This Article is From Sep 01, 2019

Assam Citizens' List: "ভারত কি ধর্মশালা নাকি!": শরণার্থী প্রসঙ্গে বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন যে, “হিন্দু অভিবাসীদের একটি সামান্য অংশ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাদের নিজস্ব শরণার্থী শংসাপত্র ছিল, তবে তা বিবেচনায় গৃহীত হয়নি।"

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানাচ্ছেন, বিজেপি NRC তালিকা সংশোধন করবে

নয়াদিল্লি:

শনিবার অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Assam Minister Himanta Biswa Sarma) ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনের (National Register of Citizens) তালিকাটিকে ত্রুটিযুক্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন যে ক্ষমতাসীন বিজেপি আবারও রাজ্যের কয়েকটি অংশে পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করবে। “বিজেপি এনআরসিকে (NRC list) সমর্থন করে, তবে আমাদের মনে হয়েছে যে কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা রয়েছে যা আগে দেখা উচিৎ ছিল। কেন্দ্র এবং অসম সরকার সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ করেছে যে অসমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ২০ শতাংশ  এবং অন্য অংশে দশ শতাংশ পুনর্বিবেচনার অনুমতি দেওয়ার হোক,” এনডিটিভিকে বলেন এই বিজেপি নেতা। শনিবার সকালে প্রকাশিত এনআরসি তালিকা (NRC list) থেকে ১৯ লক্ষেরও বেশি মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি পদক্ষেপ এড়াতে তাদের এখন নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। বহু বছর ধরে চলা এই নাগরিকপঞ্জীর লক্ষ্য ছিল কয়েক দশক ধরে রাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন যে হিন্দু অভিবাসীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিৎ হয়নি। “হিন্দু অভিবাসীদের একটি সামান্য অংশ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাদের নিজস্ব শরণার্থী শংসাপত্র ছিল, তবে তা বিবেচনায় গৃহীত হয়নি। যাইহোক, বিজেপি পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” 

Assam NRC List: প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের নাগরিকপঞ্জী তৈরির নেপথ্যে কোন আইএএস আধিকারিক?

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলি থেকে অমুসলিম অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিক হওয়ার পথ আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে গৃহীত এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে সমাজ কর্মীদের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলিও ‘সাম্প্রদায়িক' এবং ‘বৈষম্যমূলক' হিসাবেই অভিহিত করেছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অবশ্য এই মত মেনে নেননি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিপীড়িত হওয়ার দাবি করে তিনি বলেছিলেন: “আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে ধর্মের কারণে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হিন্দু অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া সাম্প্রদায়িক, তবে আমি জানি না যে সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা কী?” তাহলে কি সব ধর্ম নির্বিশেষে সকল শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া উচিৎ? এই প্রশ্নে অবশ্য অসমের মন্ত্রী বলছেন, “ভারত কোনও ধর্মশালা নয়, তাই না?”

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন যে, বিজেপি আবারও সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবে কারণ, ২৭ শতাংশ পুনর্বিবেচনা ইতিমধ্যেই ‘ভুল' তথ্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রথম আপিল প্রত্যাখ্যান করে আদালত। তিনি বলেন, “অসম ও ভারতের স্বার্থ সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রতিটি ত্রুটিযুক্ত এনআরসি প্রত্যাখ্যান করব। লড়াই চলবে।” নির্বাচনী সুবিধা চেয়েই যে বিজেপি এনআরসি তালিকা প্রত্যাখ্যান করেছে এমন অভিযোগও উঠেছে। “আমরা ভোট-ব্যাঙ্কের রাজনীতি করছি না। ভোট ইতিমধ্যেই নরেন্দ্র মোদির পক্ষে রয়েছে, এবং এর জন্য আমাদের এমন রাজনীতি খেলতে হবে না। এনআরসি হোক বা না হোক, জনগণ নরেন্দ্র মোদিকেই ভোট দেবে” বলেন আত্মবিশ্বাসী হিমন্ত।

 তালিকার বাইরের মানুষদের দায়িত্ব নিতে হবে কেন্দ্রকেই, দাবি তৃণমূলের

এদিকে, বিজেপি জানিয়েছে যে এনআরসি তালিকার বাইরে থাকা প্রকৃত নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য তারা পদক্ষেপ করবে। বিজেপির কথায়, “যদি বিদেশি ট্রাইব্যুনালরা সত্যিকারের ভারতীয়দের বিরুদ্ধে প্রতিকূল আদেশ দেয়, তবে বাদ পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা করার জন্য আমরা একটি আইন আনব।"