির, এবং তা তৈরির জন্য তিনমাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে ট্রাস্টি তৈরি করতে হবে, রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এও জানিয়ে (Ayodhya Verdict) দেয় যে, অযোধ্যার বিকল্প ৫ একর জমি মুসলিমদের মসজিদ নির্মাণের জন্য দিতে হবে। বিকল্প জমির অবস্থান ঠিক করবে কেন্দ্র অথবা রাজ্য সরকার, বলে শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। এদিনের রায়ে আরও বলা হয়েছে,“অযোধ্যার একটি দীর্ঘস্থায়ী, ভাল জায়গায়” সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে ওই ৫ একর জমি দিতে হবে। অযোধ্যা জমি মামলার সমাধানে টানা ৪০ দিন ধরে দৈনিক শুনানি চলার পর ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার সময় সর্বোচ্চ আদালত বলে, "এই আদালতকে এমন একটি বিরোধ সমাধানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল যার সূত্রপাত হয়েছিল বহু আগে, আর তখন থেকেই এই বিতর্কিত স্থানটি নিয়ে কয়েক দশক ধরে চাপানউতোর চলে আসছে" ।

মসজিদের জন্য অযোধ্যার “ভাল” জায়গায় ৫ একর জমি, রায় সুপ্রিম কোর্টের

এখানে দেওয়া হল সেই বিষয়গুলি যার উপর জোর দিয়েছিলেন বিচারপতিরা:

কেন বিতর্কিত জমি মন্দিরের জন্য হস্তান্তর করা হচ্ছে

"এই জমির উপর মালিকানার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিমদের দেওয়া প্রমাণের চেয়ে আরও ভাল ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে ছিল হিন্দুদের দেওয়া প্রমাণ"।


কেন মুসলমানদের বিকল্প জায়গার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?

"... ১৯৪৯ সালের ২২/২৩ ডিসেম্বর মুসলমানদের মসজিদের অবমাননার কারণে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, পরে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। যদি এক্ষেত্রে মুসলিমদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের পক্ষে তা অনুচিত হবে"।

কেন জমি ভাগ করা সম্ভব নয় এবং তা স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত করবে না

এলাহাবাদ হাইকোর্ট যেভাবে তিনটি ভাগে ওই জমি ভাগ করেছিল তা অনৈতিক ছিল।

এমনকি জনসাধারণের মধ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যে সমাধান করেছিল হাইকোর্টে তা বাস্তবে সম্ভব নয়। ওইভাবে জমি ভাগ করলে কখনোই তা সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না বা স্থায়ীভাবে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপারগ হবে।

রায় "অন্যায্য", পুর্নবিবেচনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব, বললেন মুসলিম সংগঠনের আইনজীবী


বাবরি মসজিদ ধ্বংস করাও একটি আইন লঙ্ঘনই ছিল

ওইভাবে মসজিদ ধ্বংস করাটাও অনুচিত ছিল বলে মনে করছে শীর্ষ আদালত। সর্বসাধারণের ওই জায়গায় ওই ভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া হয়েছিল, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। ৪৫০ বছর আগে নির্মিত মসজিদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল মুসলিম সম্প্রদায়কে।

More News